পথশিশু ও নৃগোষ্ঠির মাঝে বাংলা ভাষা শিক্ষার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে

তিনি আজ রাজধানীতে ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী উত্তর শাখার উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে পথশিশুদের মাঝে বর্ণমালার বই বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। মহানগরী সভাপতি জামিল মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় দাওয়াহ সম্পাদক শাহ মাহফুজুল হক। এসময় মহানগরী সেক্রেটারি আজিজুল ইসলাম সজিব সহ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ভাষা দিবসের প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে জুলুমবাজদের রুখে দিতে হবে-শিবির সেক্রেটারি জেনারেল

তিনি আজ রাজধানীতে ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী পূর্ব শাখার উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। মহানগরী সভাপতি এস এম মিঠুর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি তোফাজ্জল হোসেনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক রাশেদুল ইসলামসহ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হামলা ভাংচুরের প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবী জানিয়ে বিবৃতি

এক যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত ও সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইন বলেন, ছাত্রলীগের প্রতি সরকার, পুলিশ ও প্রশাসনের অনৈতিক মদদের কারণেই চবি’তে আবারো তান্ডবলীলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা। গতকাল রাতে তারা নিজেদের মধ্যে গুলাগুলি করেছে। এসময় পুলিশ ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত হলে অভিযান চালিয়ে কাটারাইফেলসহ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। আজ আবারো তারা সংঘবদ্ধ হয়ে ক্যাম্পাসে তান্ডব চালায়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টর, সময় টেলিভিশনের গাড়ীসহ ১৩টি গাড়ী ভাংচুর করে। শাটল ট্রেনের দুটি বগি ক্ষতিগ্রস্ত করে। ৩ জন প্রক্টরের সামনেই তারা কলা অনুষদের ডিনের রুম ভাংচুর করে। হামলার পর ক্ষোভ জানিয়ে কলা অনুষদের ডীন সাংবাদিকদের বলেছেন, গত ২৩ বছরের ইতিহাসে তিনি ক্যাম্পাসে এমন তান্ডবলীলা দেখেননি। অথচ এখন পর্যন্ত সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য ক্যাম্পাসে অবস্থান করলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছেনা পুলিশ। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে চবি’তে নিজেদের মধ্যে শতাধিক সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। এতে বার বার ছাত্রলীগ নিজেদের, প্রতিপক্ষ ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ ছাত্রদেরকেও রক্তাক্ত হতে হয়েছে। বহুবার ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। আজও অবরোধের নামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র করছে। এর আগেও ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজের ছাত্রাবাস পুড়িয়ে দিয়ে প্রকাশ্য উল্লাস করেছিল ছাত্রলীগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ে ছাত্র খুন এবং সম্মানিত শিক্ষকদের মারধর ও লাঞ্চিত করেছে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা। ক্যাম্পাস গুলোকে অবৈধ অস্ত্রের মিনি ক্যান্টনমেন্টে পরিণত করেছে। অথচ আজ পর্যন্ত কোনটিরই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি। ছাত্রলীগের প্রতি এই অব্যাহত অনৈতিক মদদই তাদের বার বার তান্ডবলীলায় উৎসাহ যোগাচ্ছে।

দ্বীন প্রতিষ্ঠায় নিজেদেরকে যোগ্য করে গড়ে তোলতে হবে

শিবির সভাপতি বলেন, আল্লার বিধান জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবার জন্য কল্যাণকর। কিন্তু জমিনে দ্বীন কায়েম ছাড়া সত্যিকারের ইহকালের শান্তি ও পরকালের মুক্তি আসে না তা চিরন্তন সত্য। যার উত্তম নজির প্রিয় বাংলাদেশ। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের যত উপদান দরকার তা সবই আছে এদেশে। কিন্তু স্বাধীনতার পর বহু বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত সমৃদ্ধি অর্জিত হয়নি। কারণ রাষ্ট্র বরাবরই পরিচালিত হয়েছে মানবরচিত বিধানে। আর এই মানব মতবাদে রাষ্ট্র সমাজ পরিচালনার কুফলের শিকার হচ্ছে এদেশের জনগণ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, অর্থনৈতিক বৈষম্য, সামাজিক অবক্ষয়, অপসংস্কৃতির প্রভাব ও নৈতিকতাহীনতায় দেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জনগণের আগামী দিনের প্রত্যাশার জায়গাটি হতাশা ও শঙ্কা দখল করে নিয়েছে। এ ভয়াবহ অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে শুধু মাত্র রাষ্ট্রে দ্বীন কায়েমের মাধ্যমে। আর দ্বীন কায়েমে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে ছাত্রশিবিরকেই।

নৈতিকতার সর্বোচ্চ মানদন্ডে নিজেদেরকে উপনীত করতে হবে

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত বলেছেন, নৈতিক অবক্ষয় রাষ্ট্র ও সমাজে মহামারি আকার ধারণ করেছে। নৈতিক অধঃপতনের কারণে জাতিকে একের পর এক বিভৎস চিত্র দেখতে হচ্ছে। এই অশুভ প্রলয় থেকে সমাজের মানুষদেরকে পরিবর্তন করতে হলে ছাত্রশিবিরের সদস্যদেরকে নৈতিকতার সর্বোচ্চ মানদন্ডে নিজেদেরকে উপনীত করতে হবে।

সকল পর্যায়ের প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে সারাদেশে মানববন্ধন

