বুধবার, ০৫ এপ্রিল ২০১৭

ভারতের সাথে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়ে ছাত্রশিবিরের বিবৃত

তারিখ- ০৩.০৪.১৭

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত ও সেক্রেটারী জেনারেল মোবারক হোসাইন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭ এপ্রিল ভারত সফর যাচ্ছেন। এই সফর নিয়ে সচেতন নাগরিকদের মধ্যে রয়েছে উদ্বেগ উৎকন্ঠা। বিশেষ করে এই সফরে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার খবর গণমাধ্যমে আসার পর এই উৎকন্ঠা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের মানুষের মতামতকে উপেক্ষা করে ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা বা সামরিক চুক্তি করার বিষয়ে আ.লীগ সরকারের অবস্থান নিয়ে দেশের মানুষ গভীরভাবে শঙ্কিত। এই চুক্তিটি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে গোলামীর জিঞ্জিরে আবদ্ধ করবে বলে মনে করে সচেতন মানুষ। জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার পরও চুক্তি নিয়ে রয়েছে অস্পষ্টতা। এতে বাংলাদেশের স্বার্থ কতটুকু হাসিল হবে, নাকি পুরোটাই জলাঞ্জলি দেয়া হবে তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, “চুক্তি অনুযায়ী ভারত সরকার বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বিষয়ে এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে হস্তক্ষেপ করবে না। এমন কোনো সামরিক তথ্য থাকবে না, যার খবর ভারত সরকারের অজানা থাকবে।”

প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব সামরিক কৌশল ও নীতি আছে। কিন্তু এই চুক্তিতে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা নীতির কিছুই নিজস্ব থাকবে না। সতুরাং এ চুক্তি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা নীতির সাথেও সাংঘর্ষিক। তাছাড়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়েও ভারত নানাভাবে হস্তক্ষেপ করছে। এখন এ চুক্তি হলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বিষয়ে ভারত কর্তৃক সবকিছু জানার ব্যাপারে আর কোনো বাধা থাকবে না। ফলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে প্রায় নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় চলে যাবে ভারত। এ দিকে ভারত সরকারের কোনো কোনো মুখপাত্র বলছেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ছাড়া আর কোনো দেশেরই সীমান্ত নেই, যে কারণে বাংলাদেশের বড় ধরনের কোনো সামরিক বাহিনীর প্রয়োজন নেই।” এই অনৈতিক দূরভিসন্ধি বাস্তবায়ন করতেই ভারত অতিআগ্রহী হয়ে সামরিক চুক্তি করতে চাইছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

ভারত বরাবরই বাংলাদেশ থেকে নিজের স্বার্থ হাসিল করেছে আর বাংলাদেশকে তার ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করেছে। দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে আ.লীগ সরকার ভারতকে বাংলাদেশের স্থলভূমি ও বন্দর অবাধে ব্যবহার করতে দিচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রকারান্তরে ট্রানজিট দেয়া হয়েছে। ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের অবাধে উপার্জন করার সুযোগ দিয়ে রাখা হয়েছে। অথচ আর্ন্তজাতিকভাবে স্বীকৃত আমাদের ন্যায্য অধিকার তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে রহস্যজনক ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ চুক্তির ব্যাপারে বলেছেন, এটা না হলে কিছু যায় আসে না। এই তোষনমূলক অবস্থান বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনতে পারেনা। সরকার দেশের বুদ্ধিজীবী মহল ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিবাদের মুখে এটিকে চুক্তির পরিবর্তে সমঝোতা স্মারক বলে চালিয়ে দিতে চাইছে। কিন্তু আমরা দৃঢভাবে বলতে চাই, চুক্তি হোক আর সমঝোতা স্মারক হোক, কোন কিছুই এদেশের দেশপ্রেমিক জনগণ মানবে না।

আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহবান রেখে বলতে চাই, বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস গৌরবের ও মর্যাদার। আমাদের সামরিক বাহিনীর সাহসিকতা ও বীরত্বগাথা সারা বিশ্বময়। কিন্তু এ চুক্তি স্বাধীন দেশ ও গৌরবের সামরিক বাহিনীর জন্য অবমাননাকর বলে দেশবাসী মনে করছে। ইতিমধ্যেই সামরিক বিশারদ, রাজনৈতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং দেশেপ্রেমিক জনগণ এ চুক্তির বিরোধীতা করে তা থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়েছে। আমরা ভারতসহ সকল দেশের সাথে বন্ধুসূলভ ভূমিকাকে স্বাগত জানাই। কিন্তু রক্তে কেনা স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে বিকিয়ে দিয়ে কোন বন্ধুত্ব জাতি মেনে নিবেনা। সুতরাং নতজানু নীতি পরিহার করুন। দেশের মানুষের মতামতকে উপেক্ষা করে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিরোধী কোন সিদ্ধান্ত নিলে তা বুমেরাং হবে।

আমরা দেশ ও জাতির স্বার্থে এ চুক্তি থেকে বিরত থাকতে সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।


মোস্তাফিজুর রহমান
প্রচার সম্পাদক
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

সংশ্লিষ্ট