শহীদ মুহাম্মদ আলাউদ্দিন

০১ জানুয়ারি ১৯৬৯ - ১৬ ডিসেম্বর ১৯৯৬ | ৮০

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

শাহাদাতের ঘটনা

আপোষহীন সংগ্রামে বিজয়ী দুরন্ত সেনাপতির নাম শহীদ আলাউদ্দিন। যার হাসি মাখা ঝলমলে চেহারায় সারাক্ষণ লেগে থাকতো প্রশান্তির অমিয় ধারা, হৃদয়ের গহিন কোনায় উঠতো ভালবাসার প্রবল জোয়ার। অতিরঞ্জিত কোন শব্দমালার কাব্য গাঁথুনি নয় জোয়ার। শহীদ আলাউদ্দিন সেই যুবক, যে যুবক কোনদিন মিথ্যার চোরাবালিতে হারিয়ে যায়নি, যার চরিত্র রূপ সৌন্দর্য ছিল মনোমুগ্ধকর জুঁই চামেলীর চেয়েও সুবাসিত, রূপের মাঝেও অপরূপ এক বাড়ন্ত গোলাপ। বাঁধাহীন মসৃণ একটি শৈশব ছিল শহীদ আলাউদ্দিন ভাইয়ের। যে শৈশব ছিল পিতামাতার একমাত্র পুত্র সন্তান হওয়ার স্বভাবগত আদর-যত্নে পরিপূর্ণ রূপে সিক্ত দুঃখের পীড়ন কিংবা যন্ত্রণার তীব্র দহন।

আলাউদ্দিন ভাইয়ের শৈশবের লালিত্যকে করেনি কৈশোরের সোনামাখা দিনগুলো ছিল স্বপ্নের ফুল দিয়ে সাজানো। বেদনার কষাঘাতে সেই ফুলগুলো কখনও মলিন হয়নি। প্রিয়জনের আদর সোহাগ তার স্মৃতিমাখা কৈশোরের দিনগুলি দিনগুলো কাণায় কাণায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। পিতামাতাকে কলিজার ধন, নয়নের পুত্তলি আলাউদ্দিন একদিন তাদের সামনেই কবরের কঠিন মাটির নীচে লুকিয়ে থাকবে সেটা কি কেউ ভেবেছিল কোনদিন? গোলাপের স্নেহ-ভালোবাসা বেণীতে কেবল একটি গোলাপ ফুটে ছিল আলাউদ্দিন। কেউ কি স্বপ্নেও ভেবেছিল সেই গোলাপের কুঁড়ি একদিন ঘাতকের বুলেটের আঘাতে লুটিয়ে পড়বে মাটিতে?

