আল্লাহর প্রতিশ্রুতি পূরণে মুমিনের করণীয়

কুরআনের বাণী ‘আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তোমাদের মধ্য থেকে যারা ঈমান আনবে ও সৎকাজ করবে তাদেরকে তিনি ঠিক তেমনিভাবে খিলাফত দান করবেন যেমন তাদের পূর্বে অতিক্রান্ত লোকদেরকে দান করেছিলেন, তাদের জন্য তাদের দ্বীনকে মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করে দেবেন, যে দ্বীনটি আল্লাহ তাদের জন্য পছন্দ করেছেন, তাদের (বর্তমান) ভয়-ভীতির অবস্থাকে নিরাপত্তায় পরিবর্তিত করে দেবেন। তারা যেন শুধু আমার ইবাদত করে এবং আমার সাথে কাউকে শরিক না করে।’ (সূরা আন নূর ৫৫)

শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতা জীবন-সৌন্দর্যের নান্দনিক প্রতিচ্ছবি

শৃঙ্খলা এবং পরিচ্ছন্নতা মানবজীবন পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দু’টি উপাদান। এ দু’টি উপাদান জীবনকে সুন্দর করে, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখে, শৃঙ্খলিত রাখে, পবিত্র রাখে। সুন্দর এবং কল্যাণময় শান্তিপূর্ণ জীবনের জন্য যেমন শৃঙ্খলা প্রয়োজন তেমনি সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্যও প্রয়োজন পরিচ্ছন্নতা। প্রচলিত একটি কথা আছে তাহলো শৃঙ্খলাই শৃঙ্খলমুক্তির পথ। আরেকটি কথাও বর্তমানে খুব প্রচলিত, শৃঙ্খলাই জীবন। আসুন আমরা সুশৃঙ্খল জীবনের অধিকারী হই। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন নান্দনিক সুন্দর এক জীবন গড়ি। মহান আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন। আমিন।

আমরা শহীদি দরজা চাই

দুনিয়াকে রঙিনভাবে উপভোগ করার আয়োজন করছি। অথচ যে মৃত্যু মুহূর্তের মধ্যেই আমাদের এতোসব আয়োজনকে চুরমার করে দেবে, ধ্বংস করে দেবে সেই মৃত্যুকে নিয়ে অবশ্যই আমাদের ভাবা প্রয়োজন। মৃত্যু নিয়ে ভাবে না শুধু তারাই যারা গাফেল। তারাই শুধু মৃত্যুর পরের জীবনকে বিশ্বাস করেন না। তারা মনে করেন মৃত্যুর মাধ্যমেই সব শেষ। বিশ্বকবি আল্লামা ইকবাল (রহ) বলেছেন, গাফেল মনে করছে মৃত্যুর মাধ্যমেই বুঝি জীবনের অবসান ঘটে, অথচ এ মৃত্যু অনন্ত জীবনের সূচনা। ক্ষুদ্র সময়ে নগণ্য একটি জীবনের জন্য যদি আমরা বিভিন্ন স্বপ্ন বুনতে পারি। ছোট্ট এই জীবনসংসার সাজানোর জন্য যদি আমরা লড়াই করতে পারি তাহলে একটি অনন্ত জীবনের জন্য সে রকম আয়োজন কেন আমরা করেতে পারি না?

নিরক্ষরতা মুক্ত সমাজ গঠনে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

সাক্ষর শব্দের আভিধানিক অর্থ অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি। এখন সাধারণ অর্থে সাক্ষর বলতে পড়া,লেখা ও হিসাব করায় দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে মনে করা হয়। সাক্ষর ব্যক্তি যেন মাতৃভাষায় সহজে লেখা পড়তে ও বুঝতে পারে,মনের ভাব শুদ্ধ ভাষায় বলতে ও লিখতে পারে। দৈনন্দিন হিসাব-নিকাশ করতে ও লিখে রাখতে পারে। বিগত পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশে সাক্ষর ও সাক্ষরতার সংজ্ঞায় নানা পরিবর্তন ও বিবর্তন হয়েছে। বাংলাদেশে ‘সাক্ষরতা’ শব্দের প্রথম উল্লেখ দেখা যায় ১৯০১ সালে আদম শুমারির সরকারি প্রতিবেদনে

