রাষ্ট্র বা সমাজ পরিচালনায় প্রয়োজন নৈতিকতাসম্পন্ন, দক্ষ ও পেশাগত নেতৃত্ব

নেতৃত্ব একটি শিল্প। সমাজের প্রত্যেকটি বিষয়ের সাথে নেতৃত্বের সম্পর্ক ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। দক্ষ এবং নৈতিক নেতৃত্ব ছাড়া সুন্দর সমাজ পরিচালনা দুরূহ ব্যাপার। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয়, বাণিজ্যিক এবং পেশাগতসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা সমভাবে সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নেতৃত্বের ইংরেজি প্রতিশব্দ Leadership (লিডারশিপ)। ইংরেজি ‘‘Lead’’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো ‘‘To guide, conduct, Direct and Precede’’ অর্থাৎ পথ প্রদর্শন করা, চালনা করা, নির্দেশ দেয়া ও অনুগামী হওয়া। নেতা হলেন যিনি একদল মানুষকে কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিচালনা করেন। তাই Leadershipবা নেতৃত্ব বলতে পথপ্রদর্শন বা পরিচালনার কলাকৌশলকে বোঝায়। Napoleon Bonaparte এর মতে “A leader is dealer of hope” দক্ষ নেতৃত্ব মানেই ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সর্বোপরি একটি দেশ বা জাতি হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতা অর্জন করা। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় আমরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অদক্ষ, আনাড়ি। নেতৃত্বের ব্যাপারে যে কথাটি আসে তা হলো, ‘মানুষ পরিচালনা করা’ (সড়ারহম ঢ়বড়ঢ়ষব)। এখন প্রশ্ন হলো, কিভাবে মানুষকে পরিচালনা করবেন? মানুষ পরিচালনার পাঁচটি উপায় আছে

সন্ত্রাস প্রতিরোধে মহানবী সা:-এর শিক্ষাদর্শন

সন্ত্রাস প্রতিরোধে তরুণ বয়সে মুহাম্মদ সা. যে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তার বাস্তবায়ন তার সমগ্র জীবনে পরিলক্ষিত হয়। তিনি নবুওয়ত পাওয়ার পরও এই প্রতিজ্ঞার কথা ভুলেননি। তিনি নবুওয়ত প্রাপ্তির পর কোন একদিন বলেন : “আজও যদি কোন উৎপীড়িত ব্যক্তি ‘হে ফুযুল প্রতিজ্ঞার ব্যক্তিবর্গ’ বলে ডাক দেয়, আমি অবশ্যই তার ডাকে সাড়া দেবো। কারণ, ইসলাম এসেছে ন্যায়কে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং উৎপীড়িত, অত্যাচারিতকে সাহায্য করতে।” এভাবে মহানবী সা. মক্কানগরী থেকে অন্যায়, অত্যাচার ও সন্ত্রাস দূর করে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং

সমাজসেবায় রাসুল (সাঃ) এর আশ্চার্যজনক কৌশল

মদপান, জুয়াখেলা, চক্রবৃদ্ধিহারে সুদ গ্রহণ করা, গোত্রীয় যুদ্ধে লিপ্ত থাকা, নানা ধরনের কোন্দল ও দলাদলি করা, পণ্যদ্রব্যের মত দাস-দাসীদের হাট-বাজারে বিক্রয়, দাসদাসীদের উপপত্মী হিসেবে গ্রহণ, লুণ্ঠন, নরবলি, দেবমূর্তির সাথে পরামর্শ, আভিজাত্যের দম্ভ, আত্মম্ভরিতা, পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতা, পৌত্তলিকতা, ত্রিত্ববাদে বিশ্বাস স্থাপন, বিভিন্ন নক্ষত্ররাজীকে খোদা বলে পূজা করা, নানা ধরনের গাছকে সিজদা করা, সুদ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে সে ব্যক্তির স্ত্রী পুত্র, কন্যা সকলে সুদ দাতার অধীনে চলে যাওয়া- এ ধরনের অসংখ্য অন্যায় কাজ আরব সমাজে বিরাজমান ছিলো।

ইসলামে মিডিয়ার গুরুত্ব

আমরা যারা ইসলামকে ভালোবাসি এবং ইসলামের প্রসার কামনা করি, তারা বর্তমান বাস্তবতায় মিডিয়ার প্রতি গুরুত্ব দিতে বাধ্য। বর্তমানে এমন মানুষ একটিও খুঁজে পাওয়া যাবে না যিনি টিভি দেখেন না বা রেডিও শোনেন না কিংবা খবরের কাগজ পড়েন না। মিডিয়া এখন আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে ইন্টারনেট সেবা চালু হওয়ায়। এই ইন্টারনেটও একটি এ যুগের গুরুত্বপূর্ণ মিডিয়া। এ যুগে যে কোনো তথ্যের জন্য মানুষ ইন্টারনেটের শরণাপন্ন হচ্ছে। বহির্বিশ্বের সকল ছাত্র-ছাত্রী প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য ছুটে আসে ইন্টারনেটের দুয়ারে।

কালজয়ী নেতৃত্বের মডেল ! রাষ্ট পরিচালনায় মুহাম্মদ (সাঃ ) 

