শহীদ জয়নাল আবেদীন চৌধুরী

০১ জানুয়ারি ১৯৭৩ - ০৭ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ | ৮৯

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

শাহাদাতের ঘটনা

‘কক্সবাজার জেলা ইসলামী আন্দোলনের জন্য খুবই উর্বর। কিন্তু এখানে কেউ শাহাদাত বরণ করেননি। যদি কেউ শহীদ হয় তাহলে আমিই হবো প্রথম শহীদ।’ কথাগুলো বলেছিলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ৮৯তম শহীদ ঈদগাঁও এর কৃতী সন্তান উদীয়মান নেতা জয়নাল আবেদীন চৌধুরী।

সেদিনের মর্মান্তিক ঘটনা
শাখা সভাপতিকে শাহাদাতের আকাঙ্খার কথা ব্যক্ত করার কয়েকদিনের মধ্যেই ৭ সেপ্টেম্বর ঘাতক আওয়ামী বুলেট তার প্রাণবায়ু বের করে নেয়। শাহাদাতের পেয়ালা পান করেন জয়নাল আবেদীন চৌধুরী। ৫ই সেপ্টেম্বর ৯৬ বৃহস্পতিবার সম্পূর্ণ শান্ত পরিবেশে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা ঈদগাঁও ফরিদ আহমদ কলেজে শিবির কর্মীদের বিনা উসকানিতে মারধর করে এবং কলেজে না আসার জন্য হুমকি দিয়ে বলে- যদি ক্যাম্পাসে তোদের দেখা যায় তাহলে হাত পা কেটে নেয়া হবে। শিবির কর্মীরা কলেজ অধ্যক্ষকে এ সন্ত্রাসের বিচার দিলে তিনি ৭ সেপ্টেম্বর এর বিচারের জন্য ডাকেন।

কিন্তু কে জানত আওয়ামী সন্ত্রাসীরা শিবির হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে প্রহর গুনছে। ৭ সেপ্টেম্বর সবাই যথারীতি ক্যাম্পাসে যায়। তরুণ নেতা জয়নাল আবেদীন চৌধুরী শিবির কর্মীদের উপর নির্যাতনের খবর শুনে কলেজ ক্যাম্পাসে যান। কলেজে গিয়েই অধ্যক্ষের কাছে তিনি বিনীতভাবে জানতে চান; বৃহস্পতিবারের সন্ত্রাসী ঘটনার জন্যে তিনি কী পদক্ষেপ নিয়েছেন। অধ্যক্ষ মু. ওমর ফারুক তাকে জানান এ ব্যাপারে আজ শনিবার ১২ টায় বৈঠক আছে, এতে আমরা ফয়সালা করে দেব। বিচারের আশ্বাস পেয়ে জয়নাল অধ্যক্ষের কক্ষ ত্যাগ করার সাথে সাথেই ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে, এতে তার তলপেট ঝাঁঝরা হয়ে যায়। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। জয়নাল বাঁচার আর্তনাদ করলে টানা হেঁচড়া করে অফিস কক্ষে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ডান হাতের কব্জি পর্যন্ত সম্পূর্ণ কেটে দেয়। কর্তিত হাত নিয়ে উল্লাস করে মিছিল করতে করতে ক্যাম্পাস ত্যাগ করে মুজিববাদী নরপিশাচ মানব হায়েনারা। মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য প্রথমে মালুমঘাট ও পরে চট্টগ্রাম নেয়ার পথে সাতকানিয়ার কাছে তিনি জান্নাতে গমন করেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন।)

আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ভেবেছিল সম্ভাবনাময় তরুণ নেতা জয়নাল আবেদীন চৌধুরীকে খুন করলে ঈদগাহ থেকে শিবির নির্মূল হয়ে যাবে। কিন্তু জয়নাল এমন এক কালজয়ী আদর্শের কর্মী ছিল যে কাফেলার একজন কর্মী শহীদ হলে আরও হাজারো কর্মী শহীদ হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে। জয়নালকে খুন করে ঈদগাহ থেকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা শিবির উৎখাতের পরিকল্পনা করেছিল কিন্তু আল্লাহর পরিকল্পনায় ঈদগাহের মাটি থেকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরাই উৎখাত হয়ে গেছে। যে জমিনে শহীদের রক্ত ঝরেছে সে জমিনের মুজাহিদরা দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আরো গৌরবান্বিত করেছে। নতুন করে প্রাণ সঞ্চার হয়েছে কক্সবাজারের হাজার হাজার কর্মীর মাঝে। প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে শহীদ জয়নালের লালিত আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সে খুনিদের বদলা নেয়া হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন শহীদ জয়নাল আবেদীন চৌধুরীকে শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন এ প্রত্যাশাই আমাদের।