শহীদ আলাউদ্দিন ভাই ছিলেন দাদা-দাদীর কলিজার টুকরা। যে আলাউদ্দিন চোখের আড়াল হলে তাদের ঘুম হারাম হয়ে যেত। সেই আলাউদ্দিন ধান ক্ষেতের পাশে গাঢ় অন্ধকার কবরের মাঝে শুইয়ে রেখে কিভাবে ঘুমোতে পারবেন তারা? মামা-মামীর মমতা মিশানো সেই প্রিয় ডাকটি কে শুনবে আজ? পরিচিত অপরিচিত নির্বিশেষে এত মানুষ আলাউদ্দিন ভাইকে ভালবাসত সেটা না দেখলে বিশ্বাস করার মত নয়। এটা আমার কাছেও ছিল রীতিমত হিংসার ব্যাপার। আলাউদ্দিন ভাইয়ের একান্ত আগ্রহ ও আমন্ত্রণে একবার গিয়েছিলাম তাদের বাড়িতে। সেখানে গিয়েই আমার মনে হয়েছিল এই তরুণ কোন স্বাভাবিক তরুণ নয়। আবাল, বৃদ্ধ, বনিতা, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই ছিল এক কথায় আলাউদ্দিন ভাইয়ের অন্ধভক্ত। এমন একজন প্রতিভাবান ও জনপ্রিয় ছাত্রনেতাকে ফেনীর জনগণ নিজেদের সম্পদ বলে গর্ব করতে ভালবাসত। তিনি যখন তার এলাকায় পরিচিত মুরব্বীদের সাথে দরদভরা হৃদয় নিয়ে কথা বলতেন তখন তার চারপাশে মনে হত মৌমাছির মত জটলা করছে শুভাকাঙ্খী ও যুবকেরা। রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তার পিছু নিত কচি শিশুকিশোররা। এক ঝলক শিশুদের সামনে এগিয়ে চলার সময় তাকে মনে হত হ্যামিলনের সেই বাঁশিওয়ালার মত। হৃদয়ের সবটুকু ভালবাসা উজাড় করে দিয়ে আলাউদ্দিন ভাই কাছে টানতেন মানুষকে তার সুমিষ্ট কন্ঠের বিনয়ী উচ্চারণ যেন কোন মানুষকে ভুলিয়ে দিত হৃদয়ের সমস্ত যন্ত্রণা। দীর্ঘদিন পরে এলাকায় প্রাণস্পন্দন আলাউদ্দিন ভাইকে কাছে পেয়ে মানুষগুলোকে কেমন যেন পাগল হয়ে উঠতে দেখেছি। অভিমানের সুরে মুরব্বীদেরকে বলতে শুনেছি, “বাবা এতদিন পরে এলে?” অথচ সেই সব মুরব্বী কেউ তার রক্তের আত্মীয় না হলেও সকলেই ছিলেন আত্মার আত্মীয়। রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে অসংখ্য মানুষকে দেখেছি দু’হাত বাড়িয়ে আবেগের আতিশয্যে আলাউদ্দিন ভাইকে বুকে জড়িয়ে ধরতে। তিনি রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় ধানক্ষেতের মধ্যে কর্মকান্ত উদাসীন কৃষককে স্মিতহাস্যে সালাম দিয়ে “কেমন আছেন জিজ্ঞাসা করে চলেছেন একাধারে।”

প্রাণখোলা হাসি দিয়ে মানুষের হৃদয় জয় করার এমন যাদুকরী ক্ষমতা আল্লাহ সবাইকে দেয় না। আর যারাই এই সম্মোহনী শক্তির ভাগ্যবান উত্তরাধিকার তারাই মানুষের উপর প্রভাব বিস্তারের সবচেয়ে বেশি ক্ষমতা রাখে। রাতের আঁধার চিরে আলো ঝলমলে সূর্যোদয়ের নিশ্চিত হাতছানী শহীদ আলাউদ্দিন ভাইয়ের প্রতিভাদীপ্ত দু’টি চোখের তারায়। যে চোখ দু’টির মাঝে ছিল শত্র“র জন্যও শান্তির নীরব আহ্বান, নরপিশাচদের নির্মম বুলেট সেই বাদামি চোখ দু’টিকে করে দিল চিরদিনের জন্য স্থির ও শক্তিহীন।

প্রচন্ড সহজ সরল এই যুবকের মাঝে ব্যক্তিত্বের গাঁথুনি ভীষণ মজবুত। এলোমেলো ঝড়ো হাওয়ার মাঝে তাঁর এই ব্যক্তিত্বের ভীত কখনও কেঁপে উঠেনি। যে কোন ব্যাপারে অন্যের গল্পগ্রহ হয়ে থাকাটা ভীষণ অপছন্দ করতেন তিনি। অন্যের করুণা প্রার্থী হওয়াটা ছিল তা স্বভাব বিরুদ্ধ। এটা তার কোন অহঙ্কার ছিলনা বরং তার নির্মল চরিত্রের সাথে দুর্লভ গুণটি সঙ্গী-সাথীদের বাড়তি আকর্ষণের কারণ ছিল। নিজে অকাতরে ব্যয় করে মাঝে মাঝে তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করে গেছেন। তার পকেটে নিঃশেষ হয়ে গেলেও ভালবাসার তখনও নিঃশেষ হতো না। এই প্রাণপ্রিয় শহীদ ভাইয়ের সাথে চার-পাঁচ বছর ঘনিষ্টভাবে মেলামেশার সুযোগ পেয়েছি আমি। কিন্তু এমন ঘটনা ঘটেছে জানা নেই, যে দিন এক সাথে নাস্তা করে আলাউদ্দিন ভাইয়ের আগে কেউ হোটেলের বিল পরিশোধ করতে পেরেছে। পরম যত্ন এবং সম্মানের সাথে খাওয়াতেন তিনি মেহমানদেরকে। হলে কিংবা মেসে থাকার সময় তাঁর নিজ হাতের রান্না খাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে অসংখ্য ভাইয়ের। দোকানে না থাকলেও নিজ হাতেই হাল্কা নাস্তা তৈরি করে খাওয়াতেন সংগঠনের ভাইদেরকে। এতে যে কোন ব্যক্তির হৃদয়েই সৃষ্টি হয়ে যেত প্রাণপ্রিয় সেই আলাউদ্দিন ভাইয়ের জন্য একটি পৃথক মর্যাদার আসন। চকলেট কিনে নিজহাতে শিশুদের মুখে পকেটে দুচারটি চকলেট কিংবা লজেন্স তুলে দিতেন তিনি। সেজন্য দেখা যেত তার পকেটে দু’চারটি চকলেট কিংবা লজেন্স।

