উত্তর :
আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশ। এখানকার প্রত্যেকটি খাত-উপখাতেই বহুমাত্রিক সমস্যা যেমন প্রকট তেমনি প্রবল সম্ভাবনাও রয়েছে। শিক্ষা এমনই একটি খাত, যার উপর অনেকাংশই অন্য খাতসমূহের উন্নয়ন নির্ভর করে। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বাংলাদেশে সুষ্ঠু ধারার নিয়মতান্ত্রিক একটি ছাত্রসংগঠন। এটি বাংলাদেশের প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। সঙ্গত কারণেই শিক্ষা খাতের সাম্রগ্রিক উন্নয়নে এর বহুমাত্রিক কর্মসূচী ও কার্যক্রম রয়েছে, যা এর আওতা ও সামর্থ্যের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়ে থাকে। উল্লেখ্য, ইসলামী ছাত্রশিবির রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্ধারণী বা নীতি বাস্তবায়নকারী কোন কর্তৃপক্ষ নয়। তাই এটি প্রয়োজন ও যৌক্তিকতা বিবেচনায় এনে শিক্ষাসহ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সরকার কর্তৃক গৃহীত নীতি/পদক্ষেপ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমর্থন-সহযোগিতা কিংবা বাতিলের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে পারে। এদিক থেকে বলা যায়, এটি একটি ``pressure Group`` হিসেবে ভুমিকা পালন করে থাকে। বাংলাদেশের শিক্ষার উন্নয়নে ইসলামী ছাত্রশিবির তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও পাচঁদফা কর্মসূচী কে সামনে রেখে নিম্নোক্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
- মেধাবী ও গরিব শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান
- কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা প্রদান
- ক্যারিয়ার গাইড লাইন
- ইউথ সামিট
- শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত সমষ্যা বিশেষ করে আর্থিক সমস্যা নিরসনে লজিং/টিউশন/মেসের ব্যবস্থাকরা এবং প্রয়োজনে সামর্থ্যানুযায়ী করজে হাসানা প্রদান
- কিশোরকণ্ঠ, Youth Wave--সহ বিভিন্ন প্রকাশনার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মানসিক ও আদর্শিক বিকাশে সহায়তা করা
- ছাত্র সংবাদ Students Views -সহ বিভিন্ন প্রকাশনার মাধ্যমে দেশের সমসাময়িক বিশেষ করে শিক্ষা বিষয়ক সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করে তার যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত সমাধানের জন্য সপারিশ প্রদান
- ছাত্রসমাজের অধিকার আদায়ে ‘‘চাপ সৃষ্টিকারী গ্রুপ’’ হিসেবে ভূমিকা পালন
- সংগঠনের প্রত্যেক শাখা-উপশাখা-সেল পর্যায়ে ল্যান্ডিং লাইব্রেরি সস্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানজগতের প্রসারের সুযোগ সৃষ্টি
- মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বিজ্ঞান পাঠ্যসূচির সহায়ক হিসেবে সম্পূর্ণ সচিত্র রেফারেন্স করার মতো বিজ্ঞান সিরিজের প্রন্থ প্রকাশ, Tense Guide ও গাণিতিক সূত্র প্রভৃতি প্রকাশ
- বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিকভাবে নিবার্চিত হয়ে ছাত্রসমাজের বাস্তব সমস্যা সমাধানের কার্যকর নেতৃত্ব প্রদান
- উচ্চ শিক্ষাস্তরের শিক্ষার্থীদের নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় সমস্যা সমাধানের জন্য দক্ষ মানব সম্দ তৈরি এবং প্রকৃত অর্থে Knowledge Society প্রতিষ্ঠায় পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন
- শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টিতে নিয়মিত Moral Development Program পরিচালনা ও তত্ত্বাবধান
- শিক্ষার্থীদের মাঝে সুনাগরিকের গুণাবলি বৃদ্ধিতে বিজয় i¨vwj, স্বাধীনতা দিবস আলোচনা সভা, আন্তর্জাতাাক মাতৃভাষা দিবস বিতর্ক, আন-: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিতর্ক প্রভৃতি আয়োজন
- শিক্ষার্থীদের সুস্বাস'্য গঠন ও রক্ষায় নিয়মিত শরীর চর্চায় উৎসাহ প্রদান, তত্ত্বাবধান ও খেলাধুলা আয়োজন
- শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পারফরম্যান্সের উত্তরোত্তর উন্নতির জন্য পরিকল্পিত উপায়ে নিবিঢ় তত্ত্বাবধান
- পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সমূহে ভর্তির ক্ষেত্রে বিড়ম্বনা/ভয়/সংশয় নিরসনে পরামর্শ প্রদান ও সুষ্ঠু ধারার কোচিং পরিচালনা
এছাড়া ইসলামী ছাত্রশিবির এর লক্ষ উদ্দেশ্য ও পাচঁদফা কর্মসূচীর বিত্তিতে পর্যায়ক্রমে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী নিম্নোক্ত কার্যক্রম পরিচালনা কারার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
১. সামুগ্রিকভাবে চলমান কার্যক্রম সমূহের প্রসার ঘটানো
২. ইস্যুভিত্তিক দাবি আদায়ে কর্মসূচী গ্রহণ ও বাস-বায়ন।
ইস্যুসমূহ নিম্নরূপ:-
- বিশ্ববিদ্যালয়/কলেজের আবাসন সংকট নিরসন
- হল/হোস্টেল নির্মাণ
- শিক্ষা উপকরণের দাম কমানো
- বেতন-ফি হ্রাস
- গ্রন্থাগারের মানোন্নয়ন/বই ও জার্নাল বৃদ্ধি
- শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকরণ
- তথ্যপ্রযুক্তি/ইন্টারনেটের ব্যবহার সহজলভ্যকরণ
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধি
- অবকাঠামোগত উন্নয়ন
- প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ
- যথাসময়ে পাঠ্যকুস-ক প্রকাশ, সংস্করণ, পরিমার্জন ও বিদ্যালয়ে/ শিক্ষার্থীদের হাতে প্রেরণ
- শিক্ষাঙ্গনকে ধর্মঘট/হরতাল/অবরোধমুক্ত রাখা
- ভর্তিবানিজ্য ও ভর্তির ক্ষেত্রে অনিয়ম-দূর্নীতি বন্ধকরণ
- মেধার ভিত্তিতে আবাসিক হল/ হোস্টেলের সিটের সুষ্ঠু বন্টন নিশ্চতকরণ
- উচ্চ শিক্ষাস-রে গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে কোটাপ্রথা বাতিল
- কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার
- প্রয়োজনানুপাতে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান/ ভবন নির্মাণ
- প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম পর্যন- উন্নীতকরণ
- শিক্ষাখাতে বাজেট বৃদ্ধি ও এর সুষম ব্যবহার নিশ্চিতকরণ
- বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রন'াগারে ডিজিটাল ক্যাটালগ সিস্টেম চালুকরণ
- শিক্ষার সর্বস-রে কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলককরণ
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবৈধ রাজনৈতিক হস-ক্ষেপ বন্ধকরণ
- একমূখী শিক্ষার নামে মাদ্রাসা/ইসলামী শিক্ষা বন্ধের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করণ
- শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান
- শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বৃদ্ধি
- সিম্নমানের নোট-গাইড ও কোচিং বানিজ্য বন্ধকরণ
- শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাস, চাদাঁবাজি, টেন্ডারবাজি ও সেশনজট মুক্তকরণ
- শিক্ষাঙ্গনে লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ
- ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের নামে ধর্মহীন শিক্ষানীতি প্রতিহত করণ
- স'ায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আইন বহাল রাখা
- ফাযিল-কামিলের সার্টিপিকেট প্রদানের জন্য ঢাকায় এফিলিয়েটেড ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা
- শিক্ষাক্রমে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলককরণ
- প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়/কলেজ বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান নিশ্চিতকরণ
- কওমী মাদ্রাসা বন্ধের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করণ
- উচ্চশিক্ষায় গবফরঁস ওহংঃৎঁপঃরড়হ হিসেবে ইংরেজিকে বাধ্যতামূলককরণ
- আধিবাসী শিশুদেরকে প্রাথমিক স-র পর্যন- তাদের নিজস্ব ভাষা পড়ার সুযোগ সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় পাঠ্যপুস-ক ও শিক্ষকের ব্যবস'াকরণ
- উচ্চশিক্ষায় গভেষণাখাতে বাজেট বৃদ্ধি
- বাধ্যতামূলক প্রথমিক শিক্ষা আইন বাস-বায়ন
