মঙ্গলবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

এ আকাশ মেঘে ঢাকা রবেনা

প্রথম পর্ব:
আজ থেকে ৪১ বছর আগে ১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে যাত্রা শুরু করে আমাদের প্রাণপ্রিয় কাফেলা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। অনেক বাধা-বিপত্তি,অনাকাঙ্খিত পরিবেশ পরিস্থিতি, অপ্রচার অপশক্তির নৃশংসতা ও পাহাড়সম সমস্যা পেরিয়ে ৪১ বছরের আঙ্গিনায় এসে দাঁড়িয়েছে এই প্রিয় কাফেলা। এ প্রিয় কাফেলার একজন নগণ্য কর্মী হতে পেরে আমি মহান মা’বুদের দরবারে অগণিত শুকরিয়া আদায় করছি আলহামদুলিল্লাহ। সোনালী অধ্যায়ের ৪১তম সিড়িতে দাড়িয়ে আমরা আজ গৌরবান্মিত, মহিমান্মিত, ফুলকিত ও আনন্দিত। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে আজ অবদি এ বিশাল মহিরুহে সমবেত সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

একটি নতুন সূর্যদয়ের আবির্ভাব
গোটা সমাজ যখন জাহিলিয়াতে আক্রান্ত। অর্থনৈতিক শোষণ, রাজনৈতিক নিপীড়ন, সাংস্কৃতিক গোলামীর অক্টোপাসে মানবতা আজ নিষ্পেষিত। সন্ত্রাস, বেকারত্ব, অনৈতিকতা, এইডস, মাদক যখন যুবসমাজের বেড়ে উঠার বাহন। দূর্নীতি, অপরাজনীতি, অপকর্ম, অবিশ্বাস আর নাস্তিকতা যখন আধুনিকতার স্টাইল। শ্বাসত বিধান আল ইসলাম যখন সেকেলে দাঁড়ি, টুপি, হিজাব যখন লাঞ্চনা অপমান আর অপদস্ততার চিহ্ন। তেমনি এক প্রেক্ষাপটে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সৎ, দক্ষ ও দেশ প্রেমিক নাগরিক তৈরির অঙ্গীকার নিয়ে একটি স্বতন্ত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাত্রশিবির শুধুই একটি সংগঠন নয়। একটি আদর্শিক আন্দোলন। মেধাবী ছাত্রদের সাহসী ঠিকানার নাম। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের রক্ষাকবচ। অন্যায়, অসত্য ও জীর্ণতার বিরুদ্ধে এক প্রচন্ড বিদ্রোহ। মেধা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে সমৃদ্ধ দেশ গড়ার অঙ্গীকার। একটি ছাত্র সংগঠন হয়েও ৩৬ বছরে ছাত্রশিবির দেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি, সামাজিক ও শিক্ষাব্যবস্থাসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বহুবিধ ও গুরুত্ব¡পূর্ণ বিষয়ে সাহসী ও উজ্জ্বল ভূমিকা পালনের মধ্য দিয়ে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে এখন বিশ্বব্যাপি একটি উচ্চারিত নাম। এই কাফেলার নেতা-কর্মীরা উজ্জল নক্ষত্র হয়ে আলোর প্রদীপ নিয়ে আজ ছড়িয়ে পড়েছে সারা পৃথিবীব্যাপি।

একজন শিক্ষার্থীর মেধা, মনন ও প্রতিভা বিকাশের যাবতীয় উপকরণ এখানে উপস্থিত। নৈতিক জীব হিসেবে পাশবিক সত্তার দমন ও নৈতিক সত্তার লালনেই একজন সৎ ও চরিত্রবান মানুষ তৈরি করতে পারে, এই চেতনাই এখানে মুলনীতি। তাই মেধা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে গঠিত একটি সিলেবাস পদ্ধতির মাধ্যমেই ইসলামী ছাত্রশিবির শিক্ষার্থীর মানবিক ও নৈতিক মনোন্নয়ন ও মূল্যবোধের বিকাশের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পড়ার মূল লক্ষ্য নৈতিক চেতনাসম্পন্ন মানুষ তৈরি করা। পৃথিবীর ইতিহাসে ইসলামই সর্বপ্রথম “ইকরা” শব্দের মাধ্যমে এই মহান ঘোষনাটি দিয়েছে। তাই প্লেটো, এ্যারিস্টটল এবং বস্তুবাদী শিক্ষার অন্যতম দার্শনিক স্ট্যালিন হলও সৎ ও নিষ্ঠাবান নাগরিক তৈরীতে নৈতিকতার প্রয়োজনীয়তাকে এড়িয়ে যেতে পারেনি। তিনি বলেছেন- “If you teach your children the three "R" (Reading, Writing and Arithmetic) And leave the fourth "R" (Religion), you will get fifth "R" (Rascality).

