হে তরুণ মুক্তি চাও কি? আল কুরআন তোমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

তোমাকে চলতে দেখছি। থেমে থেমে একটু একটু করে এগুচ্ছো আর এদিক সেদিক কী যেন খুঁজছো বলে মনে হচ্ছিল। অনেকক্ষণ ধরেই খেয়াল করছি। তরুণ এ বয়সে তোমার নানান দিকের ভাবনা তোমাকে বোধ হয় তাড়িত করছে। তোমার চলার ভঙ্গী দেখে তেমনটাই মনে হল। আমাকে কী তুমি বলতে পারো, তোমার কথাগুলো? আমি হয়ত তোমাকে কিছুটা হলেও সহযোগিতা করতে চেষ্টা করতে পারি। তুমি নির্ভয়ে বলতে পার। 

হুম, তোমাকে তো বিভিন্ন জন হাতছানি দেবেই। বিভিন্ন জন হাতছানি দেবে, বিভিন্ন জিনিস হাতছানি দেবে, বিভিন্ন বিষয় হাতছানি দেবে, বিভিন্ন পথ হাতছানি দেবে- সেটাই হবার কথা। কী বললে! কোনদিকে তুমি যাবে সেটা নিয়েই ভাবছো তো। ওকে ওকে। অসুবিধা নেই। দেখ, বিপরীত দুই দিক থেকে একই সাথে ডাক পেলে তুমি ধরে নিতেই পার, যেকোন একটা ঠিক। বিপরীত দুই ডাক একইসাথে ঠিক তো হবার নয়, তাইনা? তবে তোমাকে কিন্তু সঠিক আহবানটাই শুনে নিতে হবে, বুঝে নিতে হবে আর সাড়া দিতে হবে। ভুল ডাকে সাড়া দিলে, ক্ষতির মধ্যে পড়ে যাবে। আর সঠিক পথে পা বাড়ালে, নিশ্চিত তুমি ক্ষতি থেকে মুক্তি পাবে আর সঠিক কাজটিই করবে।

কোনটা সঠিক সেটা নিয়েই তোমার ভাবনা তো! এই ভাবনা তোমার মধ্যে থাকা, এবং জাগ্রত থাকাই তোমার জন্য কল্যানের সূচক। তুমি মন থেকে সঠিক দিকটা খুঁজে নিতে চাও; তোমার মধ্যে সত্যপ্রিয়তা আছে; যেটা নিসন্দেহে তোমার জন্য এক বিরাট নেয়ামত।

দেখ, আমরা সবাই এরকম হাতরে ফেরার কথা ছিল। সে আকাঙ্খার কথা ভেবেই আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে দিশা দিয়েছেন। অথৈ পাথারে ছেড়ে দেননি। স্রষ্টা হিসাবে সঠিক পথের দিশাও কেবল তিনিই আমাদেরকে দিতে পারেন। তাই তিনিই আমাদের জন্য সঠিক চলার পথ বলে দিয়েছেন। কিন্তু আল্লাহকে তো আমরা দেখতে পাইনা এবং তিনি আমাদের কথা শুনলেও আমরা তাঁর কথা শুনতে পারিনা। দুনিয়াতে সে এখতিয়ার তিনি আমাদেরকে দেননি। কিন্তু আমরা তাঁকে না দেখতে পেলে এবং তাঁর কথা না শুনতে পেলে তাঁর নিকট থেকে আমরা পথের দিশা কিভাবে পাব? আর পেলেও সেটা বুঝে নেয়ার সুযোগ আমরা কিভাবে পাব? নিশ্চয়ই সেদিক বিবেচনায় নিয়েই আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন সময়ে তিনি মানুষের মধ্যে থেকে বিভিন্ন ব্যাক্তিকে মনোনয়ন দিয়েছেন, যাদেরকে নবী বা রাসূল বলা হয়। নবী ও রাসূলদের কাছে আল্লাহ তায়ালা তাঁর ফেরেশতার মাধ্যমে দিক নির্দেশনা পাঠিয়েছেন। এমন কোন মানবগোষ্ঠী ছিল না যাদের কাছে এ দিক নির্দেশক আসেননি।