আল্লাহ তায়ালা বাগানের যে গোলাপটিকে সবচেয়ে ভালবাসতেন তার সুঘ্রাণও বাড়িয়ে দেন। এমন মার্জিত ও রুচিশীল মানসিকতার খুব কমসংখ্যক যুবককেই দেখেছি আমি। কি পোশাক-পরিচ্ছদ, কি পড়ার টেবিল, সবখানেই ছিল এই রুচিশীলতার ছাপ। তিনি ঝকঝকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক ব্যবহারের চেষ্টা করতেন সব সময়। বরং নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সাথে দায়িত্বশীল বা কর্মীদের জন্যও কিনতেন উপহার সামগ্রী। শিশু সুলভ সারল্যের সাথে ভাব গাম্ভীর্যের একটা মানানসই সেতুবন্ধ ছিল আলাউদ্দিন ভাইয়ের চরিত্রে। ধীরস্থিরভাবে মেপে মেপে এগিয়ে চলার চেষ্টা করতেন। অপ্রয়োজনীয় গল্পগুজবের আড্ডায় আলাউদ্দিন ভাইয়ের উপস্থিতি ঘটলে তার প্রাণোচ্ছল অথচ সাবলীল কথাবার্তায় সকলেই তাদের আলোচনার গতিপথ ঘুরিয়ে ফেলত। গুরুগম্ভীর কোন আচরণ নয় বরং তার পরিচ্ছন্ন ও যুক্তিপূর্ণ কথাবার্তায় অনেকে লজ্জিত হয়ে যেত। উচ্চস্বরে কখনও হাসতেন না তিনি। আল্লাহর রাসুল (সা) যেভাবে কথাবার্তা বলতেন, তিনি সব সময় চেষ্টা করতেন সেভাবে নিজের বক্তব্যকে মানুষের কাছে শিক্ষণীয় ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য। তার বুদ্ধিদীপ্ত দু’টি চোখ যুক্তির ভাষা জানত। গভীর প্রত্যয়ের সাথে কথা বলতেন তিনি। মহান আল্লাহ তাঁকে বুদ্ধিবৃত্তিক বক্তব্য উপস্থাপনার এমন শক্তিশালী মন্ত্র শিখিয়ে ছিলেন যা দিয়ে জটিল কিংবা অস্পষ্ট যে কোন বিষয়বস্তু সবার সামনে পরিষ্কার হয়ে যেত। বৈঠকে সবাই শুনত তার বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্য গভীর মনযোগ দিয়ে। তার ক্ষুরধার যুক্তির পরে অনেকেই তাঁদের পূর্বতন বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিতেন সানন্দচিত্তে। সেজন্য দায়িত্বশীলসহ প্রায় সকলেই আলাউদ্দিন ভাইয়ের বক্তব্যের জন্য শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। আবার নিজের বক্তব্যকে কখনই তিনি জিদ কিংবা হঠকারিতার পাথর দিয়ে চাপা দিতেন না। সুন্নাতে রাসুলের মত পূর্ণ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে সম্মিলিত সিদ্ধান্তে অবনত মস্তিষ্কে মেনে নিতেন তিনি। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে সবসময় চেষ্টা করতেন কুরআন ও হাদীসের রেফারেন্স দিতে। সাহাবীদের ত্যাগ ও সংগ্রামী জীবনের বিশাল ঐতিহ্যভান্ডার থেকে তিনি নিজের জন্য সংগ্রহ করেছিলেন অসংখ্য মূল্যবান সম্পদ। যা ছিল তার উদ্দীপনার কর্মবহুল দৈনন্দিন জীবনের পাথেয়।