পথনির্দেশক হিসেবে আল কুরআনের তাৎপর্য

কুরআন শব্দের অর্থ: পাঠ করা, যা পাঠ করা হয়। আর পরিভাষায়-আল্লাহ তাআলা জিবরাইল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে সুদীর্ঘ ২৩ বছরে মানবজাতির হেদায়েত হিসেবে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর ওপর যে কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে তার নাম আল কুরআন।

একটি নীরব বিপ্লবের হাতছানি

এভাবে করে সময়ের সাথে সাথে ভাগ্নে একজন সত্যপ্রিয় মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ। আর স্বাভাবিক ভাবেই তার বুঝের আলোকে নির্দিষ্ট বয়সে পৌঁছানোর পরে তাকে ইসলামী আন্দোলনের ব্যাপারে অভ্যস্ত করে তোলা হবে নাসির মামার কাজ। ইসলামী আন্দোলনে অভ্যস্ত হয়ে গেলে লাখো ‘নাসির মামা’ তখন এ ভাগ্নের খোঁজ রাখবে।

বদর দিবস : অন্যায় অসত্যের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামের প্রেরণা

মাহে রমযানের ১৭তম দিবস ইসলাম ও মুসলমানদের ইতিহাসে অতীব তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এই দিনে সংঘটিত হয়েছিল ঐতিহাসিক বদরের যুদ্ধ। যে যুদ্ধে সত্যের স্বপক্ষে থাকা মুসলমানরা বিজয়ী হয়েছিলেন অশান্তি বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের বিপক্ষে। তাই বদর দিবস অত্যন্ত সম্মানিত একটি দিবস মুসলমানদের জন্য।

বিখ্যাত মনীষীদের দৃষ্টিতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. যেমন ছিলেন

Sir George Bernard Shaw in ‘The Genuine Islam,’ Vol. 1, No. 8, 1936. মুহাম্মদের ধর্মের প্রতি আমি সবসময় সুউচ্চ ধারণা পোষণ করি, কারণ এর চমৎকার প্রাণবন্ততা। আমার কাছে মনে হয় এটাই একমাত্র ধর্ম যেটা সদা পরিবর্তনশীল জীবনযাত্রার সাথে অঙ্গীভূত হওয়ার ক্ষমতা রাখে যা প্রত্যেক যুগেই মানুষের হৃদয়ে আবেদন রাখতে সক্ষম। আমি তাঁর (মুহাম্মদ) সম্বন্ধে পড়াশোনা করেছি- চমৎকার একজন মানুষ এবং আমার মতে খ্রিস্টবিরোধী হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে অবশ্যই মানবতার ত্রাণকর্তা বলতে হবে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা বনাম চলমান রাজনীতি

আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক আদর্শ জাতির কাছে বড় করে তুলে ধরতে হবে। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে সুস্থ বিতর্ক হওয়া উচিত যে আমরা কোন ধরণের রাষ্ট্র চাই, তার জন্য কোন ধরণের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ও পরিকাঠামোয় আমাদের আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক বিকাশ নিশ্চিত করা যায়। কিভাবে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জাতির অবস্থানকে সুসংহত করা যায়- সেই বিতর্কই এখন সবার আগে করা দরকার। পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায় পারিপার্শ্বিক ও আন্তর্জাতিক আর্থ- সামাজিক ও আগ্রাসন এবং আধিপত্য সম্পর্কে অবহিত হয়ে জাতিকে নিরাপত্তা কিভাবে দেয়া যেতে পারে, সেটাই হওয়া উচিত আমাদের রাজনৈতিক আদর্শের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। আমাদের সবার সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠবে নতুন বাংলাদেশ। আমরা ভবিষ্যতে কি হতে চাই. সেটাই হওয়া উচিত আমাদের রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়।

সুন্দর সমাজব্যবস্থার জন্য প্রয়োজন কুরআনি সমাজ প্রতিষ্ঠা

কুরআনি সমাজ কায়েম করার জন্য যারা চেষ্টা প্রচেষ্টা করছেন তাদেরকে রাসূলে কারিম (সা)-এর প্রশিক্ষণ ও দাওয়াতি কাজের পদ্ধতি থেকে শিক্ষা নিতে হবে। আল্লাহর রাসূল খুব লম্বা বক্তব্য প্রদান করতেন না। তিনি সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক ভাষায় হেদায়েত দিতেন। একই সাথে অনেক বিষয় বলতেন না। এক সময় এক বিষয়ে গুরুত্ব দিতেন এবং তাতে অভ্যস্ত করে তুলতেন।