সেসব দিক নির্দেশনা যুগে যুগে যারাই মেনেছে, তারাই সঠিক পথের দিশা পেয়েছে। যুগে যুগে বিভিন্ন নবী রাসূলদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে আসমানী গ্রন্থ এসেছে। যার সংখ্যা ১০৪টি। যেগুলোর মধ্যে ১০০টি ছিল ছোট ছোট গ্রন্থ যেগুলোকে সহিফা বলা হত। আর চারটি প্রসিদ্ধ গ্রন্থ, যেগুলোকে আসমানী কিতাব বলা হয়- তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল ও কুরআন। আল্লাহ তায়ালা সর্বশেষ যাকে এ দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি হচ্ছেন মুহাম্মাদ সঃ। মক্কার কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণকারী মুহাম্মাদকেই (সঃ) আল্লাহ তায়ালা তাঁর শেষ নবী ও রাসূল হিসাবে মনোনিত করেছেন। সর্বশেষ্ঠ এ মানুষই তাঁর সময় থেকে শুরু করে পরবর্তী সব মানুষের জন্য পথ দেখানোর দায়িত্ব পেয়েছিলেন আল্লাহর পক্ষ থেকে। তিনি এ পথ দেখানোর জন্য পেয়েছিলেন আল-কুরআন। যে কুরআনকে আল্লাহ তায়ালা তাঁর ফেরেশতা জিব্রীল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে পাঠিয়েছেন দীর্ঘ ২৩টি বছর ধরে। মুহাম্মাদ (সঃ) সমাজের মধ্যে বসবাস করতে করতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রয়োজন বা দিক নির্দেশের প্রয়োজন অনুভব করেছেন আর সাধারণত ঠিক তখন তখনই দিশা দিতে কুরআনের আয়াত নাযিল হয়েছে। এ কুরআন আগে থেকেই আল্লাহ লিখে রেখেছিলেন। কিন্তু মানুষের বোঝার সুবিধার্তে পরিস্থিতির সাথে সাথে বিভিন্ন অংশ পাঠানোর ফলে মানুষের জন্য কুরআনের মর্মকথা বুঝাটা সহজ হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে নাযিলকৃত এ আয়াতগুলো আল্লাহর নির্দেশে পরে সিরিয়ালি সাজানো হয়েছে। পাওয়া গেছে সম্পূর্ণ আল-কুরআন। মানুষের গোটা জীবনের সকল দিকের সমাধান। আল্লাহ সর্বশেষ যে আয়াত নাযিল করেছেন, তাঁর মধ্য দিয়ে এ কুরআনকে মানুষের জীবন বিধান হিসাবে সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছেন তিনি-“আজকের দিনে আমি তোমাদের জন্য আমার পক্ষ থেকে জীবন বিধানকে সম্পূর্ণ করলাম, তোমাদের জন্য আমার নেয়ামতকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য জীবন চলার পদ্ধতি হিসাবে ইসলামকে মনোনয়ন দিলাম।”

এ কুরআনকে আল্লাহ তায়ালা মানুষের মানুষের জন্য সম্পূর্ণ জীবন ব্যবস্থা হিসাবে দিয়েছেন। এর মধ্যে মানুষের জীবনের অর্থ ও তাৎপর্য আছে, মানুষের জীবনের প্রতিটি দিকের সমাধান আছে, জীবনের প্রতিটি বাকে বাকে বিভিন্ন প্রয়োজনের সমাধান আছে, জীবনকে স্বার্থক ও সাফল্যমণ্ডিত করার উপায় বাতলে দেয়া আছে, সত্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে, সত্য মিথ্যার পার্থক্য তুলে ধরা আছে। তাই, তুমি যদি সঠিক পথটা পেতেই চাও, মনে রাখ আল-কুরআন। যখন যেটা প্রয়োজন, কুরআনকে জিজ্ঞাসা কর আর জেনে নাও তোমার চলার রাস্তা যে রাস্তায় চললে সাফল্যের মঞ্জিলে তুমি পৌঁছে যাবে। জীবন তোমার স্বার্থক হবে। চির সুখের জান্নাতে পৌঁছে যেতে পারবে তুমি।

সেজন্যই তো বলছি, কুরআন তোমায় হাতছানি দিয়ে ডাকছে, মমত্ব আর ভালোবাসা সহকারে। তোমার সাড়া দেবার পালা। এসো, এসো বন্ধু...

সংশ্লিষ্ট