সুন্দর সমাজব্যবস্থার জন্য প্রয়োজন কুরআনি সমাজ প্রতিষ্ঠা

কুরআনি সমাজ কায়েম করার জন্য যারা চেষ্টা প্রচেষ্টা করছেন তাদেরকে রাসূলে কারিম (সা)-এর প্রশিক্ষণ ও দাওয়াতি কাজের পদ্ধতি থেকে শিক্ষা নিতে হবে। আল্লাহর রাসূল খুব লম্বা বক্তব্য প্রদান করতেন না। তিনি সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক ভাষায় হেদায়েত দিতেন। একই সাথে অনেক বিষয় বলতেন না। এক সময় এক বিষয়ে গুরুত্ব দিতেন এবং তাতে অভ্যস্ত করে তুলতেন।

অবরুদ্ধ বাংলাদেশ : মুক্তির জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত প্রয়াস

১৯৭১ সালে এ দেশ পাকিস্তানের কাছে অবরুদ্ধ ছিল। স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের পর বাকশালের যাঁতাকলে, ১৯৯১ সাল পর্যন্ত স্বৈরশাসনের কবলে আর ১/১১তে তত্ত্বাবধায়কের নামে পুনরায় স্বৈরশাসনের আবির্ভাব। দেশের সচেতন জনগণ তাদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করে এ সকল অপশক্তির হাত থেকে নিজেদের মুক্তি নিশ্চিত করে। ২০০৮ সালে ৯০ দিনের মধ্যে জন প্রতিনিধির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা থাকলেও এক অশুভ শক্তির ইশারায় দেশ হাঁটা শুরু করেছিল অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে।

যে কারণে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিতর্কিত

‘আমরা বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী জনগণ কর্তৃক আমাদিগকে প্রদত্ত কর্তৃত্বের মর্যাদা রক্ষার্থে, নিজেদের সমন্বয়ে যথাযথভাবে একটি গণপরিষদরূপে গঠন করিলাম, এবং পারস্পরিক আলোচনা করিয়া, এবং বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করণার্থে (সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রীরূপে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করিলাম)।’

ইসলামী রাজনীতি বন্ধের ব্যর্থ প্রচেষ্টা!

কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ পল্লীতে হামলা হলো, দোষারোপ করা হলো ইসলামপন্থীদের। অথচ ভিকটিম বৌদ্ধরা বলেছেন আমরা জানি কারা এ ঘটনা করেছে, আমাদের সামনে অপরাধীরা ঘুরাফেরা করছে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না। মূলত মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম এদেশের এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার মাধ্যমে বিশ্বসম্প্রদায়ের নিকট মুসলমানদেরকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিহ্নত করে ইসলামের সুমহান আদর্শের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য এটি একটি পরিকল্পনার অংশ মাত্র।

যুদ্ধাপরাধের বিচার এবং সরকারের উদ্দেশ্য কাজী আনাস ইবনে কারীম

মনে হয় এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে অনার্স, মাস্টার্স পাসের প্রয়োজন নেই, অন্তত জীবনে যে একবার স্কুলে যায়নি তারও বুঝতে কষ্ট হবে না। জানি না আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবীরা এবং যারা যুদ্ধাপরাধ বিচার নিয়ে প্রতিনিয়ত নিজেকে ব্যতিব্যস্ত রাখে তারা কোন পর্যায়ের ব্যক্তি।এখন একটু ভাবুন আমরা এই আধুনিক বিশ্বের কোন প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি। তারপরেও কি আমরা বলব, এই দেশের মানুষ যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় এবং যুদ্ধাপরাধের বিচারের লক্ষ্যেই মানুষ এই সরকারকে ভোট দিয়েছে এবং এটাই জাতির দাবি। এখানে আরো একটা প্রশ্নের কি অবতারণা হয় না যে ১৪ কোটি মানুষ ১৯৭১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ঘুমাচ্ছন্ন ছিল? অথবা এই সরকার কি অতীতে ক্ষমতায় আসেনি? অথবা এই সরকার ছিল তাদের এই প্রতিশ্রুতি। জাতির কাছে আমার প্রশ্ন কেন আমরা এই বিষয়গুলো এড়িয়ে যাই।

আল্লাহর সার্বভৌমত্বের কথা বলা কি অপরাধ?

