ড. মুহা. রফিকুল ইসলাম

সমাজসেবায় রাসুল (সাঃ) এর আশ্চার্যজনক কৌশল

রাসূল স. এর আগমনের সমসমাময়িক সময়ে সমগ্র পৃথিবীর অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় ছিলো। সে প্রেক্ষাপটে মানবতার নাভিশ্বাস অনুধাবন করার মত মানুষ এ দুনিয়ায় অবশিষ্ট ছিল না। মানবতা ভুলুণ্ঠিত করে মানুষ নামের পশুরা অট্রহাসিতে ফেটে পড়তো। মানব সভ্যতা সে সময় কতটা নিচে নেমে গিয়েছিলো তার কোন পরিসংখ্যান সুস্পষ্ট করে বর্ণনা করা বেশ কষ্টসাধ্য। তবে সিরাত গ্রন্থ এবং আল-কুরআনের বিভিন্ন বর্ণনায় যা পাওয়া যায় তার সংক্ষিপ্ত একটি চিত্র উপস্থাপন করা হলো।

রাসূল স. এর জন্মের আগে এবং নবুয়াত লাভের পূর্ব পর্যন্ত সে সময়ের আরব সমাজের মাঝে যে সব মানবতা ও চরিত্র হননের প্রবণতা লক্ষ করা যেত তা হচ্ছে-

মদপান, জুয়াখেলা, চক্রবৃদ্ধিহারে সুদ গ্রহণ করা, গোত্রীয় যুদ্ধে লিপ্ত থাকা, নানা ধরনের কোন্দল ও দলাদলি করা, পণ্যদ্রব্যের মত দাস-দাসীদের হাট-বাজারে বিক্রয়, দাসদাসীদের উপপত্মী হিসেবে গ্রহণ, লুণ্ঠন, নরবলি, দেবমূর্তির সাথে পরামর্শ, আভিজাত্যের দম্ভ, আত্মম্ভরিতা, পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতা, পৌত্তলিকতা, ত্রিত্ববাদে বিশ্বাস স্থাপন, বিভিন্ন নক্ষত্ররাজীকে খোদা বলে পূজা করা, নানা ধরনের গাছকে সিজদা করা, সুদ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে সে ব্যক্তির স্ত্রী পুত্র, কন্যা সকলে সুদ দাতার অধীনে চলে যাওয়া- এ ধরনের অসংখ্য অন্যায় কাজ আরব সমাজে বিরাজমান ছিলো।

ওই সমাজের মধ্যে জুলুম, নির্যাতন এবং বর্বরতা এমনভাবে প্রসারিত হয়েছিলো যা জানলে সুস্থ ও বিবেকবান মানুষ বেদনায় বিমূঢ় হয়ে যাবে। তারা প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য শত্রুর হৃৎপিণ্ডকে চিবিয়ে খেয়ে ফেলতো, জীবন্ত প্রাণীদেরকে গাছের সাথে বেঁধে তীর মেরে হত্যা করতো, তারা গর্ভবতী মায়ের পেট চিরে আদিম উল্লাস প্রকাশ করতো, অনেক সময় মহিলারা শত্রুর নাক-কান-গলা কেটে নিজের গলার হার বানাতো, স্ত্রী লোকদের হাত-পা বেঁধে তাদের শরীরের ওপর দিয়ে দ্রুতগামী ঘোড়া চালিয়ে দিতো। তাদেরকে খণ্ড বিখণ্ড করা হতো।

আবরদের জীবন এতটাই অন্ধকারের মাঝে ছিল যে, সেখানে প্রতিক্ষণে মানবতা ধ্বংস করাই যেন শক্তিমানের একমাত্র কাজ হিসেবে পরিগণিত হতো। অসহায় মানুষকে নির্যাতন করে করে নিঃস্ব করা এবং হত্যা করা তাদের অন্যতম আনন্দের মাধ্যম ছিলো। তারা অসংখ্য নারীকে ভোগ করার পর তাঁদেরকে ইচ্ছামতো হত্যা করার মাধ্যমে তাদের বিনোদোনের খোরাক পূর্ণ করতো। ঐতিহাসিক এডওয়ার্ড গিবন (১৭৩৭-১৭৯৪ খ্রি.) আরব সমাজের এ অবস্থা সম্পর্কে বলেন-
“In this primitive and abject state, which will deserve the name of society, this human brute, without arts and laws, almost without sense and language, is properly distinguished from the rest of the animal creation.”

