উন্নত চরিত্র গঠনে রাসূল সা. এর আদর্শ

সিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আখলাক ও চরিত্র। উম্মুল মুমিনিন আয়েশাকে রা. রাসূলের আখলাক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, কুরআন মজিদই হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আখলাক। অর্থাৎ রাসূলের গোটা জীবন ছিল কুরআন মজিদের ব্যবহারিক তাফসির। এ প্রসঙ্গে খোদ কুরআন মজিদে ইরশাদ হয়েছে, নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রে অধিষ্ঠিত। (সূরা : কলম)

মানবসম্পদ উন্নয়নে ইসলামের ভূমিকা

আল্লাহ তাআলা মানুষকে অসংখ্য নিআমাত দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলার এ নিআমতসমূহের বিনিময়ে তাঁর আদেশ পালন করা হলো কৃতজ্ঞা জানানো। আল্লাহ তাআলার আদেশ মেনে চললে মানুষ কোনো খারাপ কাজ করতে পারবে না। ফলে তার চরিত্র সুন্দর হবে। আল্লাহ তাঁর নিআমত আরো অধিকাহারে শোকরকারীকে দান করবেন। যেমন তিনি বলেছেন, যদি তোমরা শোকর করো, তাহলে অবশ্যই আমি তোমাদের নিআমত বাড়িয়ে দেববো। ‘ আল-কুরআন, ১৪ : ৭’। যারা আল্লাহ তাআলার নিআমতের শোকর করে তাদের পক্ষেই অন্যান্যদের উপকার স্বীকার করা এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা সম্ভব। কৃতজ্ঞ মানুষকে আল্লাহ তাআলা যেমন ভালবাসেন তেমনি মানুষও কৃতজ্ঞ মানুষের জন্য আরও কিছু করার আগ্রহ পোষণ করে থাকেন। ইসলামের শিক্ষা মানুষকে কৃতজ্ঞা জ্ঞাপন অভ্যস্ত করে তোলে। এতে ব্যক্তি সর্বজনপ্রিয় ও শ্রদ্ধেয় হয়ে ওঠে।

বিখ্যাত মনীষীদের দৃষ্টিতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. যেমন ছিলেন

Sir George Bernard Shaw in ‘The Genuine Islam,’ Vol. 1, No. 8, 1936. মুহাম্মদের ধর্মের প্রতি আমি সবসময় সুউচ্চ ধারণা পোষণ করি, কারণ এর চমৎকার প্রাণবন্ততা। আমার কাছে মনে হয় এটাই একমাত্র ধর্ম যেটা সদা পরিবর্তনশীল জীবনযাত্রার সাথে অঙ্গীভূত হওয়ার ক্ষমতা রাখে যা প্রত্যেক যুগেই মানুষের হৃদয়ে আবেদন রাখতে সক্ষম। আমি তাঁর (মুহাম্মদ) সম্বন্ধে পড়াশোনা করেছি- চমৎকার একজন মানুষ এবং আমার মতে খ্রিস্টবিরোধী হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে অবশ্যই মানবতার ত্রাণকর্তা বলতে হবে।

বালাকোট থেকে বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক পর্যালোচনা

চরম মুসলিমবিদ্বেষী শিখ ও ইংরেজ সরকার মুসলমানদের এ প্রচেষ্টায় ভীত হয়। তারা ছলেবলে কলা-কৌশলে উদীয়মান নবগঠিত এ মুসলিম প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। আর এ জন্য মোটা অঙ্কের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে সীমান্তবর্তী কিছু বিশ্বাসঘাতকের সহায়তায় ১৮৩১ সালের ৬ মে ঐতিহাসিক বালাকোটের ময়দানে ইংরেজ সমর্থনপুষ্ট শিখদের বিশাল বাহিনী তাদের ষড়যন্ত্র সফল করে। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার এপ্রচেষ্টা সাময়িকভাবে বাধাপ্রাপ্ত হলেও এ ঘটনাটি ইতিহাসে সুদূরপ্রসারী প্রভাব রেখে যেতে সমর্থ হয়েছে।