তাছাড়া নতুন প্রজন্ম চরিত্রহীনতা, হীনম্মন্যতা, সন্ত্রাস আর সর্বনাশা নেশার নীল মৃৃত্যুর ভয়ঙ্কর শিকারে পরিণত হচ্ছে। এ শ্রেণীর স্বার্থান্বেষী মহলের হাত থেকে তরুন প্রজন্মকে রক্ষা করার জন্য একজন অভিবাবক ও সৎ বন্ধুর ভুমিকা পালন করছে ইসলামী ছাত্রশিবির। এ আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের সততা আজ পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত। সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনে জবাবদিহির চেতনার লালন ও দূর্নীতিমুক্ত ব্যক্তিরাই ছাত্রশিবিরের কারখানায় তৈরি মানুষ হিসেবে আজ সর্বত্র পরিচিত। ছাত্রশিবিরে সমাজকল্যাণমূলক ও ছাত্রকল্যাণমুলক কর্মকান্ড সমাজের সব শ্রেণী পেশার মানুষদেরকে আকৃষ্ট করছে। তাছাড়া আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে আদর্শের প্রচার, প্রসার, নিজস্ব মতামতের প্রতিফলন ও অপপ্রচার অপনোদনের লক্ষ্যে স্যোসাল মিডিয়াতে ছাত্রশিবিরের পদচারণা ও প্রসংশীয়। ছাত্রশিবির কুরআন-সুন্নাহ ও যুগে যুগে ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে সামনে রেখে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, যুগের সামগ্রিক চাহিদা, প্রেক্ষাপট ও দেশের সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয়তাকে সামনে রেখে গৃহীত হয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের পাঁচ দফা কর্মসূচী ও কর্মপদ্ধতি।


ছাত্রসমাজ কেন রাজপথে?

একটি সচেতন ও দায়িত্বশীল ছাত্রসংগঠন হিসেবে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মানুষের মৌলিক অধিকারের সংরক্ষণে ছাত্রসমাজের দায়িত্বও কম নয়। জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়, মূল্যবোধ ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় গঠনমূলক এবং গণতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলন চালিয়ে আসছে ইসলামী ছাত্রশিবির। জাতীয় প্রয়োজনে ছাত্রশিবিরের ঐতিহাসিক ভূমিকা বরাবরই প্রসংশনীয়। ৯০’এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, কেয়ারটেকার সরকারের দাবিতে আন্দোলন, অধ্যাপক গোলাম আযমের নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধারের আন্দোলন, ’৯৬ থেকে ২০০১ আওয়ামী দুঃশাসনবিরোধী আন্দোলন ও দেশের প্রতিটি নির্বাচনকে সফল করে তোলার ক্ষেত্রে শিবির অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। আওয়ামী দুঃশাসন অবসানে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য গঠন করে ছাত্রশিবির গতিশীল ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। ২৮ অক্টোবর’০৬ রাজপথে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঐতিহাসিক ভূমিকা তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বর্তমান সময়ে আওয়ামী দুঃশাসনের হাত থেকে জাতিকে মুক্ত করার জন্য জীবন বাজী রেখে ভূমিকা পালন করছে ইসলামী ছাত্রশিবির। ইসলামী ছাত্রশিবির এখন অন্যায়-অবিচার, জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে এক প্রচন্ড বিদ্রোহ। রাজপথে এই কাফেলার ঐতিহাসিক সাহসী ভূমিকা জনগণের হৃদয়ে ভালোবাসার সেতুবন্ধন করতে সক্ষম হয়েছে। এই আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা জীবন দিতে জানে কিন্তু অন্যায়ের সামনে মাথা নত করতে জানেনা। এটি এখন প্রতিষ্ঠিত সত্য।

“আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি ৪০ বছর আগে ১৯৬১ সালে তার অভিষেক ভাষণে দেশবাসীর উদ্দেশে যা বলেছিলেন তার অংশ “not what your country can do for you, ask what you can do for your country” অর্থাৎ তোমার জন্য তোমার দেশ কি করবে তা জানতে চেয়োনা বরং তোমার দেশের জন্য তুমি কি করবে সেটাই বলো।” তাই ছাত্রশিবির সকল প্রকার সন্ত্রাস, অপপ্রচার, হামল-মামলা, জুলুম-নির্যাতনকে উপেক্ষা করে সেই দায়িত্বানূভুতি থেকেই রাজপথে প্রথম কাঁতারে এসে দাঁড়িয়েছে।

