জান্নাতের দোলনায় শহীদ এনামুল হক

শহীদ আব্দুল মালেকের শাহাদাতের খবর শুনে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদ মাওলানা সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী রহ: বলিষ্ঠকণ্ঠে বলেছিলেন, ‘আবদুল মালেক এই দেশের প্রথম শহীদ হতে পারে কিন্তু শেষ নয়।’ মাওলানার চিরন্তন সত্য ঘোষণাকে স্বাগত জানাতে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশের যুবকেরা। দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া লোহাগাড়ায়ও আওয়ামী বাকশালীদের হাতে বিগত পাঁচ বছরে নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করেছেন শহীদ হাকিম আলী, শহীদ কামাল উদ্দীন, শহীদ ছালেহ আহমদ, শহীদ আকতার কামাল সাগর, শহীদ মিছবাহ উদ্দীন, শহীদ আবু তাহের, শহীদ ওসমান গণি, শহীদ শহীদুল ইসলাম, শহীদ হারুনর রশিদ, শহীদ মঈনুদ্দীন মুন্না, শহীদ মাহফুজুর রহমান। তাদের পথ ধরেই শাহাদাতে সিক্ত দ্বীনের উর্বর ভূমি লোহাগাড়াতেই শহীদি মিছিলে এগিয়ে এসেছেন অনন্ত জীবনের শান্তির প্রত্যাশায় শহীদ এনামুল হক লালু। শহীদি মিছিলে উজ্জ্বল তারকা শহীদ এনামুল হক শুধুমাত্র একজন ভালো ছাত্রই ছিলেন না বরং তিনি দ্বীনের একজন বলিষ্ঠ মুজাহিদ ছিলেন।

এক আলোকিত জীবনের প্রতিচ্ছবি

মানুষকে মানুষ হয়ে উঠতে ঢের সময় লেগে যায়। প্রকৃত আদর্শবান মানুষের পরিচয় এই ঘূর্ণায়মান মানব সভ্যতার ইতিহাসে বেশ বিরল। এই প্র্রকৃত আদর্শবান মানুষেরা তাদের জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেন, হয়ে যান মানব সভ্যতার ইতিহাসের অমোচনীয় অংশ। শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা প্রকৃতপক্ষে মানব সত্ত্বাবান অসংখ্য মানবিক গুণাবলির সমন্বয়ে গঠিত এই রকম একজন রক্ত-মাংসের মানুষ ছিলেন। শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা, একটি নাম, একটি বিস্ময়কর প্রতিভা, একটি ইতিহাস, একজন কিংবদন্তী।

ইসলামী রাজনীতির এক কালজয়ী কবি

আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ একজন কবি। অমর কবি। কালজয়ী কবি। লিখে গিয়েছেন তিনি সাবলীল ভঙ্গীতে রাজনীতির কবিতা, বিপ্লবের কবিতা। একটি আন্দোলন, একটি সংগঠন, একটি ইতিহাস, একটি আপসহীন সংগ্রামের কবিতা। এই ভূখণ্ডে বিভিন্ন আন্দোলন, সংগ্রাম, জাতির উত্থান-পতন, প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচার বিরোধী সংগ্রামে জনাব মুজাহিদ একটি অকুতোভয় নাম। তিনি আধিপত্যবাদ বিরোধী চেতনার বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। বাংলার জমিনে নাস্তিকতাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের রক্তচক্ষু মোকাবিলা করে তৃণমুল থেকে গড়ে উঠে আসা একজন সংগ্রামী প্রাণপুরুষ। হাসিনা সরকার শুধুমাত্র আদর্শিক কারণেই ইসলামী আন্দোলনের এই জনপ্রিয় নেতাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেবার পাঁয়তারা করছে। কিন্তু শহীদদের দুনিয়া থেকে সরানো যায় না। তাঁরা জীবিত। তাদের মরণ নাই। মানুষকে যুগ যুগ ধরে প্রেরণা দেবার জন্যই জন্ম।

আমি শহীদের গর্বিত মা

আমার তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সবার বড় মো: রফিকুল ইসলাম। আমার বড় বোনের কোনো সন্তান না থাকায় আমাদের পরিবারে তাকে নিয়ে সবাই ব্যস্ত থাকত। এমনকি রফিকুলের বয়স যখন ২ বছরের একটু বেশি, তখনও সে মায়ের দুধ ছাড়েনি, সে বয়সেই তার নানা ও তার খালা তাকে নিয়ে যান এবং আদর যত্নে নিজেদের কাছে রেখে দেন। এরপর আমার কোলজুড়ে আসে দ্বিতীয় ছেলে ওহাব। এভাবেই সময়ের ব্যবধানে খালার কোলেই বড় হতে থাকে রফিকুল। স্বামী ও সন্তানহীনা তার খালা তাকে নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতে থাকেন। আর রফিকুল তার নানা-নানী এবং খালার আদরে থাকতেই পছন্দ করত। কিন্তু এ আদর বেশি দিন তার কপালে টেকেনি। মাত্র ৫ বছর বয়সে তার নানী ও ৭ বছর বয়সে নানা ইন্তেকাল করেন। এরপর খালার বাসাতে থেকেই তার স্কুলজীবন শুরু হয়। তারপর সে মাঝে মাঝে আমাদের কাছে এসে থাকত আর চলে যেত। রফিকুল যখন দশম শ্রেণীর ছাত্র তখন থেকেই আমরা জানতে পারি সে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথে জড়িত হয়েছে।

মাসুম আমার চক্ষুশীতলকারী সন্তান ছিলো

ইসলামের দুশমনরা মাসুম, শিপন, মুজাহিদদের হত্যা করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কাজকে বন্ধ করে রাখতে পারেনি। ওরা নেই, আরো মুজাহিদ এগিয়ে আসছে ওদের শূন্যস্থান দখল করার জন্য। আল্লাহর পথে বাধা দিতে গিয়ে তারাই ধ্বংসের অতল গহ্বরে তলিয়ে যাবে ফেরাউন ও নমরুদের মতো।

এক আটাশের রক্ত শুকায়নি বহু ২৮ রক্তে লাল

বাংলাদেশের ইতিহাসের জঘন্যতম একটি দিন। বর্বরতম ঘটনার নির্মম দলিল। সেদিন এমন ন্যক্কারজনক নৃশংস হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছিল, বাংলাদেশের ইতিহাস যতদিন আলোচিত হবে ততদিন ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরও আলোচনা হবে। রাজনৈতিক, আর্থ-সামাজিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠার নৃশংসতার ঘটনাকে চাপা দিয়ে কিংবা অস্বীকার করে ইতিহাস রচনা করার সুযোগ কারো পক্ষে নেই। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের স্বাধীনতা, শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতার পটপরিবর্তন অনেকটাই হয়েছিল এই তান্ডবলীলার মাধ্যমে।

বদর দেখিনি, দেখেছি আটাশ অক্টোবর, দেখেছি আল্লাহর সাহায্য

আটাশে অক্টোবর ছিলো এক অসম নির্মম আক্রমন৷ জামাত- শিবিরের নিরীহ গুটিকয়েক নেতাকর্মীদের উপর সারাদেশ থেকে একত্রিত করা হাজার- হাজার অস্ত্রধারী আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নারকীয় তান্ডব৷ সূত্রমতে ইন্ডিয়া থেকেও সন্ত্রাসী আমদানী করা হয়েছিলো,কারণ ঘটনাটি ছিলো পূর্বপরিকল্পিত৷ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী তাঁর কারাগারের স্মৃতি বইয়ে তুলে ধরেন আটাশে অক্টোবর ছিলো প্রি-প্ল্যান্ড৷ তিনি লিখেন " বেশ কিছুদিন আগে কানাডার আইনজিবী মিঃ স্লোন গোটা বাংলাদেশ ঘুরে কানাডা যাবার পথে নিউইয়র্ক সাংবাদিকদের বলেছিলেন 'মাইনাস টু ফর্মুলা' নাকি অনেক আগের এবং পূর্বপরিকল্পিত৷ আটাশে অক্টোবরের ঘটনাও নাকি চিল ঐ পরিকল্পনার অংশ৷ মওদূদ সাহেবকে এটা 2005 সালে একজন এমপি এবং একজন সম্পাদক বলেছিলেন৷"

রক্তভেজা ২৮ শে অক্টোবর

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মানবতাবিরোধী অপরাধের তালিকা করলে তার শীর্ষেই থাকবে আওয়ামী সন্ত্রাসের ঘৃণ্য দলিল রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবরের নির্মমতার ইতিহাস। তৎকালিন সময়ে সদ্যবিদায়ী চারদলীয় জোট সরকারের বিদায়লগ্নে আওয়ামী লীগ ও তার নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের অস্ত্রধারী ক্যাডারদের প্রকাশ্য দিবালকে নৃশংসতা জাতির জীবনে এ রক্তভেজা ইতিহাসের জন্ম দিয়ে গেলো। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সন্ত্রাসী বাহিনী সেদিন জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের উপর যে পৈশাচিক হামলা চালিয়েছে ইতিহাসে তা নজিরবিহীন।

২৮শে অক্টোবর আমাদের যা কিছু শেখায়

২০০৬ সালের আটাশে অক্টোবর চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদের শেষদিন হওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর জন্য সমাপনী সমাবেশ আয়োজনটা ছিল অত্যন্ত জরুরী। আর সে লক্ষ্যেই সমাবেশ আয়োজন করা হয় জাতীয় মসজিদের উত্তর গেইটে, যে জায়গাটি আমাদের জন্য আবেগের, আমাদের প্রিয় ঠিকানা।

২৮ অক্টোবর : সত্য-মিথ্যার ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব

২৮ অক্টোবর ২০০৬, ইতিহাসের নিয়মিত এবং পরিচিত অধ্যায়। বিস্মিত কিংবা উদ্বিগ্ন অথবা হতাশায় নিমজ্জিত হওয়ার মতো কোনো ঘটনাও নয় বরং নিজেদের যাচাই-বাছাই করার মতো গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল এই দিনটি। এ রকম একটি দিন যা আমাদের জন্য প্রথমও নয় কিংবা শেষও নয়, এসেছিলো, এসেছে, আসবে যা বলা যায় নিঃসন্দেহ এক ঐতিহাসিক বাস্তবতা। আমাদের শুধু বিবেচনায় নিতে হবে যে এ দিনটিকে আমরা কিভাবে গ্রহণ করেছি।