কুরআনের আন্দোলনে নিবেদিত প্রাণ শহীদ খলিলুর রহমান

২০০৯ সালে আমি শ্যামপুর থানা সভাপতি থাকাকালীন শহীদ খলিলুর রহমান ভাইকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল মুরাদপুর মাদ্রাসা ওয়ার্ডের। অল্প দিনের মধ্যেই তিনি হয়ে উঠলেন মাদ্রাসার সকল ছাত্রের প্রিয়ভাজন ব্যক্তি। কিছুদিনের মধ্যে অন্য সকল ওয়ার্ডের চাইতে সর্বোচ্চ সংখ্যক সমর্থক, কর্মী ও সাথী বৃদ্ধি করে মাদ্রাসায় সংগঠনের কাজের মজবুত অবস্থান তৈরি করলেন। তিনি যখন মাদ্রাসায় যেতেন তখন ছোট বড় সবাই তার সাথে দেখা করার জন্য ভীড় জমাতেন। মনে হতো তিনি যেন সকলের আপনের চাইতেও আপন।

২৮ অক্টোবর : বিজয়! সাহসী উপাখ্যান! দুঃখময় স্মৃতি! বেদনা! ব্যর্থতা! অক্ষমতা……

ক্ষত বিক্ষত কারো বুক-কারো মাথা, ছোপ ছোপ রক্তের ধারায় রঙ্গীন সবার শরীর। এ যেন জান্নাতের সুঘ্রান পাওয়া একদল সংশপ্তক সৈনিকের জীবন উৎসর্গের প্রাণপণ লড়াই। রক্তাক্ত গাজী ও জিন্দাদিল শহীদ ভাইদের সেদিনকার অপরিসীম ত্যাগের মহিমা ঢেকে দিয়েছে আমাদের সকল ব্যর্থতা।

২৮ অক্টোবর : যেন বদর-ওহুদের প্রান্তর

প্রত্যেকটি ঘটনার উপরে আরেকটি বড় ঘটনা তৈরি হয়। আমরা ইতিহাস থেকে হিরোসিমা-নাগাসাকির ধ্বংষযজ্ঞ ইতিহাস, এপ্রিলফুলের হত্যাযজ্ঞ ইতিহাস, আবু গারিব কারাগারের নির্যাতনের ইতিহাস, চেঙ্গিস খানের বর্বরতার ইতিহাস জানি। কিন্তু ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টন ময়দানে আওয়ামী লীগ যে হত্যাযজ্ঞের ইতিহাস তৈরি করেছিল তা পৃথিবীর সকল জঘন্য বর্বর ইতিহাসকে হার মানায়।

আটাশে অক্টোবরের অন্তরালে

আন্দোলনের নামে লগি-বৈঠার তান্ডব, অন্য দলের সভা-সমাবেশে হামলা ও নেতাকর্মীকে হত্যা করে লাশের ওপর নাচানাচি আওয়ামী লীগের কলঙ্কিত ইতিহাসে আরো একটি কালো অধ্যায়ের সংযোজন। রক্তাক্ত আটাশে অক্টোবর বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারা এবং ইসলামী শক্তির উত্থান ঠেকিয়ে সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে আগ্রাসী শক্তির ক্রীড়নক নতজানু সরকার প্রতিষ্ঠার টার্নিং পয়েন্ট। শহীদদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যাবে না। শহীদের সাথীরা আরো বেশি অনুপ্রাণিত হবে এবং সমস্ত জুলুম-নিপীড়ন মোকাবিলা করে ধৈর্যের সাথে দৃঢ় পদে এগিয়ে যাবে। ছিন্ন করবে ষড়যন্ত্রের জাল।

রক্তের ঋণ শোধ হয় না

ঐতিহাসিক ২৮ অক্টোবর আমাকে আজো তাড়িয়ে বেড়ায়। অক্টোবরের সেদিনের শহীদেরা তো আমারই সামনে থেকে চলে গেল এক সাফল্যমণ্ডিত ঈর্ষনীয় শান্তির নিড়ে। আমাদের সামনে তাদের ওপর যেভাবে দানবীয় কায়দায় আক্রমণ করা হলো তাদের জন্য আমরা কী করতে পেরেছি? শাহাদাতের পর তাদের ইচ্ছা ও আকুতিগুলো এখনো তো আমাদের কানে ভাসছে, আমরা কি পারছি এ বিরাট বোঝা বহন করতে? অথবা আমরা কি আসলেও ততটা যোগ্য সে কাজের, যে মহান দায়িত্ব ওরা চাপিয়ে দিয়ে গেল আমাদের কাঁধে।