নেতৃত্বের আজন্ম প্রতিভায় আলাউদ্দিন ভাই ছিলেন ভাস্বর। এই ক্ষণজন্মা যুবকের জন্য নেতৃত্বের গুণটি ছিল মাথার মুকুটের মত উজ্জ্বল। স্বল্প সময়ের মধ্যে যে কোন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কর্মীরা তার পিছনে সন্দেহমুক্ত মনে দাঁড়িয়ে থাকতে পারতো। গভীর প্রজ্ঞার সাথে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত দিতে পারতেন। যে জন্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের আসনে আলাউদ্দিন ভাইকে নিয়ে প্রায় সকলে স্বপ্নের জাল বুনতেন। কর্মীদের কে সংগ্রামমুখর পিচঢালা রাজপথে রেখে আলাউদ্দিন ভাই এত দ্রুত শহীদ মিছিলের নেতৃত্বের উঠে আসবেন এ কথাটা আজও অনেকের বিশ্বাস হয়না। বিশেষ করে যারা তাকে সংগঠনের ছাঁচে ঢেলে সাজানোর দায়িত্বে ছিলেন তাদের জন্য এটা মেনে নেওয়াটা আরও কষ্টকর। ইসলামী আন্দোলনের এই তরুণ সিপাহসালার সংগঠনের প্রতি সব সময় ছিলেন পরিপূর্ণ আস্থাশীল। সংগঠনের দায়িত্বশীলদেরকে তিনি নিজের অভিভাবক মনে করতেন। তাদের ব্যাপারে যে কোন অযাচিত মন্তব্য থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতেন। তাদের সম্মান ও মর্যাদার প্রতি পরিপূর্ণ সজাগ থেকে সাংগঠনিক ব্যাপারে পরামর্শ রাখতেন। বয়সে বড় ও ছোট নির্বিশেষে যে কোন ভাইকে দূর থেকে দেখতে পেলে দাঁড়িয়ে পড়তেন একান্ত শ্রদ্ধা ও বিনয়ের সাথে। নিজের আসনে অন্য ভাইকে বসিয়ে ভীষণ তৃপ্তি পেতেন তিনি। সালামের প্রতিযোগিতায় তার অগ্রগামীতাকে কেউ কখনও চ্যালেঞ্জ করতে পেরেছে বলে আমার মনে পড়ে না। অনেকবার চেষ্টা করেছি তাকে হারিয়ে আগে ভাগে সালাম দিয়ে ফেলব। মনে মনে দৃঢ়সংকল্প নিয়ে একদিন মেসের দিকে কয়েক কদম অগ্রসর হতেই পিছন থেকে কন্ঠ ভেসে এলো ‘জামান ভাই’ আস্সালামু আলাইকুম সেদিনও হার মানলাম আমার প্রিয় আলাউদ্দিন ভাইয়ের কাছে।

