প্রেরণার এক সুউচ্চ মিনার

আমি ভাই হয়ে জাতির কাছে ও বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাবি রাখতে চাই- আর যেনো কাউকে আমার মতো ভাই হারাতে না হয়। আর কোনো পিতা-মাতাকে সন্তান হারাতে না হয়। বৃদ্ধ পিতার ছোট ছেলের কফিন কাঁধে নিতে না হয়। জাতির বিবেকবান যুবসমাজের কাছে প্রশ্ন একটাই- কেন হাফেজ রমজান আলীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো? শহীদ হাফেজ রমজান আলীকে হত্যা করার মাধ্যমে ইসলামের আলোকে নিভিয়ে দিতে চেয়েছিল কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তাঁর নূরকে প্রজ্বলিত করবেন যতই কাফেররা অপছন্দ করুক না কেন।

একজন সবুজ পাখি

অনেক স্বপ্নের রঙ জেগে থাকে যে চোখে তার আলো নিভে গেলে মনটা ছেয়ে যায় বিষন্নতার জ্বরে যে বেদনার ঝড় তাণ্ডব তোলে বুকের ভেতর মনে হয় কষ্টের আগুন পোড়ায় হৃদয়ের সমস্তটুকু। দুঃখের দহন জেগে থাকে অহরাত্রি

মোছেনি আজও রক্তের দাগ

জোহরের নামাজ শেষ করে সকলে সামান্য কিছু খাওয়া দাওয়া শেষ করে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বাসা থেকে বের হয়ে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে আমরা ধরমপুর মতিহার থানার আমজাদের মোড়ে এসে জড় হই। বেলা ৩টায় গোটা মোড় জনশক্তিতে ভরে যায়। চারিদিকে শুধু নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবার, একদফা একদাবি: শেখ হাসিনা কবে যাবি, এই মুহূর্তে দরকার কেয়ারটেকার সরকার ইত্যাদি শ্লোগানে মুখরিত। চারদিক থেকে মিছিল আসছে। শুনলাম, ছাত্রশিবির ডাঁশমারী অঞ্চল থেকে একটা বিশাল মিছিলের বহর আসছে। অপেক্ষা করতে থাকলাম, মিছিলকে অভিনন্দন জানানোর জন্য।

শহীদ আমিনুর রহমানঃ সেতো জান্নাতের সবুজ পাখি

শাহাদাত এর উপর যখনই লিখতে গিয়েছি তখনই কলম অক্ষমতা প্রকাশ করেছে, আবেগ আমার জ্ঞান বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে অবশ করেছে। ইসলামী আন্দোলনের দায়িত্বের কারণে বারবার আমাকে শাহাদাতের মিছিলে যেতে হয়েছে। হায়নাদের গুলির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত,শহিদের লাশের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলেছি বারবার। শহিদের পরিবারের মাতা- পিতা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, সহপাঠিদের বিলাপ ও রোনাজারিতে সান্তনা দিতে গিয়ে বেসামাল হয়েছি, বহুবার তাদের অশ্র“ মুছতে গিয়ে নিজেই অশ্র“সিক্ত হয়ে পড়েছি।

প্রেরণার একটি নাম: শহীদ আমিনুর রহমান

সকল প্রকার জুলুম নির্যাতনের মুলোচ্ছেদ করে ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে একটি আদর্শ ইসলামী সমাজ বিনির্মানের স্বপ্ন নিয়ে রাসুল (স:) এর আদর্শকে বুকে ধারণ করে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির । একটি আত্বনির্ভরশীল সুখী সমৃদ্ধ ও আদর্শীক জাতি উপহার দেওয়াই একমাত্র লক্ষ ।

যে স্মৃতি আজো কাঁদায়

বাংলাদেশের দক্ষিণের জনপদ সাতক্ষীরা। তৌহিদী জনতার আবেগ-অনুভূতির সাথে গভীরভাবে মিশে আছে এ জেলা। এখানকার অধিকাংশ মানুষ ইসলামকে ভালোবাসে বলেই আশা-আকাক্সক্ষা আর স্বপ্নের যেন শেষ নেই। তার প্রমাণ মেলে ২০১৪ সালে দায়িত্বশীল সমাবেশে সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বার ভাই তার বক্তব্যে বলেছিলেন, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা আর ইসলামী আন্দোলনের রাজধানী সাতক্ষীরা।

হাজারো হৃদয়ের গহীনে লুকায়িত নাম শহীদ শরীফুজ্জামান নোমানী

“শহীদেরা কখনও মরে না।” আমরা জানি সকল মানুষই মরণশীল। শহীদেরা অন্যের চাইতে আরও নির্মমভাবে হাত-পা কর্তিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তারাও মৃত্যুর পর আর ফিরে আসে না। তারা মরে না, তাদেরকে মৃতদের মধ্যে শামিল করবে না। এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল কারীমে একাধিকবার বলেছেন- وَلا تَ قُولُوا لِمَنْ ي قُْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتٌ بَلْ أَحْيَاءٌ وَلَكِنْ لا تَشْعُرُونَ “আল্লাহর পথে যারা নিহত হয় তাদেরকে মৃত বলো না, বরং তারাই জীবিত কিন্তু তোমরা তা উপলব্ধি করতে পার না।” (সূরা বাকারা:১৫৪)