আদিম ও জঘন্য পরিস্থিতির মাঝে আইন-কানুন, ভাষা ও জ্ঞান বিবর্জিত সমাজ নামের অযোগ্য এই নররূপী পশুদিগকে অন্যান্য ইতর জীব হতে পৃথক করা যায় না।

রাসূল স. আরব সমাজের এ অবস্থা থেকে রক্ষা করা যায় এবং তাদের সেবা করা যায় জন্য বিভিন্ন উপায় খুঁজতে আরম্ভ করলেন। অতঃপর তাঁর বয়স যখন পনের হলো তখন কুরাইশ এবং হাওয়াযিন গোত্রের মাঝে হজের মৌসুমে যখন যুদ্ধের দামামা বেজে উঠলো। তিনি ব্যথিত হলেন এবং এ অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য তাঁর চাচা জুবায়ের এবং আরো কিছু যুবকের সাথে একত্রিত হয়ে ‘হালফ আল ফুদুল’ (হিলফুল ফুযুল) নামে একটি শান্তি সংঘ গঠন করলেন। এর মাধ্যমে মানব সেবার যে কাজ শুরু করলেন তা হলো-
ক. তারা যে কোন মূল্যে অত্র অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখবে।
খ. তারা যে কোন মূল্যে তাদের গোত্রসমূহের মাঝে শান্তি-শৃঙ্খলা স্থাপন করবে।
গ. দূর্বল ও নিঃস্বদের সবলের হাত থেকে রক্ষা করবে।
ঘ. জালিমকে তার জুলুম থেকে বাধা দেওয়া এবং মাজলুমকে সর্বোচ্চ সাহায্য করা।
ঙ. আগন্তুক বা বিদেশী ব্যক্তিদের জানমাল ও ধন সম্পদের পূর্ণ নিরাপত্তা প্রদান করা।

আমরা দেখতে পাই, নবী করিম (স.) নবুয়াত প্রাপ্তির আগেই সামাজিক স্থিতিশীলতা আনয়নের জন্য ‘হিলফুল ফুযুলে যোগ দিয়েছেন এবং কাজ করেছেন। তিনি ‘হাজরুল আসওয়াদ বা কালো পাথর যথাস্থানে স্থাপন সংক্রান্ত বিবাদ সহজে সমাধান করে অসাধারণ এক সমাজ সেবার নজির রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। অতঃপর নবুয়াত লাভের পর আরব সমাজের পূর্বে উল্লেখিত প্রত্যেকটি সামাজিক সমস্যার সমাধান এবং তৎকালীন সমাজকে পরিপূর্ণভাবে সবা প্রদানে তিনি সম্পূর্ণরূপে সফলকাম হয়েছিলেন।

রাসূল স. আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক প্রত্যেকটি সামাজিক সমস্যা সমাধানের জন্য যেভাবে সেবা করেছেন এবং তিনি তার জীবদ্দশায় আরব সমাজে যে সকল সামাজিক সমস্যার সমাপ্তি টানতে সক্ষম হয়েছিলেন তার কিছু বাস্তব চিত্র নিম্নে উপস্থাপন করা হলো-

১. মদ এবং মাদকদ্রব্যমুক্ত সমাজ গঠনঃ নবী করিম স. মানব সমাজের চরিত্র হননের অন্যতম মাধ্যম মদপান করাকে হারাম করেছেন। যেহেতু মাদক নেওয়া এবং মদপান করা আরব সমাজের এটা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছিলো সে জন্য কয়েক ধাপে তিনি এটা হারাম হওয়ার ঘোষণা প্রদান করেছেন। আল-আল-কুরআনে প্রথমতঃ মাদক সম্পর্কে যে নির্দেশনা এসেছে তা হচ্ছে-
يَسْأَلُوْنَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ قُلْ فِيْهِمَا إِثْمٌ كَبِيْرٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَإِثْمُهُمَا أَكْبَرُ مِنْ نَّفْعِهِمَا وَيَسْأَلُوْنَكَ مَاذَا يُنْفِقُوْنَ قُلِ الْعَفْوَ كَذَلِكَ يُبيِّنُ اللّهُ لَكُمُ الآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَتَفَكَّرُوْنَ [1]
তারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করছে যে, মদ ও জুয়ার ব্যাপারে নির্দেশ কী? বলে দিন, ওই দু’টির মধ্যে বিরাট ক্ষতিকর বিষয় রয়েছে। যদিও লোকদের জন্য তাতে কিছুটা উপকারতিাও আছে, কিন্তু তাদের উপকারতিার চেয়ে গোনাহ অনেক বেশি।