১৬ই ডিসেম্বর ’৯৫ সাল আর ফিরে আসবে না কোন দিন। অনাগতকাল ধরে মিছিল হবে রাজপথে, শ্লোগান থাকবে-বাড়বে মিছিলকারীর সংখ্যা। কিন্তু এমন প্রশস্ত বাহু মেলে মিছিল আগলে ধরে রাখার মত সিপাহসালার কি আসবে? হয়তো আর কোন দিন ফিরে আসবে না। তাজমহলের রঙ একদিন বিবর্ণ হবেই, ভোরের আকাশের রক্তিম আভাও মিলিয়ে যায় সূর্যোদয়ের সাথে। কিন্তু শহীদ আলাউদ্দিনের চরিত্রের বর্ণ ফ্যাকাশে হবে না কোন দিন। কারণ তিনিতো কেবল সৌন্দর্যের মিনার ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন সে মিনারের স্থতি বটেও যার ঝিলিকে আলোকিত হতো চতুর্দিক। তার যোগ্য নেতৃত্ব আর ঈমানের বলিষ্ঠতা দেখে মুগ্ধ হতো সবাই। অনুকরণ-অনুসরণ করতাম সবাই আমি নিজেও। কিন্তু আলাউদ্দিন ভাই আজ আর নেই। আছে শত স্মৃতি শত কথা যা আজও অম্লান দর্পণের মত স্বচ্ছ। তাইতো তিনি শহীদ হয়ে এখনও আমার নেতা।

একনজরে শহীদ পরিচিতি :
নাম : মু. আলাউদ্দিন
পিতা : মৃত ছাদেক (বীর মুক্তিযোদ্ধা)
মাতা : হুসনে আরা বেগম
ভাইবোন : ৩ বোন ও ৫ ভাইয়ের মধ্যে ২য়।
সাংগঠনিক মান : সদস্য।
দায়িত্ব : কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রশিক্ষণ সম্পাদক। 
ঠিকানা : গ্রামঃ পশ্চিম ঘনিয়া মোড়া, পোস্টঃ ফুলগাজী, থানাঃ ফুলগাজী, জেলাঃ ফেনী।
শিক্ষা জীবন : এস.এস.সি ঃ ১ম বিভাগ, এইচএসসি : ১ম বিভাগ, হাজী মু. মুহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম।
শাহাদাতকালে : ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন বিভাগে ৪র্থ পর্বের ছাত্র ছিলেন।
ঘটনাঃ বিনা উস্কানিতে ১৫ই ডিসেম্বর রাত্রে বিজয় দিবসের উল্লাসে ও শিবির নিধনের পরিকল্পনায় ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা গুলি করতে থাকে, এতে শিবির নেতা আলাউদ্দীন ছাড়াও শওকত হোসেন তালুকদার ও মঞ্জুরুল কবির শাহাদাত বরণ করেন।
শাহাদাত : ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৯৫ সাল।
শহীদ অবস্থান : ৮০তম
জন্ম তারিখ : ১৯৬৯
সর্বশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান : বাকৃবি
যাদের আঘাতে শহীদ : ছাত্রদল
আহত হওয়ার তারিখ : ১৫ ডিসেম্বর ’৯৫
কবর যেখানে :
যে শাখার শহীদ : বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা
পিতার প্রতিক্রিয়া : আলাউদ্দিন চলে গেছে কিন্তু রেখে এক গাথা স্মৃতি যার সেটা ছিল অত্যন্ত প্রখর, এ দুনিয়া থেকে সে চলে গেছে আমাদের দেখা হবে জান্নাতে আল্লাহ যেন তার শাহাদাত করেন করেন।

এক নজরে

পুরোনাম

শহীদ মুহাম্মদ আলাউদ্দিন

পিতা

মৃত ছাদেক (বীর মুক্তিযোদ্ধা)

মাতা

হুসনে আরা বেগম

জন্ম তারিখ

জানুয়ারি ১, ১৯৬৯

ভাই বোন

৩ বোন ও ৫ ভাইয়ের মধ্যে ২য়।

স্থায়ী ঠিকানা

গ্রামঃ পশ্চিম ঘনিয়া মোড়া, পোস্টঃ ফুলগাজী, থানাঃ ফুলগাজী, জেলাঃ ফেনী।

সাংগঠনিক মান

সদস্য

সর্বশেষ পড়ালেখা

ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন বিভাগে ৪র্থ পর্বের ছাত্র ছিলেন।

শাহাদাতের স্থান

ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়


শহীদ মুহাম্মদ আলাউদ্দিন

ছবি অ্যালবাম: শহীদ মুহাম্মদ আলাউদ্দিন


শহীদ মুহাম্মদ আলাউদ্দিন

ছবি অ্যালবাম: শহীদ মুহাম্মদ আলাউদ্দিন