মুসলমানদের পারস্পরিক অধিকার সম্পর্কে মহানবী (সা)-এর নির্দেশ : হজরত আবু মুসা আশয়ারি (রা) বর্ণনা করেন, ‘একজন মুসলমান অন্য মুসলমানের জন্য ইমারতের মতো, যার একটি অংশ অপর অংশটিকে শক্তিশালী করে।’ (সহি বুখারি ও মুসলিম; মেশকাত ৪২২ পৃষ্ঠা)

বাংলাদেশের স্বাধীনতা বনাম চলমান রাজনীতি

আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বর্তমানে এমন হয়ে দাড়িয়েছে যে দেশেন রাজনৈতিক দলগুলো একে অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে রাজনৈতিকপ্রতিহিংসার মাধ্যমে। আর সেই প্রতিহিংসার বলীর পাঠাঁ হচ্ছে দেশ ও দেশের অসহায় জনগন। কিন্তু আমাদের রাজনীতিবিদরা অনেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেদের আখের গোছানোকেই রাজনীতির রাজপথে বিচরণের প্রধান লক্ষ্য মনে করে। তাই আমাদের দেশে রাজনীতি হয়ে ওঠে তোষণ, শোষণ আর ক্ষমতার অপব্যবহারের হাতিয়ার।

অবরুদ্ধ বাংলাদেশ : মুক্তির জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত প্রয়াস

১৯৭১ সালে এ দেশ পাকিস্তানের কাছে অবরুদ্ধ ছিল। স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের পর বাকশালের যাঁতাকলে, ১৯৯১ সাল পর্যন্ত স্বৈরশাসনের কবলে আর ১/১১তে তত্ত্বাবধায়কের নামে পুনরায় স্বৈরশাসনের আবির্ভাব। দেশের সচেতন জনগণ তাদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করে এ সকল অপশক্তির হাত থেকে নিজেদের মুক্তি নিশ্চিত করে। ২০০৮ সালে ৯০ দিনের মধ্যে জন প্রতিনিধির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা থাকলেও এক অশুভ শক্তির ইশারায় দেশ হাঁটা শুরু করেছিল অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে।

যে কারণে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিতর্কিত

‘আমরা বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী জনগণ কর্তৃক আমাদিগকে প্রদত্ত কর্তৃত্বের মর্যাদা রক্ষার্থে, নিজেদের সমন্বয়ে যথাযথভাবে একটি গণপরিষদরূপে গঠন করিলাম, এবং পারস্পরিক আলোচনা করিয়া, এবং বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করণার্থে (সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রীরূপে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করিলাম)।’

যুদ্ধাপরাধের বিচার এবং সরকারের উদ্দেশ্য কাজী আনাস ইবনে কারীম

মনে হয় এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে অনার্স, মাস্টার্স পাসের প্রয়োজন নেই, অন্তত জীবনে যে একবার স্কুলে যায়নি তারও বুঝতে কষ্ট হবে না। জানি না আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবীরা এবং যারা যুদ্ধাপরাধ বিচার নিয়ে প্রতিনিয়ত নিজেকে ব্যতিব্যস্ত রাখে তারা কোন পর্যায়ের ব্যক্তি।এখন একটু ভাবুন আমরা এই আধুনিক বিশ্বের কোন প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি। তারপরেও কি আমরা বলব, এই দেশের মানুষ যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় এবং যুদ্ধাপরাধের বিচারের লক্ষ্যেই মানুষ এই সরকারকে ভোট দিয়েছে এবং এটাই জাতির দাবি। এখানে আরো একটা প্রশ্নের কি অবতারণা হয় না যে ১৪ কোটি মানুষ ১৯৭১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ঘুমাচ্ছন্ন ছিল? অথবা এই সরকার কি অতীতে ক্ষমতায় আসেনি? অথবা এই সরকার ছিল তাদের এই প্রতিশ্রুতি। জাতির কাছে আমার প্রশ্ন কেন আমরা এই বিষয়গুলো এড়িয়ে যাই।

ইসলামের দৃষ্টিতে সন্ত্রাস ও চরমপন্থা

চরমপন্থা শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Extremism, যার অর্থ হলো Holding extreme views বা চরম মনোভাব পোষণকারী বা উগ্রপন্থী। এ শব্দটার ইংরেজি হলো Extremist যার অর্থ হলো Diehard fantic, militant vadical, terrorist, ultraconservative, zealot। অতএব চরমপন্থা সমার্থক অর্থবোধক শব্দ। সন্ত্রাস শব্দের অর্থ হলো অতিশয় ত্রাস, ভয়ের পরিবেশ। আর সন্ত্রাসবাদ হলো রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের জন্য অত্যাচার, হত্যা প্রভৃতি হিংসাত্মক ও ত্রাসজনক কর্ম অবলম্বন। সন্ত্রাস শব্দটিকে নানা জন নানা অর্থে ব্যবহার করে থাকেন সে অর্থে স্বাধীনতা সংগ্রামকে প্রতিপক্ষ চরমপন্থা ও সন্ত্রাস হিসেবে যেমন আখ্যায়িত করে থাকেন ঠিক তেমনি স্বাধীনতাকামীরা আবার তাদের প্রতিপক্ষকে চরমপন্থা অবলম্বনকারী, সন্ত্রাস বিস্তারকারী অথবা মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন।