স্বাধীনতা দিবস ২০১৭


রবিবার, ০৭ মে ২০১৭ - রবিবার, ০৭ মে ২০১৭

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত বলেছেন, আত্মমর্যাদা সম্পন্ন জাতি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে ও অধিকার নিয়ে বেচে থাকতে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে জাতির বীর সন্তানেরা স্বাধীনতা এনেছিল। কিন্তু সেই স্বাধীনতাকে আজ বিকিয়ে দেয়ার আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু আমরা দৃঢ়তার সাথে ঘোষনা করতে চাই, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী যেকোন ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় আমরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। কোন আধিপত্যবাদী শক্তির গোলামি করার জন্য দেশ স্বাধীন হয়নি।

তিনি আজ রাজধানীর এক মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। দপ্তর সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল মোবারক হোসাইন। এ সময় কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক শাহ মুহাম্মদ মাহফুজুল হক, দাওয়াতী কার্যক্রম সম্পাদক শাহীন আহাম্মদ খান, এইচআরডি সম্পাদক সিয়াম হাসান, প্লানিং এন্ড ডেবলপমেন্ট সম্পাদক রিয়াজ রহমান, শিক্ষা সম্পাদক রাজিফুল হাসান সহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শিবির সভাপতি বলেন, রক্ত সাগর পাড়ি দিয়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনে সাহসিকতার বিরল ইতিহাস স্থাপন করেছিল এদেশের মুক্তিকামী জনতা। কিন্তু সেই গৌরবের ইতিহাসকে বাকশাল, গণতন্ত্র হত্যা, গুম, খুন, দুর্নীতি দিয়ে কলঙ্কিত করা হয়েছে। স্বাধীন দেশে নাগরীকদের উপর স্বাধীনতার কথিত ফেরীওয়ালারাই গণহত্যা, নিপীড়ণ চালিয়েছে। দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি, নতজানু পররাষ্ট্র নীতি আর বিভেদের রাজনীতির করাল গ্রাস স্বাধীনতার চেতনাকে ক্ষত বিক্ষত করেছ বার বার। নিজেদের ক্ষমতার মসনদ টিকিয়ে রাখতে কেড়ে নেয়া হয়েছে জনগণের গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার। এখন দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে চূড়ান্ত ভাবে জলাঞ্জলি দিতে পার্শবর্তী দেশের সাথে বিতর্কিত দেশবিরোধী সামরিক চুক্তি করতে যাচ্ছে সরকার। এই অষ্পষ্ট স্বার্থবিরোধী চুক্তি স্বাধীনতার জন্য বড় আঘাত বলেই মনে করছে দেশপ্রেমিক জনগণ। অথচ আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত, আমাদের ন্যায্য অধিকার তিস্তা চুক্তি করতে রহস্যজনক তোষনমূলক নীতির পথে হাটছে সরকার। নিজেদের স্বাধীনতার একক দাবীদার প্রচার করে স্বাধীনতার বিরুদ্ধেই এসব কর্মকান্ড নিকৃষ্ট প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়। দেশবাসী এসব কর্মকান্ড মেনে নেয়নি এবং ভবিষ্যতেও নিবে না।

তিনি বলেন, নিজস্ব জাতি সত্তা বিকিয়ে দিয়ে আধিপত্যবাদের তোষনে ব্যস্ত থাকলে কোন জাতিই মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারে না। যার প্রমাণ হয়েছে গত ৪৬ বছরে। সুতরাং স্বাধীনতার মান রক্ষার জন্য এখন দেশ গড়ার যুদ্ধে নামতে হবে। দেশের মানব, প্রাকৃতিক ও মেধা সম্পদকে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে হবে। বিভেদের রাজনীতিকে পুঁজি করে ফায়দা হাসিল বন্ধ করতে হবে। দেশপ্রেম কথায় সীমাবদ্ধ না রেখে কাজে পরিণত করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি এ জাতি অবশ্যই উন্নতির শিখরে অবস্থান করবে। আর উন্নতির পথে প্রধান নিয়ামক হবে ঐক্যের শক্তি।

তিনি সরকারের প্রতি আহবান রেখে বলেন, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতি নূন্যতম শ্রদ্ধাবোধ থাকলে পার্শবর্তি দেশের সাথে বিতর্কিত সকল চুক্তি বাতিল করে ন্যায্য দাবী আদায়ে সচেষ্ট হোন। গুম, খুন, রাজনৈতিক নিপীড়ণ, দূর্নীতি বন্ধ করে গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোন প্রকার চক্রান্ত করা হলে দেশের লক্ষ কোটি ছাত্রজনতা জীবন দিয়ে হলেও তা প্রতিরোধ করবে।


স্বাধীনতা দিবস ২০১৭

স্বাধীনতা দিবস ২০১৭

স্বাধীনতা দিবস ২০১৭

স্বাধীনতা দিবস ২০১৭

স্বাধীনতা দিবস ২০১৭

স্বাধীনতা দিবস ২০১৭


সংশ্লিষ্ট


ছবি

ছবি অ্যালবাম: ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস ২০১৭