২৮ অক্টোবর ও আমার প্রাণপ্রিয় আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল

২৮ অক্টোবরের সেই হৃদয়বিদারক ঘটনা আমি মা হয়ে কোন দিন ভুলতে পারব না। সেই দৃশ্য মনে পড়লে কষ্টে আমার প্রাণ ফেটে যায়। তবে এ জন্য গর্ববোধ করি এ মৃত্যু সাধারণ কোন মৃত্যু নয়। এ মৃত্যু অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের, এ মৃত্যু আল্লাহর জমিনে অন্যায়কে দূর করে ন্যায় ও হক প্রতিষ্ঠার জন্য। জীবনকে বিলিয়ে দেয়ার এ মৃত্যু সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, “তোমরা ওদেরকে মৃত বলো না বরং ওরা জীবিত কিন্তু তোমরা অনুধাবন করতে পার না।”

জান্নাতের দু’টি পাখি

শহীদেরা মরে না, তারা অমর। তাদেরকে অন্য মৃতদের মধ্যে শামিল করা যায় না। এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল কারিমে একাধিকবার বলেছেন। সূরা বাকারায় ১৫৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে- আল্লাহর পথে যারা নিহত হয় তাদের মৃত বল না বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা উপলব্ধি করতে পারো না।

লক্ষ প্রাণে জোয়ার জাগায় শহীদ আব্দুল মালেক

ক্যালেন্ডারের পাতায় ১৫ আগষ্ট ঐতিহাসিক একটি দিন। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকালের সেরা মেধাবী ছাত্র আবদুল মালেকের শাহাদাত দিবস। এ বছর ৪৮ তম শাহাদাত বার্ষিকী হিসেবে ইসলামী শিক্ষা দিবস নামে দিনটিকে উদযাপন করবে এদেশের আপামর তৌহিদী ছাত্র-জনতা। দীর্ঘ ৪ যুগ পেরিয়ে আজও আমাদের চেতনায় নাড়া দিয়ে যায় মেধাবী ছাত্র আবদুল মালেকের শাহাদাত। আবদুল মালেকের শাহাদাতে শুধুমাত্র এদেশের জনগণের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়নি বরং বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তর থেকে বিবেকবান মানুষের কান্নার ধ্বনি শোকের আবহ তৈরি করেছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকালের সেরা এমন একজন মেধাবী ছাত্রের নির্মমভাবে শহীদ হওয়াকে কেউ সহজে মেনেও নিতে পারেনি। শহীদ আবদুল মালেকের শাহাদাতের ঘটনাটি ছিল বাম এবং ধর্মনিরপেক্ষ গোষ্ঠীর নিষ্ঠুর ষড়যন্ত্রের ফসল।

ইবনুল ইসলাম পারভেজ সদা হাস্যোজ্জ্বল একজন মানুষ

আমরা জানি সকল মানুষই মরণশীল। শহীদেরা অন্যের চাইতে আরও নির্মমভাবে হাত-পা কর্তিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তারাও মৃত্যুর পর আর ফিরে আসেন না। তারা মরে না, তাদেরকে অন্য মৃতদের মধ্যে শামিল করা যায় না। এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল কারিমে একাধিকবার বলেছেন, “আল্লাহর পথে যারা নিহত হয় তাদেরকে মৃত বলো না, বরং তারা জীবিত কিন্তু তোমরা তা উপলব্ধি করতে পার না।” (সূরা বাকারা : ১৫৪)

শহীদ নোমানী : স্বপ্নচারী অভিযাত্রিক

নজরকাড়া নয়ন যুগল অনেকেরই থাকে, কিন্তু তার থেকে যে দৃষ্টি ঝরে- তাতে মমতা এবং স্বপ্ন থাকে ক’জনার। মার্চ এলেই সেই মমতাময় নয়ন আমাকে নাড়া দেয়। মমতার আচ্ছাদনে বাঁধতে শেখায় আমাকে। হাঁটতে শেখায় পথ তৈরি করে করে। আমি জানি, এ অনুভূতি আমি একাই উপলব্ধি করি না। শহীদ নোমানী ভাইকে কাছ থেকে যারা দেখেছেন, যারাই তাঁর সাথে মিশেছেনÑ তারা আজ অনুপ্রাণিত সেই নয়নের মমতা মেখে।