শহীদ জয়নালের কৃতিত্ব
একজন কৃতী খেলোয়াড় হিসেবে তিনি সকলের কাছে প্রিয়ভাজন ছিলেন। ১৯৮৯ সালে চতুর্থ বাংলাদেশ জাতীয় স্কাউট জাম্বুরিতে দলনেতা হিসেবে সকলের সাথে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮৯ সালের ৬ মার্চ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত চট্টগ্রাম ত্রয়োদশ আঞ্চলিক স্কাউট সমাবেশ সাফল্যের সাথে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৯০ সালে খুটাখালী কিশলয় আদর্শ শিক্ষা নিকেতন এর বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন এবং বিভাগীয় স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া সমিতি ১৯৮৯ সালে তাকে ভলিবল প্রতিযোগিতার শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

একনজরে শহীদ জয়নাল আবেদীন চৌধুরী
নাম : মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন চৌধুরী
পিতা : মরহুম শাহজাহান চৌধুরী লুজু মিঞা (সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান)
মাতা : নুরুনাহার বেগম
ঠিকানা : ঈদগাঁও থানা : কক্সবাজার সদর, জেলা কক্সবাজার
ভাই বোনদের সংখ্যা : ৫ ভাই ৫ বোন
শহীদের অবস্থান: ৬ষ্ঠ
জন্ম তারিখ : ১৯৭৩ ইং
শিক্ষাগত যোগ্যতা : বিএ পরীক্ষার্থী আলিম, বিএ ১ম বর্ষ কক্সবাজার কলেজ
সর্বশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান : মহসিন কলেজ চট্টগ্রাম।
সাংগঠনিক মান : কর্মী। সমাজকল্যাণ পাঠাগার সহসভাপতি
যাদের আঘাতে শহীদ : আওয়ামী লীগের গুণ্ডাবাহিনী
আহত হওয়ার তারিখ : ৭ সেপ্টেম্বর শনিবার ১৯৯৬ ঈদগাঁও ফরিদ আহমদ কলেজ
কবর যেখানে : পারিবারিক গোরস্থান (সিকদার পাড়া) ইসলামাবাদ, ইদগাঁও
যে শাখার শহীদ : কক্সবাজার জেলা শাখা

শহীদের শখ
কক্সবাজার জেলায় যদি কেউ শহীদ হয় তাহলে আমিই হব প্রথম শহীদ। শাখা সভাপতির কাছে এই আকাঙ্খা ব্যক্ত করায় কয়েক দিনের মধ্যে সে শাহাদাত বরণ করে।

আত্মীয়-স্বজন প্রতিবেশী বা প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রতিক্রিয়া
শহীদের সৎমার প্রতিক্রিয়া: শহীদ জয়নাল ছিল এই পরিবারের একটি ফুটন্ত গোলাপ। সে আমাকে সৎমা নাকি নিজের মা কোন দিন পার্থক্য করে দেখে নি।
১৯৯১ সালে চকরিয়া থানার দিগর পান খালী উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২য় বিভাগে এসএসসি পরীক্ষার উত্তীর্ণ হন ১৯৯৩ সালে চট্টগ্রাম সরকারি হাজী মুহাম্মাদ মহসিন কলেজ থেকে ২য় বিভাগে এই এসসি পাস করেন এবং শাহাদাতের সময় তিনি বিএ পরীক্ষার্থী ছিলেন।

এক নজরে

পুরোনাম

শহীদ জয়নাল আবেদীন চৌধুরী

পিতা

মরহুম শাহজাহান চৌধুরী লুজু মিঞা

মাতা

নুরুনাহার বেগম

জন্ম তারিখ

জানুয়ারি ১, ১৯৭৩

ভাই বোন

৫ ভাই ৫ বোন

স্থায়ী ঠিকানা

ঈদগাঁও, থানা : কক্সবাজার সদর, জেলা কক্সবাজার

সাংগঠনিক মান

কর্মী

সর্বশেষ পড়ালেখা

বিএ ১ম বর্ষ কক্সবাজার কলেজ

শাহাদাতের স্থান

চট্টগ্রাম নেয়ার পথে সাতকানিয়ার কাছে


শহীদ জয়নাল আবেদীন চৌধুরী

ছবি অ্যালবাম: শহীদ জয়নাল আবেদীন চৌধুরী


শহীদ জয়নাল আবেদীন চৌধুরী

ছবি অ্যালবাম: শহীদ জয়নাল আবেদীন চৌধুরী