আওয়ামী দুঃশাসনের কবলে বাংলাদেশ
স্বাধীনতা অর্জনের ৪৬ বছরের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসেব কষতে আমরা হতবাক, বিস্মিত ও আবেগাপ্লুত। আমরা স্বাধীন একটি ভূ-খন্ড পেয়েছি সত্য, কিন্তু পায়নি তার আয়তন। স্বাধীনতা পেয়েছি কিন্তু পায়নি কথা বলার অধিকার। আমরা পায়নি জান মাল, ইজ্জত, আব্রুর নিরাপত্তা। পাইনি পরাধীনতার বেড়াজাল থেকে মুক্তি। আমরা পায়নি স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের গ্যারান্টি। পায়নি প্রকৃত গণতন্ত্র। তাই মনে হচ্ছে আমরা নিজ দেশে এখনো বন্দি। কাঁটা তাঁরের বেড়ায় ফেলানীদের লাশের করুণ চাহুনী আমাদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে, আমরা কি আসলে স্বাধীন? ভারত হাঙ্গরের মত এদেশে রাজনীতি, অর্থনীতি, সাংস্কৃতির উপর আধিপত্য বিস্তার করার মাধ্যমে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব। সুতরাং এ সকল অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে একটি সচেতন ছাত্রসংগঠন হিসেবে ভূমিকা পালনের বিকল্প আছে কি?

“দিন বদলের আর ডিজিটাল বাংলাদেশ” গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর তথাকথিত কারচুপির নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী মহাজোট সরকার। কিন্তু হাজারো প্রতিশ্রুতি ভুলে তারা খুব অল্প সময়ের মধ্যে জড়িয়ে পড়ে পদ্মা সেতু, হলমার্ক, ডেসটিনি, শেয়ারবাজার, কুইকরেন্টাল বিদ্যুত প্রকল্পের দূর্নীতিতে। দলীয় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, হত্যা, লুটপাট আর বিরোধীদল দমনে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে দমন-নিপীড়ন, গুম, খুন আর গণহত্যা আর মানবাধিকার লংঘনে সরকার দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখোমুখি।

মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রলীগের নখরে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ছাত্রসমাজ ও আমাদের প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো, তা আজ অবদি অব্যাহত। ছাত্রলীগের হিংস্রতা, জঘন্যতা, পৈশাচিক, ভয়ংকর দানবীয় চরিত্র কারোই অজানা নয়। হত্যা, লুটপাট, জ্বালাও-পোড়াও, চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী, ছিনতাই, সিট দখল, হল দখল ও নারী নির্যাতন, শিক্ষক লাঞ্চনা, অস্ত্রবাজীর আরেক নাম ছাত্রলীগের রাজনীতি। ছাত্রলীগ আমাদের ঐতিহ্যমন্ডিত গৌরবউজ্জল ছাত্ররাজনীতিকে এক কঠিন পরীক্ষার কাঁঠগড়ায় এনে দাঁড় করিয়েছে দানব ছাত্রলীগ। আমাদের শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় বাহবা কুড়ানোর নামে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ‘ঢেলে সাজানো’র চিত্তাকর্ষক ঘোষণা আমাদের উপহার দিয়েছে দুর্নীতি, অথর্বতা, পরিকল্পনাহীনতা ও লক্ষ্যহীনতা আমাদের কীটদষ্ট শিক্ষাব্যবস্থা এবং বছরের পর বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নতুন ইতিহাস। পাইকারী হারে পাশের হার বৃদ্ধির নামে চলছে জাতীকে মেধাশূন্য করার গভীর চক্রান্ত। পাঠ্য বইয়ে ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে কোমলমতি ছাত্রদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস এখন জাতিকে হত্যার ফাঁিসর রশিতে পরিণত হয়েছে।