শিপন আমার গর্ব

পড়াশোনার প্রতি ছিল তার যথেষ্ট আগ্রহ। তার এই আগ্রহ দেখে আমি এবং তার বাবা সিদ্ধান্ত নিই তাকে হাফেজ বানাবো। পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত গোড়ান নাজমুল হক সিনিয়র মাদরাসা থেকে পড়ার পর হেফজখানায় আমরা তাকে ভর্তি করিয়ে দিই। হেফজ শেষ করে তামিরুল মিল্লাত মাদরাসায় সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি হয়। এখান থেকে দাখিলে ১১তম স্থান অধিকার করে। মানুষের সাথে সে খুব সহজেই মিশে যেত। হাসি এবং গল্পের মাধ্যমে যে কোন আসরকে প্রাণবন্ত করতে শিপনের জুড়ি ছিল না। মানুষের যে কোন বিপদ কিংবা সমস্যা সমাধানে সে দ্রুত সাড়া দিত। যেমন এক ছেলে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা উঠলে তাকে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তির পর দেখা গেল তার ওষুধের টাকা নেই। সে তার নিজের পকেটের টাকা দিয়ে ঐ ছেলের ওষুধ কিনে দেয় এবং সারারাত তার বিছানার পাশে থেকে সেবা-শুশ্রুষা প্রদান করে ভোরে পায়ে হেঁটে বাসায় ফিরে। এলাকার এক বৃদ্ধ লোকের কাছ থেকে ছিনতাইকারীরা টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিলে ঐ লোকটিকে ৩০ টাকা রিকশা ভাড়া প্রদান করে তার নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে দেয়। এলাকায় সে এতই ভালো হিসেবে পরিচিত ছিল যে, চার বছর ধরে মসজিদে তারাবি পড়িয়েছে। সরকারি বিজ্ঞান কলেজে অর্থ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালে তার আচরণে মুগ্ধ হয়ে হিন্দু ছেলেরা পর্যন্ত বায়তুলমালে অর্থ প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করত। শহীদ হওয়ার আগের বছর ২০০৫ সালে গোড়ানের এক বাড়িতে তারাবির ইমামতি করে।

শহীদ মীর কাসেম আলী (রহ) : যে জীবন প্রেরণার!

মীর কাসেম আলী একটি জীবন, একটি ইতিহাস। তিনি আমাদের প্রিয় সংগঠন, পথহারা লাখো তরুণ-মেধাবীর ঠিকানা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রিয় প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর হাত ধরে এই প্রিয় কাফেলা ১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কয়েকজন টগবগে তরুণ-যুবক নিয়ে যাত্রা শুরু করে। যারা জাহেলিয়াতের পাহাড়সম বাধা মোকাবেলা করে বাংলাদেশকে আগামী দিনে দক্ষ, দেশপ্রেমিক ও খোদাভীরু নাগরিক উপহার দেয়ার লক্ষ্যে অবিরাম ছুটে চলছেন। সেই সৌভাগ্যবানদের অন্যতম তিনি।

শহীদ বেশে ফিরে এলেন আব্দুল্লাহ ওমর নাসিফ শাহাদাত

দেখতে দেখতে ৪টি বছর পেরিয়ে গেল। সময় চলে যায় কিন্তু স্মৃতিগুলো বারবার হৃদয়ের অন্তরালে হানা দেয়। কিছুতেই ভুলে থাকা যায় না শহীদের স্মৃতিগুলো। আমি দায়িত্বশীল থাকাকালীন অবস্থায় অনেক ভাইকে শহীদ হতে দেখেছি। চোখের সামনে বাতিলের আঘাতে অসংখ্য ভাইয়ের আহত, পঙ্গুত্ব ও শাহাদাতের অনেক স্মৃতিই চোখের সামনে ভেসে আসে বার বার। তেমনি আমার জীবনে যার শাহাদাতের স্মৃতিগুলো বারবার ভেসে আসে সে আমার প্রিয় ভাই “শহীদ আব্দুল্লাহ ওমর নাসিফ শাহাদাত”।

জান্নাতের বাগানে প্রস্ফুটিত একটি গোলাপ

সত্য-মিথ্যার দ্বন্দ্ব পৃথিবীর চিরন্তন ইতিহাস। মানুষ যখন অন্যায়, অত্যাচার আর অসত্যে নিমজ্জিত, শয়তান তার অনুসারীদের সাথে নিয়ে পৃথিবীতে শয়তানি শক্তির রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে ব্যস্ত; তখন আল্লাহ মানবজাতির কল্যাণে যুগে যুগে পাঠিয়েছেন অসংখ্য নবী-রাসূল ও তাদের সঙ্গী-সাথী হিসেবে প্রেরণ করেছেন দ্বীনের জন্য জীবন উৎসর্গকারী মর্দে মুজাহিদ। নবী-রাসূলদের পর তাদের উত্তরাধিকারীরা এ দায়িত্ব পালনে ব্রত হন। তারা শয়তানি শক্তি নির্মূলের জন্য সর্বশক্তি প্রয়োগ করেন, এমনকি জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে সাক্ষী হয়ে আছেন।

শহীদী মিছিলে শামিল হলেন প্রিয় ভাই ওমর ফারুক।

শহীদী মিছিলে শামিল হলেন প্রিয় ভাই ওমর ফারুক।