বিভিন্ন শাখার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত সরকার। চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পণ্যের মতো আগাম বিজ্ঞাপন দিয়ে ওপেন বেচাকেনা হচ্ছে। এসএসসি পরীক্ষা শুরুর দিন থেকে প্রতিদিনই ফাঁস হওয়া প্রশ্নেই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। প্রমাণ পাওয়া গেলেও সরকার প্রশ্নফাঁস বন্ধে কার্যকরী কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। বরং ব্যর্থতা আড়াল করতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসকারী শিক্ষামন্ত্রী নির্লজ্জভাবে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। ইতিপূর্বে ১ম শ্রেণী থেকে শুরু করে প্রতিটি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস হয়েছে। প্রশ্নফাঁসের সাথে প্রথম থেকেই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাসহ সরকারি কর্মকর্তা ও দলীয় লোকজন জড়িত তা প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি। ফলে এখন তা মহামারিতে রূপ নিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী গা বাঁচাতে প্রশ্নফাঁসকারীদের ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। যা চাতুরতা ছাড়া কিছুই নয়। প্রশ্নফাঁস বন্ধে রহস্যজনক ব্যর্থতায় জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে যে, সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকার পরও প্রশ্নফাঁসের সাথে জড়িত ছাত্রলীগ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হয়নি কেন? প্রশ্নফাঁস চক্রের সাথে মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ লোকজন জড়িত কি না? প্রশ্নপত্র বিক্রির টাকা মন্ত্রীর বা সরকারের রাঘব বোয়ালদের পকেটে যায় কি না? জাতির কাছে আজ পরিস্কার যে আগামী প্রজন্মকে জ্ঞানহীন করে শিক্ষাকে অর্থহীন করার মাধ্যমে দেশকে ধ্বংস করার ভয়াবহ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার।

প্রশ্নফাঁস শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত বলেছেন, জাতি ধ্বংসের আত্মঘাতি খেলায় মেতে উঠেছে সরকার। নিখুত ভাবে আগামী প্রজন্মকে ধ্বংসের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে চলেছে তারা। দেশকে পরনির্ভর করতে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসে করে দিচ্ছে। প্রশ্নফাঁস শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।

রাজধানীসহ সারাদেশে শিবির নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

এক যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত ও সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইন বলেন, দেশের গনতন্ত্র রক্ষা ও অবিচারের বিরুদ্ধে মুক্তিকামী জনতাকে দমন করতে সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে সারাদেশে গণগ্রেফতার ও নির্যাতন চালাচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাস্তবায়ন করতে অবৈধ সরকার চূড়ান্ত অগণতান্ত্রিক আচরণ করছে। যা গত কয়েকদিন যাবত চলছে। আজ রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে ছাত্রশিবিরের ১১ জন নেতাকর্মীসহ গত তিন দিনে সারাদেশে ২৮০জন নেতাকর্মীকে অন্যায় ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজধানীতে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৮জনকে থানায় রাখলেও বাকীরা কোথায় আছে তা এখনো জানা যায়নি। পরিকল্পিত ভাবে সারাদেশে জামায়াত-শিবির ও বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের উপর ধরপাকড় চালাচ্ছে সরকার। সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ ছাড়া গণগ্রেপ্তার করে অবৈধ সরকার তার বিকৃত বাকশালী রুপ প্রকাশ করছে। তারা একদিকে প্রশ্নফাঁস করে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে অন্যদিকে নির্বিচারে মেধাবী ছাত্রদের গ্রেপ্তার করে শিক্ষা জীবন নষ্ট করে দিচ্ছে। শুধু রাজনৈতিক নেতাকর্মীই নয় সাধারণ মানুষও এই গণগ্রেপ্তার ও হয়রানি থেকে রেহাই পাচ্ছেনা। সরকার যে জনগণের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে তা তাদের আচরণে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজীব আহসানকে গ্রেপ্তারে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

এক যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত ও সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইন বলেন, ছাত্রজনতার আন্দোলনে ভীত হয়ে সরকার জুলুম-নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় ছাত্রদলের সভাপতিকে আটক করেছে। পতন নিশ্চিত জেনে অবৈধ আওয়ামী সরকার উন্মাদের মতো আচরণ করছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আদালতকে ব্যবহার করে জেলে নেয়া হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে। আর ছাত্রজনতার গণআন্দোলন বানচাল করতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসানকে। ইতিপূর্বে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টুকেও। এটা কোন ভাবেই গণতান্ত্রিক আচরণ নয় বরং কাপুরুষচিত কাজ। তাকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে অবৈধ সরকার নিজেদের দেওলিয়াত্বের প্রকাশ করেছে। পুলিশও তাদের দাসত্বমূলক মনোভাবের বহি:প্রকাশ ঘটিয়েছে। ছাত্রনেতাদের প্রতি এমন অন্যায় আচরণ ও দমন-পীড়ণ করে সরকার দেশের রাজনীতিতে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এই দায়িত্বহীন ঘটনায় ছাত্রসমাজ বিক্ষুদ্ধ। তার প্রতি কোন অন্যায় আচরণ ছাত্রসমাজ মেনে নেবেনা।

গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠোকার পায়তারা করছে সরকার

এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত ও সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইন বলেন, অবৈধ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বেগম খালেদা জিয়া। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও প্রহসনমূলক মামলার রায় সরকারের নির্ধারিত ছকে দেয়া হয়েছে। যা মূলত সরকারের মন্ত্রী এমপিদের আগাম বক্তব্যর প্রতিফলন। মামলা বিচারাধীন থাকলেও খালেদা জিয়াকে জেলে যেতে হবে বলে আগাম ঘোষণা দিয়েছিলেন সরকারের মন্ত্রী এমপিরা। এতে প্রমাণিত হয় এ রায় পূর্ব নির্ধারিত। এ রায় ন্যায় বিচারের ইতিহাসকে আবারো কলঙ্কিত করেছে। জনগণ আশা করেছিল আদালত অন্তত একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ব্যপারে ন্যায় বিচার করবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখানেও জাতিকে অবিচারের নমুনা দেখতে হলো।