পরবর্তীতে মহান আল্লাহ মদ, মাদকদ্রব্য এবং জুয়া ও শয়তানি কর্মকা- চূড়ান্তভাবে নিষেধ করে দেন। তিনি বলেন:
[2] يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُون
হে ঈমানদারগণ !এ মদ, জুয়া, মূর্তি পূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শরসমূহ এ সমস্তই হচ্ছে ঘৃণ্য শয়তানী কার্যকালাপ ৷ এগুলো থেকে দূরে থাকো, আশা করা যায় তোমরা সফলতা লাভ করবে৷
নবী করিম স. আল্লাহর নির্দেশনা এবং এর ক্ষতিকর দিকসমূহ নানাভাবে বুঝিয়ে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান বর্ণনা করে এ পথ থেকে মানুষকে বিরত রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। এ সেবার মাধ্যমে একটি নেশাগ্রস্থ জাতি পূর্ণ উদ্যোমে কাজ করার শক্তি ফিরে পায়। কোন কোন বর্ণনায় আছে, মানুষ যখন নিষিদ্ধ শরাব ফেলে দিলো তা নহরে পরিণত হয়েছিলো।

২. সুদ নিষিদ্ধ করা : আরব সমাজের অন্যতম একটি সামাজিক ব্যাধি ছিলো সুদের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন। এটা এমন সমস্যা তৈরী করেছিলো যে, এর মাধ্যমে মানব সমাজের মানবীয় মূল্যবোধ একেবারে ধুলায় মিশে গিয়েছিলো। এ অবস্থা থেকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে নবী করিম স. আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা বিধানের আলোকে মানব সমাজকে সঠিকভাবে জ্ঞান প্রদানের মাধ্যমে সমাজকে সুদমুক্ত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন:
الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا ۗ وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا ۚ فَمَن جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِّن رَّبِّهِ فَانتَهَىٰ فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ ۖ وَمَنْ عَادَ فَأُولَٰئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ[3]

নবী করিম স. আল্লাহর নির্দেশনা এবং এর ক্ষতিকর দিক সমূহ নানাভাবে বুঝিয়ে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান বর্ণনা করে এ পথ থেকে মানুষকে বিরত রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। এ সেবার মাধ্যমে একটি নেশাগ্রস্থ জাতি পূর্ণ উদ্যোমে কাজ করার শক্তি ফিরে পায়। কোন কোন বর্ণনায় আছে, মানুষ যখন নিষিদ্ধ শরাব ফেলে দিলো তা নহরে পরিণত হয়েছিলো।

কিন্তু যারা সুদ খায় তাদের অবস্থা হয় ঠিক সেই লোকটির মতো যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল করে দিয়েছে৷ তাদের এই অবস্থায় উপনীত হবার কারণ হচ্ছে এই যে, তারা বলে, “ ব্যবসা তো সুদেরই মতো ৷” অথচ আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করে দিয়েছেন এবং সুদকে করেছেন হারাম ৷ কাজেই যে ব্যক্তির কাছে তার রবের পক্ষ থেকে এই নসীহত পৌছে যায় এবং ভবিষ্যতে সুদখোরী থেকে সে বিরত হয়, সে ক্ষেত্রে যা কিছু সে খেয়েছে তাতো খেয়ে ফেলেছেই এবং এ ব্যাপারটি আল্লাহর কাছে সোপর্দ হয়ে গেছে ৷ আর এই নির্দেশের পরও যে ব্যক্তি আবার এই কাজ করে , সে জাহান্নামের অধিবাসী ৷ সেখানে সে থাকবে চিরকাল|

মহান আল্লাহ আরো বলেছেন:
يَمْحَقُ اللَّهُ الرِّبَا وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِ ۗ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ أَثِيمٍ[4]
আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দানকে বর্ধিত ও বিকশিত করেন ৷ আর আল্লাহ অকৃতজ্ঞ দুষ্কৃতকারীকে পছন্দ করেন না ৷
নবি করিম স. মহান আল্লাহর এ সকল নির্দেশনার মাধ্যমে এবং বিদায় হজের সময় নিজের বংশীয় সুদ সংক্রান্ত সকল প্রকার লেনদেনকে ধ্বংস করার মাধ্যমে এ ব্যবস্থা বিনাশে চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এবং তাঁর এ অবদান ও সেবার মাধ্যমে মানব জাতি চিরদিনের জন্য মানুষের গোলামি থেকে পরিত্রাণ লাভ করে।

