অনুপ্রেরণার মিনার শহীদ আবদুল মালেক

১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৬৯ সাল। মাত্র ২২ বছর। এই ছোট্ট জীবনে শহীদ আবদুল মালেকের একেকটি কর্ম যেন একেকটি ইতিহাস হয়ে আছে। তার কর্মময় জীবন ইসলামী আন্দোলনের প্রতিটি কর্মীর জন্যই অনুপ্রেরণা। তিনি জীবনে যেমন একটি সুন্দর ক্যারিয়ার তৈরি করেছিলেন, তেমনি ইসলমী আন্দোলনের প্রয়োজনে সে ক্যারিয়ার সেক্রিফাইস করে প্রমাণ করে দিয়ে গেছেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের কাছে সকল বাধা তুচ্ছ, সকল পিছুটান নিঃস্ব। ইসলামী আন্দোলনের একজন কর্মী হওয়ার কারণে ক্ষণে ক্ষণে তার মত পাঞ্জেরির প্রয়োজনও অনুভব করেছি।

শহীদ আবদুল মালেক : ইসলামী শিক্ষা আন্দোলনের মহানায়ক

শিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা মূলত মানুষের আত্মা, আধ্যাত্মিক ও মানসিক বিকাশ ঘটায়। যে শিক্ষা মনুষ্যত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধের চেতনাকে জাগ্রত করতে ব্যর্থ সে শিক্ষায় জাতির কোনো কল্যাণে তো আসেই না বরং একটি জাতিসত্তাকে দুর্বল করে ফেলবে খুব সহজেই। এমন একটি ক্রান্তিকালে ১৯৬৯ সালে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে চলমান ষড়যন্ত্র উপলব্ধি করতে পেরে শহীদ আবদুল মালেক এগিয়ে আসেন একটি সুন্দর সমাজ ও সুন্দর মানুষ তৈরির মেন্যুফেস্ট নিয়ে। জাতির সামনে পেশ করেন ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার রূপরেখা। শহীদ আবদুল মালেক দৃঢ়তার সাথে উদ্বেলিত কণ্ঠে গোটা জাতির কাছে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। অবশেষে কুপোকাত হয় ইসলামবিদ্বেষীদের সকল রাশভারী ষড়যন্ত্র ; বিজয়ী হয় শহীদ আবদুল মালেকের স্বপ্ন। সময়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আজও এদেশের মানুষ শহীদ আবদুল মালেককে খুব অনুভব করছেন। শহীদ আবদুল মালেককে হত্যা করে ঘাতকরা আবদুল মালেকের আদর্শকে মুছে দিতে পারেনি বরং শহীদ আবদুল মালেক আজ লক্ষ-কোটি ছাত্র- জনতার হৃদয়ের মানুষে পরিণত হয়েছেন। একটি আদর্শিক জাতি উপহার দিতে হলে শহীদ আবদুল মালেকের প্রস্তাবিত সেই শিক্ষানীতির অনুসরণ সময়ের অনিবার্য দাবি হয়ে উঠেছে।

নৃশংসতার নীরব সাক্ষী

১১ই মার্চ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ইতিহাসে এক রক্তাক্ত অধ্যায়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বহু চড়াই উৎরাই শিবিরকে অতিক্রম করতে হয়েছে। শিবিরের অগ্রযাত্রায় ভীত হয়ে শিবিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, জুলুম নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় ১৯৮২ সালের ১১ মার্চ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ওপর পরিচালনা করা (সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে) হয় এক নারকীয় লোমহর্ষক হত্যাযজ্ঞ। সে এক হৃদয়বিদারক মর্মন্তুদ ঘটনা যা কারবালার ইয়াজিদ বাহিনীর নৃসংশতাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

মানবজাতির পথনির্দেশক হিসেবে আল কুরআনের তাৎপর্য

৫. কুরআন তেলাওয়াত ঈমান বৃদ্ধি করে : কুরআন তেলাওয়াত বান্দাহর জন্য এমন উপকারী যে, তা তেলাওয়াত করলে ঈমান বৃদ্ধি পায়। এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন : “মুমিন তো তারা, যাদের অন্তরসমূহ কেঁপে ওঠে যখন আল্লাহকে স্মরণ করা হয়। আর যখন তাদের ওপর তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং যারা তাদের রবের ওপরই ভরসা করে।” (সূরা আনফাল : ২)