২৮ অক্টোবর যে নরহত্যা ভোলার নয়

কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই ঘটলো সেই নরহত্যাযজ্ঞের ঘটনা। নয়াপল্টন ও পুরানা পল্টনে যারা ছিলেন তাদের হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না। আর আওয়ামী লীগ অফিস-কেন্দ্রীক মিছিলকারীদের প্রত্যেকের হাতে ছিল লগি আর বৈঠা। টেলিভিশনের ক্যামরা সচল ছিল। একদল লগি-বৈঠাধারী আকস্মিকভাবে ছুটে এলো পুরানা পল্টন মোড়ের দিকে। তাদের কারো কারো হাতে ছিল পিস্তল ও কাটা রাইফেল। ভিডিও চিত্রে তার প্রমাণ আছে। ছুটে এসেই তারা পুরানা পল্টনে অবস্থানরতদের ওপর হামলা চালালো। অনেকে এদিক ওদিক ছুটে গেল। কিন্তু পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল সাদা পাজামা পানজাবি পরা তরুণ জসিম। সে পালাবারও চেষ্টা করেনি। যেন আরো

২৮ অক্টোবর আওয়ামী বর্বরতার কালো অধ্যায়

ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে অনেক দিবস আছে যেগুলো আমাদের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে। আমরা যখনি হিরোশিমা নাগাসাকি, ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি ’০৯ বিডিআর হত্যাযজ্ঞ, আর এপ্রিল ফুল দিবসের কথা স্মরণ করি, আমাদের স্মৃতিতে এক জঘন্য চিত্র ভেসে ওঠে। তেমনি ২৮ অক্টোবরকে স্মরণ করলে আওয়ামী লীগ বৈঠার হিংস্রতা পৈশাচিকতা, আর বর্বরতার এক বীভৎস চিত্র আমাদের নতুন প্রজন্মেও নিকট ফুটে ওঠে, যাতে শিউরে ওঠে শরীর, বাকরুদ্ধ হয় বিবেক, কেঁদে ওঠে মানুষের মন। আর এই মানুষরূপী নরপশু অভিশপ্তদের ঘৃণা করবে বিশ্বমানবতা শতাব্দীর পর শতাব্দী।

২৮ অক্টোবর : অপরাজনীতির দলিল

সমালোচকরা অথবা রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আওয়ামী লীগকে সেই রকমই একটি দল এবং তাদের পরিচালিত সরকারকে ফ্যাসিবাদী সরকার বলে থাকেন। এই প্রজন্মের কাছে আওয়ামী লীগের এহেন চরিত্রটি অজানা থাকলেও বিগত ১৯৯৬-২০০১ সালে শাসনব্যবস্থা এবং ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর মতায় আরোহণের পর দীর্ঘ ৩৩ মাসের শাসন এ প্রজন্মের কাছে দুঃশাসন হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার রাজপথে আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠাধারী সন্ত্রাসীরা সারা বাংলাদেশ থেকে এসে যে

মানবতাবিরোধী অপরাধের নজিরবিহীন ঘটনা

২৮শে অক্টোবর ২০০৬ সাল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। দুনিয়ার ইতিহাসে এভাবে মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধের ঘটনা বিরল। সেদিন যারা লগি-বৈঠা নিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে রাজপথে মানুষ হত্যা করেছিল আজ তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে আরও নির্মমভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধে মেতে উঠেছে। আর তাদের হাতে মানুষের জানমাল, ইজ্জত-আব্র“ কোন কিছুই নিরাপদ নয়। তারা ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

২৮ অক্টোবর : ত্যাগ ও কুরবানির এক অনন্য নজরানা

পল্টন মোড়ে তীব্র উত্তেজনার মাঝেও রীতি অনুযায়ী জনসভা শুরু করার ক্ষেত্রে কোন ব্যাঘাত ঘটেনি। কুরআনের কর্মীরা দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিবেদিত বলেই পেটে তীব্র ক্ষুধা ও পিপাসার্ত বুক নিয়ে অতন্দ্রপ্রহরী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাজপথে। তেলাওয়াতের প্রতিধ্বনি ক্ষুধা আর পিপাসার রাজ্যে যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। মাত্র দশ হাত দূরে হায়েনাদের মরণছোবল আর ঠিক তার পাশেই পিনপতন নীরবতায় তেলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভা শুরু দেখে বুক ভরে গেল। আল্লাহর পক্ষ থেকে নেয়ামতের মত কে যেন একজন এই