৩. নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা : ইসলাম একমাত্র ধর্ম যেখানে নারীকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদান করা হয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন সভ্যতায় এবং ধর্মে এদের অবস্থা সর্বোচ্চ শোচনীয় অবস্থায় ছিল। সেখান থেকে মহান আল্লাহ তাদেরকে রক্ষা করেছেন। এবং নবী করিম স. মহান আল্লাহর ইক্ত বিধানকে মানুষের ঘর পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন। তৎকালীন আরব সমাজে কন্যা শিশুর জন্মকে অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং অসম্মানের মনে করা হতো । সে অবস্থা থেকে মেয়েদের রক্ষা করার জন্য প্রথমেই তাদের জিজ্ঞাসা করা হলো কেন তাদের হত্যা করা হচ্ছে? এ অধিকার কে দিয়েছে? মহান আল্লাহ এ ব্যাপারে বলেন-
وَإِذَا الْمَوْءُودَةُ سُئِلَتْ- بِأَيِّ ذَنبٍ قُتِلَتْ [5]
যখন জীবিত পুঁতে ফেলা মেয়েকে জিজ্ঞেস করা হবে,কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছে?

আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করনে এবং দানকে বর্ধিত ও বিকশিত করেন৷ আর আল্লাহ অকৃতজ্ঞ দুষ্কৃতকারীকে পছন্দ করনে না ৷ নবী করিম স. মহান আল্লাহর এ সকল নির্দেশনার মাধ্যমে এবং বিদায় হজের সময় নিজের বংশীয় সুদ সংক্রান্ত সকল প্রকার লেনদেনকে ধ্বংস করার মাধ্যমে এ ব্যবস্থা বিনাশে চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এবং তাঁর এ অবদান ও সেবার মাধ্যমে মানব জাতি চিরদিনের জন্য মানুষের গোলামি থেকে পরিত্রাণ লাভ করে।

এ আয়াতের মাধ্যমে জানা যায়, যখন আরববাসীদের মাথায় নারীদের সুরক্ষার ব্যাপারে কোন চিন্তা আসেনি সে সময় নবী করিম স. সর্ব প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করলেন যা আজ থেকে চৌদ্দশত বছর আগে। কিন্ত বর্তমান সভ্যজাত বলে যাদের মনে হয়,তারা নারীদের জন্য কোন সেবামূলক কর্মকাণ্ড তো করেনি বরং তার সামান্য অধিকার দিয়েছে অনেক পরে। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত মন্তব্যটি তার বাস্তব প্রমাণ।

In French in 587CE, a meeting was held to study the status of women and to determine whether women could truly be considered a human being or not! Henry VIII in England forbade the reading of the bible by woman and throughout the middle age, the Catholic Church treated women as second class citizens. In the Universities of Cambridge and Oxford, male and female students were not given the same rights until 1964. Before 1850, women were not counted as citizen in England, and English women had no personal rights until 1882.[6]

নারী জাতিকে কন্যা, স্ত্রী এবং মাতা হিসেবে সকল ধরনের সামাজিক অর্থনৈতিক ধর্মীয় অধিকার প্রদান করার মাধ্যমে সমাজকে চরম অধঃপতন থেকে রক্ষা করেছেন। সবশেষে বিদায় হজের ভাষনে তিনি নারীদের অধিকার রক্ষার ব্যাপারে যে সুমহান ঘোষণা প্রদান করেছেন তা হচ্ছে-
“O people, your wives have certain rights over you and you have certain rights over them. Treat them well and be kind to them, for they are your parents and committed helpers.”

এছাড়াও তিনি নারীদের রক্ষা করার জন্য অনেক ধরেনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে গোটা নারী জাতিকে মুক্তির স্বাদ প্রদান করেছেন। তিনি বলেছেন, আমার পছন্দনীয় কয়েকটি বিষয়ের মাঝে নারী ও কন্যা অন্যতম, তিনি বলেছেন , যার তিনটি কন্যা থাকবে এবং যথাযথ দ্বীন শিক্ষা দেবে তার জন্য জান্নাত অনিবার্য। তিনি আরও বলেছেন, যে ঘরে কন্যাশিশু থাকে সে ঘরে রহমত বরকত অব্যাহত থাকে। এ সকল বাণীর মর্মার্থ হলো এর মাধ্যমে নারী জাতিকে সবার কাছে মর্যাদাবান করে তোলা। সত্যিকার মানব এবং সমাজ সেবার এটা এক অনন্য পদ্ধতি।