আওয়মী লীগ ক্ষমতায় এসেই সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস তুলে দিয়ে যোগ করেছে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ। এখান থেকেই শুরু হয় নাস্তিক্যতাবাদীর রাষ্ট্রীয় সূচনাপর্ব। গ্রহণ করে একের পর এক ইসলামবিরোধী কর্মকান্ড। আওয়ামীলীগ এদেশের তৌহিদী জনতার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে থাকে। আলেম-উলামাদের উপর জুলুম-নির্যাতন, মসজিদ, মাদ্রাসা দাঁড়ি-টুপি, বোরকা-হিজাব ওয়ালাদের অপমান করা হয়ে পড়ে নিত্যদিনের কর্মসূচী। তেল এবং পানি যেমনি মিশেনা, মনে হচ্ছে আওয়ামীলীগ আর ইসলামের সম্পর্কেও তার ব্যতিক্রম নয়। মানবাধিকার লংঘনের সাথে এই সরকারের বিশ্বব্যাপী নতুন খ্যাতি সংযোজন হলো, আল্লাহ, রাসুল (স:) ও ইসলামের অবমাননাকারী সরকার হিসেবে। ইসলামপন্থীদের নিধনকারী, হিংস, রক্তপিপাসু, গণহত্যাকারী হিসেবে। বিগত পাঁচ বছর জামায়াত-শিবিরের উপর দমন নিপিড়ন চালিয়েও তাদেও স্তদ্ধ করতে পারেনি। তাই সর্বশেষ জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামীলীগ। তাদের বিরুদ্ধে মৌলিক অভিযোগ জামায়াত আল্লাহকে সকল ক্ষমতার উৎস মনে করে, আস্থা ও বিশ্বাস রাখে কেবল আল্লাহর উপর। এই সরকারের এমপি, মন্ত্রী সকলেই করতে থাকে ইসলামের বিরুদ্ধে কটুক্তি।

২০০৭ সালে প্রধানমন্ত্রী তনয় জয় যুক্তরাষ্ট্রের এক ম্যাগাজিনে লিখেছিলেন, “বাংলাদেশে আশঙ্কাজনক হারে ৪০০ গুণ বোরকার ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। যা বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের কারণ।” এবার আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসেই শুরু করে বোরকা বিরোধী অভিযান। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্দানশীন ও ইসলামী ছাত্রীসংস্থার মেধাবী মেয়েদেরকে ক্লাশ এবং হলে থাকতে বাঁধা দেয়া হয়। বিভিন্ন জায়াগায় হিজাব পড়া পর্দানশীন নারীদেরকে পুলিশ হয়রানী করে গ্রেফতার করে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের নামে চালানো হয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। এ অমানবিকতার হাত থেকে রেহাই পায়নি অন্তসত্ত্বা নারী, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মহিলা, বিদেশী পর্যটক ও ৮২ বছরের মা-বোনেরাও।

আওয়ামীলীগের গোটা শাসনামলে প্রত্যেকটি ঘটনা সংঘঠিত হওয়ার পরপরই জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে মন্ত্রী এমপিদের বক্তব্য দেয়া একটি মুদ্রা দোষে পরিণত হয়েছে। পরবর্তীতে যে কয়টি ঘটনার মূল তদন্ত হয়েছে তার প্রত্যেকটিতে বিপরীত চিত্র ফুটে উঠেছে। এটি দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত যে আমাদের সংবাদপত্র এই মিথ্যাচারে জড়িয়ে পড়েছে। আজকাল পশ্চিমারা আমাদের মিডিয়া দিয়ে তাদের স্বার্থ হাসিল করছে। কিন্তু ছাত্রশিবির তাদের নিজস্ব মেধা, নৈতিকতা কল্যাণধর্মী ব্যতিক্রম কর্মকান্ডের মাধ্যমে সমাজের মানুষের মাঝে আশার আলো জ্বালাতে সক্ষম হয়েছে। গুলি আর শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে কি তাদের রোখা সম্ভব? আর শিবির দমানোর এই প্রয়োগে অংশ নিচ্ছে এক শ্রেণীর প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়া। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে পুলিশ-ছাত্রলীগ আওয়ামীলীগ, যুবলীগের এই সশস্ত্র লড়াই ছাত্রশিবির মোকাবেলা করছে লাঠি আর পাথর দিয়ে। আজ পর্যন্ত কোন মিডিয়াই ছাত্রশিবিরের ছেলেদের কোন অস্ত্রের ছবি দেখাতে পারেনি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছাত্রশিবিরের প্রতি সহানুভুতি তৈরী হয়েছে। অন্যদের প্রতি জাগিয়েছে ঘৃণা। আর যে মিডিয়া এমন অসৎ সংবাদ পরিবেশন করছে তার প্রতি হারাচ্ছে জনগনের আস্থা। কিন্তু জনগনের এই ভালোবাসা ও সহানুভুতি ধরে রাখতে অবশ্যই জ্বালাও-পোড়াও জনগনের প্রাণ এবং সম্পদহানি যেন না ঘটে সে বিষয়ে শিবিরকে সজাগ নজর রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে কোন দুষ্কৃতিকারী ভিতরে প্রবেশ করে যাতে পরিবেশ বিঘ্নিত করতে না পারে সেদিকেও। (চলবে)

-ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম

সংশ্লিষ্ট