ইসলামী সমাজ কায়েমের মাধ্যমেই শহীদ মীর কাসেম আলীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা হবে-শিবির সভাপতি

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত বলেছেন, মীর কাসেম আলী একটি জীবন, একটি ইতিহাস। বাতিল শক্তি তাকে হত্যা করতে পেরেছে কিন্তু তার আদর্শ ছিনিয়ে নিতে পারেনি। বাংলার জমিনে লাখো তরুণ তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলেছে। ইসলামী সমাজ কায়েমের মাধ্যমেই শহীদ মীর কাসেম আলীর স্বপ্নের বাস্তবায়ন করা হবে।

ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা না হলে আদর্শ মানুষ তৈরী সম্ভব হবে না-শিবির সভাপতি

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত বলেছেন, জাতির দূর্ভাগ্য এদেশের শিক্ষিতরাই জনগণকে বঞ্চিত করছে। জাতির মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিচ্ছে। রাষ্ট্র পরিচালনাকারী গুটি কয়েক লোকের লাগামহীন দুর্নীতির মাশুল দিচ্ছে ১৬ কোটি মানুষ। এ অবস্থায় দুর্নীতির মহামারী থেকে দেশকে বাঁচাতে ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের কোন বিকল্প নেই। ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা না হলে আদর্শ মানুষ তৈরী হবে না।

দেশের মানুষের স্বপ্ন পূরণে ছাত্রশিবির দৃঢ় প্রতিজ্ঞ

রাজধানীতে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন শাখার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে যারা দেশ পরিচালনার করেছিল তাদের নানামুখী ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে দেশকে পরিণত করেছিল তলাবিহীন ঝুড়িতে। মেধা, নৈতিকতা হারিয়ে ছাত্ররা গা ভাসিয়ে দেয় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং মাদকের সয়লাবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছিল না শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ। ফলে চতুর্দিকেই অশান্তি পরিলক্ষিত হয়। ঠিক সে সময়ের অনিবার্য বাস্তবতায় ১৯৭৭ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারী যাত্রা শুরু করেছিল ছাত্রশিবির। লক্ষ্য ছিল দেশগঠনের জন্য সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের বিকাশ এবং ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের মাধ্যমে জাতির মর্যাদাকে সমুন্নত রাখা। এ যাত্রার প্রতিটি পরতে পরতে ছাত্রশিবিরকে সিমাহীন ত্যাগের নজরানা পেশ করতে হয়েছে। প্রতিনিয়ত রাষ্ট্রীয় ও বাতিল শক্তি কর্তৃক খুন, গুম, নির্যাতন, গ্রেপ্তার, জেলসহ সিমাহীন জুলুম সহ্য করতে হচ্ছে। নেতাকর্মীরা ঈমানী দৃঢ়তা, সাহস ও ধৈর্য দিয়ে সকল প্রতিকূলতা মোবাবেলা করে আসছে। কিন্তু ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে সমৃদ্ধ জাতি গঠনের লক্ষ্য থেকে একচুল পরিমাণ পিছু হটেনি। সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে কুরআনকে বুকে ধারণ ও বাতিলের মোকাবেলা করে ছাত্রশিবির আজ জাতির আশার আকাঙ্খার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে। শত প্রতিকূলতার পরেও এই কাফেলা আজ লাখো ছাত্রদের পদভারে মুখোরিত। ছাত্রশিবিরের অগ্রযাত্রায় শুধু ছাত্রসমাজ নয় বরং দেশের সকল শ্রেণী পেশার মানুষের অকৃত্তিম ভালবাসা ও সহযোগিতা অপরিসীম ভূমিকা পালন করছে। তাই দেশের মানুষের স্বপ্ন পূরণে ছাত্রশিবির দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

গঠনমূলক কাজের মাধ্যমে ছাত্রশিবির জাতির প্রত্যাশার প্রতীকে পরিণত হয়েছে

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত বলেছেন, সমৃদ্ধ জাতি গঠনে সৎ দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব তৈরীর লক্ষ্য নিয়ে ছাত্রশিবির যাত্রা শুরু করেছিল। এ পথচলা আজ বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এ অগ্রযাত্রাকে দমিয়ে দিতে নানা মহল থেকে সর্বোচ্চ ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। কিন্তু তাদের কোন চক্রান্তই সফল হয়নি। গঠনমূলক কাজের মাধ্যমে ছাত্রশিবির জাতির প্রত্যাশার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

৬ই ফেব্রুয়ারি’১৮ শহীদি কাফেলা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

আসুন, দেশ ও ইসলামের কল্যাণে উক্ত দাবিসমূহের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করি।

ইসলামী শিক্ষা ছাড়া আদর্শ নাগরিক গড়ে তোলা সম্ভব নয়

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী জেনারেল মোবারক হোসাইন বলেন, আদর্শিক শিক্ষা না থাকার কারনে সমাজে নৈতিক অবক্ষয় সংঘঠিত হচ্ছে। দূর্নীতি মুক্ত রাষ্ট্র গঠন ও দেশকে এগিয়ে নিতে ইসলামী শিক্ষার বিকল্প নেই। আজকের প্রেক্ষাপটে ইসলামী শিক্ষা ছাড়া আদর্শ নাগরিক গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

রক্তে অর্জিত ভাষা আজ আগ্রাসনের শিকার

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা, দোয়া অনুষ্ঠান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নপূরণে কাজ করে যাচ্ছে ছাত্রশিবির

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী জেনারেল ইয়াছিন আরাফাত বলেন, বিজয়ের ৪৫ বছর পরও স্বাধীনতার মূল উদ্দেশ্য জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পায়নি। যা জাতির জন্য দারুন হতাশার কারণ। কিন্তু ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে লাখো তরুন মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সকল প্রতিকূলতা অতিক্রম করে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নপূরণে কাজ করে যাচ্ছে ছাত্রশিবির।

ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বিজয়কে অর্থবহ করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে

স্বাধীনতার মূল উদ্দেশ্য জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা আজো স্বপ্নই রয়ে গেছে। আজ প্রমাণ হয়েছে নৈতিকতা সমন্বয়ে যোগ্যতা সম্পন্ন দেশ প্রেমিক নেতৃত্ব ছাড়া জাতির কাঙ্ক্ষিত কল্যাণ সম্ভব নয়। তাই মহান বিজয়কে অর্থবহ করতে ছাত্রশিবিরের প্রতিটি কর্মীকে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

স্বাধীন বাংলাদেশে ২৮শে অক্টোবর নির্মমতার এক প্রতিচ্ছবি

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল ইয়াছিন আরাফাত বলেন, শান্তিকামী মানুষ আজও ২০০৬ সালের ২৮শে অক্টোবরে আওয়ামী বর্বরতার কথা মনে করে শিউরে উঠে। সেদিন ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থের কাছে মানবতা হয়েছিলো ভূলন্ঠিত। স্বাধীন বাংলাদেশ ২৮শে অক্টোবর যেন নির্মমতার এক প্রতিচ্ছবি।