ঐতিহাসিক ১১ মে: কুরআনের মর্যাদা রক্ষায় মাইলস্টোন

কুরআন আল্লাহর সৃষ্টির মাঝে অন্যতম। ধরার বুকে সবচেয়ে দামি। কুরআনের সংস্পর্শে এসে মানুষ অনেক দামি হয়েছে, আর সে কারণেই মানুষ আশরাফুল মাখলুকাতের আসনে সমাসীন হয়েছে। হযরত ওমরের মতো ইসলামবিদ্বেষী ব্যক্তি কুরআনের সৈনিক হয়ে নিজের জীবনকে আল্লাহর রঙে রঙিন করেছেন, দ্বীনের ঝাণ্ডা হাতে তুলে নিয়ে দ্বীনকে বিজয়ী করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। আবার হযরত বেলালের মতো কৃতদাস মর্যাদার আসনে সমাসীন হয়েছেন।

পরিকল্পিত সময় ব্যবস্থাপনা পৌঁছে দিবে সাফল্যের স্বর্ণদুয়ারে

সময় ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য : সময় ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য হলো তথ্যপ্রযুক্তির কলাকৌশলের মাধ্যমে প্রাপ্ত সময়ের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করে পরিকল্পনা অনুযায়ী অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো। সময় ব্যবস্থাপনার অনেক রীতি, কৌশল, পদ্ধতি ও প্রযুক্তি বিকশিত হয়েছে। আজকের দিনে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে সময়কে কাজে লাগাতে পারি। বর্তমানে সময় ব্যবস্থাপনা জ্ঞানের শাখা হিসেবে বিকশিত হয়েছে।

পরিচ্ছন্ন থাকতে চাই শুধু সদিচ্ছা

ইসলাম একটি পরিচ্ছন্ন পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র এবং তিনি পবিত্রতা পছন্দ করেন। পবিত্র মনের অধিকারী ব্যক্তি পাপ ও মন্দকাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারে। পবিত্রতা মানুষের মন ও দেহে পরিতৃপ্তি সৃষ্টি করে,ভালো ও কল্যাণকর কাজের প্রতি অনুপ্রাণিত করে। আর সুস্থ ও সুন্দর থাকার জন্য পরিচ্ছন্নতার বিকপ্ল নেই। একজন পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি সত্য ও সুন্দরের অধিকারী হয় ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে। Beauty is truth, truth beauty সত্যই সুন্দর,সুন্দরই সত্য। সত্য- সুন্দর বলেই মানুষ সত্যবাদিতাকে পছন্দ করে মিথ্যাকে অপসৃত করে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে পরিচ্ছন্নতার প্রশংসা করেছেন এবং সত্যবাদীদেরকে আল্লাহর রহমত এবং ক্ষমা লাভকারীদের অন্তর্ভুক্ত বলে ঘোষণা করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন الطُّهُورُ شَطْرُ الْإِيمَانِ অর্থাৎ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অর্ধেক। মুসলিম :২২৩

রাসূলের সা. সাহিত্যপ্রেম ও আমাদের আত্মজিজ্ঞাসা

কাব্যচর্চা কোন নবীর কাজ নয়, তিনি মহাসত্য প্রচারের জন্য সরাসরি আল্লাহ কর্তৃক পরিচালিত হয়ে থাকেন। আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সা. সর্বযুগের সর্বকালের সেরানবী হিসেবে তিনিও পরিচালিত হয়েছেন সরাসরি আল্লাহর ওহির মাধ্যমে এবং তাঁকে দেয়া হয়েছে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মুজিজা পবিত্র আল কুরআনুল কারিম। সমকালীন আরবের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যের চেয়েও অনেক বেশি উঁচুমানের সাহিত্যিক মূল্যবোধ দিয়ে সাজানো হয়েছে এ পবিত্র গ্রন্থ।

জ্ঞানীদের দৃষ্টিতে বিশ্বনবী (সা.)

পবিত্র কুরআনে সুরা আম্বিয়ার ১০৭ নম্বর আয়াতে বিশ্বনবী হযরতমুহাম্মাদ (সা.)-কে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত বা মহাকরুণা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও সুরা আহজাবের ৫৬ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন, "আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরুদ পাঠান। হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর জন্যে রহমতের তরে দোয়া কর এবং তাঁর প্রতি সালাম পাঠাও।"

ঈদুল ফিতর ও আমাদের সংস্কৃতি

ঈদুল ফিতর একটি আরবি পরিভাষা হওয়া সত্ত্বেও আমাদের সমাজ, সংস্কৃতি ও ভাষায় এটি একাকার হয়ে গেছে। আরবি ভাষাবিদগণের দৃষ্টিতে ঈদুল ফিতর একটি যৌগিক পরিভাষা যা ঈদ ও ফিতর শব্দের সংমিশ্রণে গঠিত। আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদ অর্থ বারবার ফিরে আসা। তবে শব্দটি উৎসব অর্থে প্রসিদ্ধি পেয়েছে। এমনকি পবিত্র কুরআনেও শব্দটি আনন্দঘন উৎসব অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। ঈসা আ.-এর দোয়া প্রসঙ্গে