ইসলামে শ্রমিকের মর্যাদা

এ দেশে নারায়ণগঞ্জে প্রথম মে দিবস পালিত হয় ১৯৩৮ সালে। তখন ব্রিটিশ শাসনামল। তারপর পাকিস্তান আমলেও মে দিবস যথাযথ উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে পালিত হয়েছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের শাসন থেকে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে বিপুল উদ্দীপনা নিয়ে মে দিবস পালিত হয়। ঐ বছর সদ্য স্বাধীন দেশে পয়লা মে সরকারি ছুটি ঘোষিত হয়। তারপর থেকে আজও পয়লা মে সরকারি ছুটির দিন বহাল আছে।

শপথের আলোকে আমাদের জীবন

বাইয়াত বা শপথ ইসলামী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। ইসলামী আন্দোলনের সফলতার জন্য বাইয়াতের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বাইয়াতবিহীন মৃত্যু জাহিলিয়াতের মৃত্যু। বাইয়াত মানুষের জীবনকে সুন্দর, জ্ঞানগত পরিপূর্ণতা, মানুষের কল্যাণকামী ও উন্নত আমলের ক্ষেত্রে অন্যতম ভূমিকা পালন করে। রাসূল (সা)-এর কাছ থেকে সাহাবীগণ বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে বাইয়াত নিয়েছেন। ১) বাইয়াতে রিদওয়ান ২) আকাবার শপথ ৩) হুদায়বিয়ার শপথ ও ৪) মক্কা বিজয়।

কালজয়ী নেতৃত্বের মডেল ! রাষ্ট পরিচালনায় মুহাম্মদ (সাঃ ) 

মুসলমানদের পারস্পরিক অধিকার সম্পর্কে মহানবী (সা)-এর নির্দেশ : হজরত আবু মুসা আশয়ারি (রা) বর্ণনা করেন, ‘একজন মুসলমান অন্য মুসলমানের জন্য ইমারতের মতো, যার একটি অংশ অপর অংশটিকে শক্তিশালী করে।’ (সহি বুখারি ও মুসলিম; মেশকাত ৪২২ পৃষ্ঠা)

বাংলাদেশের স্বাধীনতা বনাম চলমান রাজনীতি

আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বর্তমানে এমন হয়ে দাড়িয়েছে যে দেশেন রাজনৈতিক দলগুলো একে অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে রাজনৈতিকপ্রতিহিংসার মাধ্যমে। আর সেই প্রতিহিংসার বলীর পাঠাঁ হচ্ছে দেশ ও দেশের অসহায় জনগন। কিন্তু আমাদের রাজনীতিবিদরা অনেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেদের আখের গোছানোকেই রাজনীতির রাজপথে বিচরণের প্রধান লক্ষ্য মনে করে। তাই আমাদের দেশে রাজনীতি হয়ে ওঠে তোষণ, শোষণ আর ক্ষমতার অপব্যবহারের হাতিয়ার।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা বনাম চলমান রাজনীতি

আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক আদর্শ জাতির কাছে বড় করে তুলে ধরতে হবে। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে সুস্থ বিতর্ক হওয়া উচিত যে আমরা কোন ধরণের রাষ্ট্র চাই, তার জন্য কোন ধরণের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ও পরিকাঠামোয় আমাদের আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক বিকাশ নিশ্চিত করা যায়। কিভাবে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জাতির অবস্থানকে সুসংহত করা যায়- সেই বিতর্কই এখন সবার আগে করা দরকার। পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায় পারিপার্শ্বিক ও আন্তর্জাতিক আর্থ- সামাজিক ও আগ্রাসন এবং আধিপত্য সম্পর্কে অবহিত হয়ে জাতিকে নিরাপত্তা কিভাবে দেয়া যেতে পারে, সেটাই হওয়া উচিত আমাদের রাজনৈতিক আদর্শের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। আমাদের সবার সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠবে নতুন বাংলাদেশ। আমরা ভবিষ্যতে কি হতে চাই. সেটাই হওয়া উচিত আমাদের রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়।