রক্তে রঞ্জিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার চত্বর

১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠা লাভ করে। আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসূল সা. প্রদর্শিত বিধানকে সমাজের বুকে প্রতিষ্ঠার ব্রত নিয়ে কাজ শুরু করে। তরুণ ছাত্রসমাজের কাছে তারা ইসলামের সুমহান আদর্শের কথা পৌঁছে দেবার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে অহর্নিশ কর্তব্যরত রাখে নিজেদেরকে। তাদের প্রতিটি কাজ তরুণ ছাত্রদের হৃদয়ে ভালোবাসার স্থান করে নেয়। দিন দিন প্রিয় কাফেলায় ভিড়তে থাকে সচেতন ছাত্রসমাজ। প্রতিটি হৃদয়ে জেগে ওঠে সাহসের তুফান। উত্তাল তরঙ্গ ভেঙে ভেঙে নির্মাণ করতে থাকে ঠিকানা। আর সেই ঠিকানায় এখন লক্ষ লক্ষ নাবিক। নাবিক বন্দরে পৌছানোর তীব্র আকাক্সক্ষায় দুচোখের স্বপ্ন সমান এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাই এই অগ্রযাত্রাকে নিস্তব্ধ করে দেয়ার জন্য শুরু থেকেই নানা বাধা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে থাকে। সকল বাধার পাহাড় ডিঙিয়ে ছাত্রশিবির এগিয়ে যেতে থাকলে বিরোধীরা নবীন সংগঠনটিকে কুঁড়িতেই নিঃশেষ করার জন্য বৃহৎ হত্যাকান্ড সংঘটিত করার পরিকল্পনা করে ১৯৮২ সালের ১১ মার্চ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ক্ষণজন্মা একটি প্রতিভা !

মুহাম্মদ কামারুজ্জামান একটি নাম, একটি আন্দোলন ও একটি বিষ্ময়কর প্রতিভা। যুগ নয়, শতাব্দীর ক্ষণজন্মা ইসলামী আন্দোলনের এক অগ্রসেনানী মুহাম্মদ কামারুজ্জামান। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসাবে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সেরা মেধাবী ছাত্র তিনি। যিনি একাধারে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের সমন্বয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন। মেধাবীদের সাহসী ঠিকানা শহীদী কাফেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের মত একটি ছাত্র আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম হিসেবে ঐতিহাসিক অবদান রেখেছেন। নেতৃত্ব দিয়েছেন সে আন্দোলনের সিপাহসালারের। তাঁর ক্ষুরধার লেখনির মাধ্যমে এদেশের মানুষ সমাজ, সভ্যতা ও পাশ্চাত্যের নানা অসঙ্গতির ইতিহাস জানতে সক্ষম হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুণগত পরিবর্তন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার লড়াইয়ে তিনি অন্যতম। দেশে-বিদেশে সভা-সেমিনারে তাঁর ব্যতিক্রমধর্মী উপস্থাপনা সেক্যুলার ও বামপন্থীদের ইসলামী আন্দোলনের ব্যাপারে জিঘাংসা বাড়িয়ে দিয়েছে। সেখান থেকেই শুরু হয় হত্যার পরিকল্পনা। রাজনীতিতে জনাব কামারুজ্জামান সাহচর্য লাভ করেছেন মরহুম অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেবের। বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারদর্শীতা অর্জনে খুব অল্প সময়ে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে তাঁর। মূলত যারা আদর্শের লড়াইয়ে পরাজিত তারাই ইসলামী আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে চায়। হত্যা, গুম, অপহরণ এবং বিচারের নামে রাষ্ট্রীয়ভাবে হত্যার ভিন্ন অপকৌশল চালিয়ে যাচ্ছে। জনাব মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মেধা, যোগ্যতা, নেতৃত্বের গুণাবলী ও নিজ নির্বাচনী এলাকায় জনপ্রিয়তায় আতঙ্কিত হয়েই প্রতিপক্ষরা তৈরি করছে তাঁকে হত্যার গভীর নীল নকশা ।

মালেক চাচাকে দেখিনি কিন্তু যেভাবে চিনেছি

তখনও আমরা অনেক ছোট। যতটুকু মনে পড়ে মাদ্রাসায় যাওয়া শিখেছি। মানুষ ছোটবেলায় যাদের আদর আর স্নেহে বড় হয় তাদের মধ্যে অন্যতম চাচা, ফুফু, মামা ও খালা। কিন্তু একমাত্র ফুফু ছাড়া আমি এরকম আর কাউকে পাইনি। তবে সেই ছোটবেলা থেকেই শুনেছি শহীদ আবদুল মালেক নামে আমাদের একজন চাচা ছিলেন। যিনি ছিলেন খুবই মেধাবী ছাত্র। গ্রামের শিক্ষিতজনেরা পড়ালেখার বিষয় এলেই বলতেন তোমাদেরকে ভালো করে পড়ালেখা করতে হবে, শহীদ মালেকের মতো ছাত্র হতে হবে। গ্রামের কেউ বলত শহীদ আবদুল মালেক, আবার কেউবা বলত শহীদ মালেক। আমরা শহীদ শব্দটা চাচার নামের অংশই মনে করতাম। তখনও জানতাম না এই শহীদ শব্দটা তার শাহাদতের পর যোগ হয়েছে। এটাও জানতাম না যে, আল্লাহর কাছে শাহাদাত বা শহীদের মর্যাদা কতটা বেশি।