- মধ্যমিক স-র পর্যন- একই ধারার শিক্ষা চালুকরণ
উপর্যুক্ত ইস্যু সমূহ এবং প্রয়োজনানুযায়ী সমসাময়িক জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর আলোকে এর ব্যাপ্তি বিবেচনায় রেখে দাবি আদায়ে জনমত গঠনের লক্ষ্যে ইসলামী ছাত্রশিবির নিম্নোক্ত পন'ায় কর্মসূচী গ্রহণ করতে পারে ।
মানববন্ধন/মানববর্ম গণমাধ্যমে বিবৃতি প্রদান
র্যালি সেমিনার/সিম্পোজিয়াম/গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন
স্মারকরিপি প্রদান পত্রিকায় কলাম লেখা
শোভাযাত্রা পোস্টারিং
লিফলেট বিতরণ দেয়াল লিখন
ইস্যুভিত্তিক আন-:শিক্ষা সাময়ীকি প্রকাশ ও বিতরণ
স্বাক্ষর সংগ্রহ
- নিরক্ষরতার অবিশাপ থেকে জাতিকে মুক্ত করার জন্য সমাজ সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় অস'ায়ী/ক্ষণস'ায়ী/ভ্রাম্যমান/নৈশ উপানুষ্ঠানিক বিদ্যালয় পরিচালনা করা হবে।
- ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যাগ ও ব্যাবস'াপনায় নিরক্ষরতা দূরীকরণ সপ্তাহ/পক্ষ/মাস ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজন ও পরিসি'তি বিবেচনায় এটি প্রতি বছর একবার ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নির্দিষ্ট বয়ঃক্রমে প্রত্যেক শিশুকে বিদ্যালয়ে পাঠানোর জন্য অভিবাবকদের সচেতনতা সৃষ্টিতে বাড়ি বাড়ি ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে।
উত্তর : ছাত্রশিবর বিশ্বাস করে ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জবিনবিধান, যেখানে সকল ধর্ম নির্বিশেষে সবার জন্য সুনির্দিষ্ট বক্তব্য রয়েছে। ছাত্রশিবির এটিও বিশ্বাস করে যে অন্যান্য ধর্মের মূল বক্তব্য থেকেও শিক্ষাগ্রহণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এটা সুস্পষ্ট যে ছাত্রশিবির সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে বৃহত্তর কল্যাণে তার কর্মকান্ডে পরিচালনা করছে। এ সংগঠনের ভিশন হচ্ছে যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সৎ, দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক তৈরি করা এবং এ ভিশন বাস-বায়নের জন্যে শিক্ষা ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ যে কোন বিষয়ে শিবিরের গৃহীত কর্মসূচীতে দল -মত, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণ কমনা করে।
উত্তর :
শুধুমাত্র ছাত্রশিবির নয় বরং সারা বিশ্বের সব ইসলামী আন্দোলনই অপপ্রচারের শিকার হচ্ছে। রাসূল (সাঃ) থেকে শুরু করে সব যুগেই আন্দোলনকে অপপ্রচার মোকাবিলা করতে হয়েছে। রাসূল (সাঃ) কে যাদুকর, গণক প্রভৃতি গালি দেয়া হয়েছিল। ছাত্রশিবির সম্পর্কে বলা হয় এটি রগকাটা দল। অথচ আজ পর্যন- কেই এর সত্যতা প্রমাণ করতে পারেনি। পঞ্চম সংসদে একজন সংসদ সদস্য মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এ বক্তব্য চ্যালেঞ্জ করেন। কেউ তখন জবাব দেয়নি। ১৯৯২ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পত্রিকায় ছাত্রশিবিরকে রগকাটা বলে রিপোর্ট করে। তখন তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি আ.জ.ম ওবায়দুল্লাহ প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সামনে এ বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করেন। প্রতিউত্তরে সাংবাদিকরা কোন জবাব দিতে পারেনি। বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোতে যতগুলো রগকাটার ঘটনা সংঘটিত হয়েছে তা ছাত্রলীগ বা অন্যান্য ছাত্রসংঘঠন সংঘটিত করেছে। এ বিষয়টা পত্রিকার বিভিন্ন সংঘর্ষের রিপোর্টে জানা যাবে।
স্বাধনিতা বিরোধী হিসেবে ছাত্রশিবিরকে অভিযুক্ত করার চেষ্টা করা হয়। এটা চরম মূঢ়তা ও অজ্ঞতা ছাড়া আর কিছুই নয়। ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠা লাভ করে ১৯৭৭ সালে। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি ছাত্রসংঠন কিভাবে ৭১ সালের যুদ্ধে বিরোধীতা করবে?