৪. দাস-দাসীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় সেবা : দাস-দাসীরা নিজেরাও নিজেদের মানুষ মনে করতো না। তারা সর্বদা হাত বদল হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতো। মনিবের নির্দেশনায় তাদের জীবন পরিচালিত হতো। নবী করিম স. তাদের এ অবস্থা দেখে ব্যথিত হতেন। তিনি এর বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করলেন। নবী করিম স. মহান আল্লাহর নির্দেশে ঘোষণা করলেন :
وَلَا تُكْرِهُوا فَتَيَاتِكُمْ عَلَى الْبِغَاءِ إِنْ أَرَدْنَ تَحَصُّنًا لِّتَبْتَغُوا عَرَضَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ۚ وَمَن يُكْرِههُّنَّ فَإِنَّ اللَّهَ مِن بَعْدِ إِكْرَاهِهِنَّ غَفُورٌ رَّحِيمٌ[7]
আর তোমাদের বাঁদীরা যখন নিজেরাই সতী সাধ্বী থাকতে চায় তখন দুনিয়াবী স্বার্থলাভের উদ্দেশ্যে তাদেরকে দেহ বিক্রয়ে বাধ্য করো না ৷ আর যে তাদেরকে বাধ্য করে, তবে এ জোর-জবরদস্তির পর আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমাশীল ও করুণাময় ৷

মানুষের ওপর মানুষের প্রভূত্ব চলতে পারে না এ যেন তৎকালের মানুষেরা প্রথম শ্রবণ করলো। সবশেষে মহানবী স. এ নিন্দনীয় ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে সকলে মহান আল্লার সৃষ্ট মানুষ, তাদের সবার মর্যাদা রয়েছে এ বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। দাস-দাসীদের মুক্তির জন্য প্রকৃত সেবা একমাত্র তিনিই করেছেন।
এর প্রমাণ হলো-
ক. তিনি নিজে দাস মুক্ত করেছেন
খ. নিজে না পারলে কোন কোন সাহাবি এবং ব্যক্তিকে অনুরোধ করেছেন।
গ. তিনি হাবসি দাস হযরত বিলাল বিন রাবাহ রা. কে ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন করেছেন
ঘ. সবশেষে বিদায় হজের ভাষণে অধীনস্ত মানুষের প্রতি সার্বিকভাবে সুনজর দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন।

প্রাগুক্ত বিষয়গুলো ছাড়াও এতিমের অধিকার রক্ষণাবেক্ষণ, মানুষকে শিরক থেকে পবিত্র করা, বিধবাদের অধিকার রক্ষা করাসহ মানব সমাজের আরো যত ধরনের সমস্যা আছে তার সমাধানের সর্বোত্তম পদ্ধতি তিনি প্রদর্শন করেছেন। এছাড়া তিনি প্রত্যেকের নিকটে যেয়ে বাস্তবে দেখিয়েছেন কীভাবে সমাজকে সেবা করে তা পরিবর্তন করতে হয়। সর্বোপরি এ সকল সেবা ধর্মী কাজের থিওরি বুক হিসেবে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন ও আল-হাদিস রেখে গেছেন। তিনি বলেছেন:
إِنِّي قَدْ تَرَكْتُ فِيكُمْ شَيْئَيْنِ لَنْ تَضِلُّوا بَعْدَهُمَا : كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّتِي[8]
আমি তোমাদের মাঝে দু‘টি জিনিস রেখে যাচ্ছি, (যদি তা যথাযথ অনুসরণ করা হয়) এর পর কখনো তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। সে দুটি বিষয় হলো ‘আল্লাহর কিতাব আল-কুরআন এবং আমার সুন্নাত।

মানব সমাজের নানাবিধ সমস্যার যেমন শেষ নেই, তেমনি এর সমাধানও রয়েছে। সে সমাধান কোথায় খুঁজে ফিরছি সেটাই বড় কথা। হযরত মুহাম্মদ স. যে স্থান থেকে থিওরি গ্রহণ করেছেন এবং যে পদ্ধতি অবলম্বন করে বাস্তবায়ন করেছেন তা যদি এখনো সত্যিকারভাবে করা যায়,তাহলে অবশ্যই সামাজিক সকল সমস্যা নিঃসন্দেহে দূর হয়ে যাবে। মানবজাতি প্রকৃত অর্থে রাসূল স. এর সেবা ও ভালোবাসা পেতে সক্ষম হবে।


সহকারী অধ্যাপক, আরবী বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
Email: [email protected]

 

সংশ্লিষ্ট