সেক্রেটারি জেনারেলের বানীঃ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে প্রত্যয় দীপ্ত পদচারণার ৪১ বছর

মানব সভ্যতার বাঁকে বাঁকে ইতিহাসের কত পরিক্রমাই না অতিক্রান্ত হয়েছে। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের প্রয়োজনে যুগে যুগে উন্মেষ ঘটেছে নানান সভ্যতার। মানুষের জীবনকে সহজ করেছে প্রযুক্তি। সমাজ পরিচালনার জন্য জন্ম হয়েছে অসংখ্য মতবাদের। ওহি ভিত্তিক জীবন ব্যবস্থা ইসলামকে পাশ কাটিয়ে মানব রচিত বিভিন্ন মতবাদের বাস্তবায়নে শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে মানুষ হয়েছে অবহেলিত, অপমানিত, শোষিত, বঞ্চিত, নির্যাতিত ও নিষ্পেষিত। অবহেলিত জনপদে বঞ্চিত মানুষের কষ্ট ইতিহাসের এক নির্মম অধ্যায়। আবার নিপীড়িত মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টাও এখানে বিদ্যমান। ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসও এর ব্যতিক্রম কিছু নয়।

মুমিনের কোনো দিন পরাজয় নেই

ইসলামী সঙ্গীতের প্রতি আমার প্রচন্ড আগ্রহ বরাবরই ছিল। গান শুনতে যেমন পছন্দ করতাম তেমনি কণ্ঠ ভালো না হলেও গাইতেও চেষ্টা করতাম। মাঝে মধ্যে গান লেখার চেষ্টাও যে একেবারেই ছিল না তা কিন্তু নয়। ইসলামী আন্দোলনের প্রতিটি বাঁকে প্রতিটি মুহূর্তে প্রেরণা দেয়ার মত অনেক গান রয়েছে। এসব গানের একেকটি লাইন প্রতিটি কর্মীকে দারুণভাবে উজ্জীবিত করে তোলে। কিছু কিছু গান মনের প্রশান্তি জোগায়। সম্প্রতি সময়ে মনে হচ্ছে কিছু জনশক্তির মাঝে একটু হতাশা বিরাজ করছে। যারা সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পেয়েছেন, তারা তো প্রশ্ন করেছেনই বরং যারা সেই সুযোগ পাননি, তারা ফেসবুকের ইনবক্সে সেই প্রশ্নগুলো ছুড়ে দিয়েছেন। তাতে প্রচ্ছন্ন হতাশা ফুটে উঠেছিল। ঘটনা পরিক্রমায় তখন থেকেই একটি গানের দু’টি লাইন আমার মুখে বারবার উঠে আসছিল, আর তা হল গীতিকার আ জ ম ওবায়েদুল্লাহ রচিত ও প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী অধ্যাপক সাইফুল্লাহ মানছুরের সুরে গাওয়া “জনতার সাগরে বলে যেতে চাই মুমিনের কোন দিন পরাজয় নাই” গানটি।

পরিচ্ছন্ন থাকতে চাই শুধু সদিচ্ছা

ইসলাম একটি পরিচ্ছন্ন পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র এবং তিনি পবিত্রতা পছন্দ করেন। পবিত্র মনের অধিকারী ব্যক্তি পাপ ও মন্দকাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারে। পবিত্রতা মানুষের মন ও দেহে পরিতৃপ্তি সৃষ্টি করে,ভালো ও কল্যাণকর কাজের প্রতি অনুপ্রাণিত করে। আর সুস্থ ও সুন্দর থাকার জন্য পরিচ্ছন্নতার বিকপ্ল নেই। একজন পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি সত্য ও সুন্দরের অধিকারী হয় ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে। Beauty is truth, truth beauty সত্যই সুন্দর,সুন্দরই সত্য। সত্য- সুন্দর বলেই মানুষ সত্যবাদিতাকে পছন্দ করে মিথ্যাকে অপসৃত করে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে পরিচ্ছন্নতার প্রশংসা করেছেন এবং সত্যবাদীদেরকে আল্লাহর রহমত এবং ক্ষমা লাভকারীদের অন্তর্ভুক্ত বলে ঘোষণা করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন الطُّهُورُ شَطْرُ الْإِيمَانِ অর্থাৎ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অর্ধেক। মুসলিম :২২৩

আল্লাহর প্রতিশ্রুতি পূরণে মুমিনের করণীয়

কুরআনের বাণী ‘আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তোমাদের মধ্য থেকে যারা ঈমান আনবে ও সৎকাজ করবে তাদেরকে তিনি ঠিক তেমনিভাবে খিলাফত দান করবেন যেমন তাদের পূর্বে অতিক্রান্ত লোকদেরকে দান করেছিলেন, তাদের জন্য তাদের দ্বীনকে মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করে দেবেন, যে দ্বীনটি আল্লাহ তাদের জন্য পছন্দ করেছেন, তাদের (বর্তমান) ভয়-ভীতির অবস্থাকে নিরাপত্তায় পরিবর্তিত করে দেবেন। তারা যেন শুধু আমার ইবাদত করে এবং আমার সাথে কাউকে শরিক না করে।’ (সূরা আন নূর ৫৫)

রাষ্ট্র বা সমাজ পরিচালনায় প্রয়োজন নৈতিকতাসম্পন্ন, দক্ষ ও পেশাগত নেতৃত্ব

নেতৃত্ব একটি শিল্প। সমাজের প্রত্যেকটি বিষয়ের সাথে নেতৃত্বের সম্পর্ক ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। দক্ষ এবং নৈতিক নেতৃত্ব ছাড়া সুন্দর সমাজ পরিচালনা দুরূহ ব্যাপার। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয়, বাণিজ্যিক এবং পেশাগতসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা সমভাবে সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নেতৃত্বের ইংরেজি প্রতিশব্দ Leadership (লিডারশিপ)। ইংরেজি ‘‘Lead’’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো ‘‘To guide, conduct, Direct and Precede’’ অর্থাৎ পথ প্রদর্শন করা, চালনা করা, নির্দেশ দেয়া ও অনুগামী হওয়া। নেতা হলেন যিনি একদল মানুষকে কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিচালনা করেন। তাই Leadershipবা নেতৃত্ব বলতে পথপ্রদর্শন বা পরিচালনার কলাকৌশলকে বোঝায়। Napoleon Bonaparte এর মতে “A leader is dealer of hope” দক্ষ নেতৃত্ব মানেই ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সর্বোপরি একটি দেশ বা জাতি হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতা অর্জন করা। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় আমরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অদক্ষ, আনাড়ি। নেতৃত্বের ব্যাপারে যে কথাটি আসে তা হলো, ‘মানুষ পরিচালনা করা’ (সড়ারহম ঢ়বড়ঢ়ষব)। এখন প্রশ্ন হলো, কিভাবে মানুষকে পরিচালনা করবেন? মানুষ পরিচালনার পাঁচটি উপায় আছে