বর্তমানে যে সব নেতাকর্মী ছাত্রশিবিরের সাথে যুক্ত তাদের সবার বয়স ৩০ এর নিচে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যাদের জন্মই হয়নি, তাদের স্বাধীনতা বিরোধী বলা মূর্খতা ছাড়া কিছুই নয়।
অনেক সময় পত্রিকায় ছাত্রশিবিরকে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হয়। কিন' আজ পর্যন- ছাত্রশিবিরের কোন নেতাকর্মী কোন ফেীজদারী মামলায় অভিযুক্ত হয়নি, যে সব ষড়যন্ত্রমূলক মামলা হয়েছিল তার সব কটিতে শিবির নেতাকর্মীরা খালাস পেয়েছে। সুতরাং এটা সুস্পষ্ট যে সবগুলো অপপ্রচারই মানুষকে ইসলাম থেকে দুরে রাখার জন্য তৈরি করা হয়।
উত্তর : বাংলাদেশ একটি মুসলিম প্রধান দেশ। ইসলামী সমাজ ব্যবস'া বির্নিমাণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন ইসলামী রাজনৈতিক দল ও সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলো বিভিন্নভাবে তাদের এ প্রয়াস অব্যাহত রেখেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে ইসলামী ছাত্রশিবির উল্লেখযোগ্য। এ উভয় সংগঠনের আদর্শগত মিল রয়েছে। তাছাড়া উভয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহের মধ্যে বেশ কিছু সাদৃশ্য আছে। দুই সংগঠনই নিজ নিজ পন'ায় সে লক্ষ ও উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীর কার্যক্ষেত্র পুরোপুরি ভিন্ন। জামায়াতে ইসলামীর কার্যক্রম সমাজের সকল অংশকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়। কিন' ইসলামী ছাত্রশিবির শুধুমাত্র ছাত্রদের নিয়ে কাজ করেছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটু লক্ষ্য করুন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমাজের বৃহত্তর অংশকে কেন্দ্র করে কাজ করলেও ছাত্রলীগের কর্মকান্ড ছাত্রদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এ দুই সংগঠনের মধ্যে আদর্শগত মিল আছে। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের (১)এর (খ) তে ছাত্রলীগকে একটি সহযোগী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ২৫ নং ধারায় ১ এর (ক) অনুযায়ী আওয়ামী লীগ নির্বাহী কমিটি সহযোগী সংগঠনসমূহের নীতি সম্পর্কে সিদ্ধান- নিয়ে থাকে। এই সহযোগী সংগঠনগুলো সুনির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত সেক্রেটারীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নিবার্হি কমিটির নিকট দায়বদ্ধ থাকে। কিন' ইসলামী ছাত্রশিবির জামায়াতে ইসলামীর কোন অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন কিংবা ছাত্রশিবির তার কোন প্রকার কর্মকান্ডের জন্য জামায়াতের কাছে দায়বদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিবির তার স্বকীয়তা বজায় রেখে কর্মকান্ড পরচালনার জন্য যাবতীয় নীতি ও সিদ্ধান- সমূহ স্বাধীনভাবে করে এর ভিশন বাস-বায়নে এগিয়ে যাচ্ছে।