এই বিশাল পৃথিবীর আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব কিছুর মালিক আল্লাহ্। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবাই আল্লাহর প্রশংসা করছে। তিনি সমস্ত রাজ্যের মালিক। তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। নিয়ন্ত্রণও করছেন তিনিই। তারই বিধান আসমান এবং জমিনের সর্বত্র বিদ্যমান। চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র, আকাশ, বাতাস তারই নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছে। এ সবকিছুকে নিয়েই মহান আল্লাহর বিশাল রাজত্ব। এখানে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যমান। তার রাজত্বে তিনি নিরঙ্কুশ। তার কোন অংশীদার নেই, তিনি লা শরিক। তিনি কাউকে জন্ম দেন নাই, কেউ তাকে জন্ম দেয়নি। কেউ তার সমকক্ষ নয়।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমস্যা স্রষ্টাকে ভুলে যাওয়া

সত্যিকার অর্থেই বেশির ভাগ মানুষ বাস্তবে স্রষ্টাকে ভুলে গিয়েছে। ইউরোপ-আমেরিকায় নাস্তিকের সংখ্যা অনেক। রাশিয়া পূর্বে অফিসিয়ালি নাস্তিক ছিল। এখনও সেখানে নাস্তিকতার হার কম নয়, বরং অনেক হবে। অন্যদিকে যারা বিশ্বাসী বলে দাবী করে তাদের মধ্যেও অনেকে সন্দেহবাদী (ংশবঢ়ঃরপ)। অর্থাৎ বলবে না যে স্রষ্টা নেই, কিন্তু বাস্তবে স্রষ্টাকে স্মরণ করবে না বা তার আদেশ মেনে চলবে না। স্রষ্টাকে মেনে চলবে এরকম লোকের সংখ্যা খুব কম।

পৌত্তলিকদের ছোবলে দেশের তরুণ যুবসমাজ

বর্ষবরণের একটি অনুষ্ঠান হিসেবে ইদানীং শুরু হয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রা। এটা বর্ষবরণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান। মঙ্গল শোভাযাত্রা প্রথম শুরু হয়েছে ১৯৮৯ সালে, চারুকলার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে। মঙ্গল শোভাযাত্রায় থাকে বিশাল আকারের রাজা-রানীর পুতুল ও পেঁচাসহ নানা ধরনের পশু-পাখির মূর্তি। এসব মূর্তিকে সাথে নিয়ে বাদ্যের তালে তালে এগিয়ে যায় শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রায় যারা অংশগ্রহণ করে তাদের অনেকেই পরে নানা ধরনের মুখোশ।

মধ্যযুগের বর্বরতা ও ইসলামের স্বর্ণযুগ

হেফাজতে ইসলামের শীর্ষনেতা আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, তাদের দাবিগুলো অরাজনৈতিক এবং যেকোনো মুসলিমের উচিত তা সমর্থন করা। কারণ ইসলামের মর্যাদা রক্ষার জন্যই দাবিগুলো পেশ করা হয়েছে। তাদের দাবির মধ্যে প্রধান দুটি দাবি হচ্ছে : সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর দৃঢ়বিশ্বাস ও অবিচল আস্থা’ পুনঃস্থাপন ও ইসলামের অবমাননার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করে আইন প্রণয়ন। তাদের আরো দু’টি দাবিও গুরুত্বপূর্ণ, একটি হচ্ছে বর্তমান সরকারের প্রণীত নারীনীতি ও শিক্ষানীতি বাতিল করা। সেকুলার ঘরানার কিছু নারী-পুরুষ হেফাজতে ইসলামের দাবিগুলোকে নারীস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাবিরোধী ‘মধ্যযুগীয় বর্বরতা’ বলে অপপ্রচার শুরু করেছেন। আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী আরো বলেছেন, হেফাজতে ইসলাম ঘোষিত ১৩ দফা দাবিকে মধ্যযুগীয় বলার মানে পুরো ইসলাম ধর্ম ও মুসলমানদের নিয়ে বিদ্রƒপ করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।

ইসলামের দৃষ্টিতে সন্ত্রাস ও চরমপন্থা

চরমপন্থা শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Extremism, যার অর্থ হলো Holding extreme views বা চরম মনোভাব পোষণকারী বা উগ্রপন্থী। এ শব্দটার ইংরেজি হলো Extremist যার অর্থ হলো Diehard fantic, militant vadical, terrorist, ultraconservative, zealot। অতএব চরমপন্থা সমার্থক অর্থবোধক শব্দ। সন্ত্রাস শব্দের অর্থ হলো অতিশয় ত্রাস, ভয়ের পরিবেশ। আর সন্ত্রাসবাদ হলো রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের জন্য অত্যাচার, হত্যা প্রভৃতি হিংসাত্মক ও ত্রাসজনক কর্ম অবলম্বন। সন্ত্রাস শব্দটিকে নানা জন নানা অর্থে ব্যবহার করে থাকেন সে অর্থে স্বাধীনতা সংগ্রামকে প্রতিপক্ষ চরমপন্থা ও সন্ত্রাস হিসেবে যেমন আখ্যায়িত করে থাকেন ঠিক তেমনি স্বাধীনতাকামীরা আবার তাদের প্রতিপক্ষকে চরমপন্থা অবলম্বনকারী, সন্ত্রাস বিস্তারকারী অথবা মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন।